ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজবাড়ীতে সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে সার বিক্রিতে লাগামহীন নৈরাজ্য,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের মাগুরার শালিখায় চাউল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির ভিডিও ধারণ ও সংবাদ পরিবেশন করায় দুই সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি মামলা! রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেসসচিব হলেন মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারণের প্রস্তাব গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই সড়কে ধস: দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত মাগুরা গোপালগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম (মিলন) গ্রেপ্তার দৈনিক খবর বাংলাদেশ’র মুরাদনগর প্রতিনিধির ঈদ শুভেচ্ছা দৈনিক খবর বাংলাদেশের ঝিনাইদহ প্রতিনিধির ঈদ শুভেচ্ছা দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক’র ঈদ শুভেচ্ছা মনপুরার কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান আর নেই

রাজবাড়ীতে সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে সার বিক্রিতে লাগামহীন নৈরাজ্য,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের

রাজবাড়ীতে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলে দেখিয়ে ডিএপি সারের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং স্থানীয় বিসিআইসি সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

এসকল সার ব্যবসায়ীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করেই দিনের পর দিন সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছে। ফলে এদের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও কোন প্রকার আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
এছাড়াও বছরের পর বছর ধরে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতিটা কৃষকের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা। একেতে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক আরেক দিকে ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের ভাব মুহূর্ত।
রাজবাড়ী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এ জেলায় ডিএপি (DAP) সারের বরাদ্দ অনুযায়ী ডিএপি সারের সংকট নেই বললেই চলে। কিন্তু রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজারের মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্স,মেসার্স সিরাজ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ ও গোয়ালন্দ বাজারের মেসার্স হোসেন আলী বেপারীর সারের দোকানে দেখা যাচ্ছে এসব চিত্র।
সরোজন ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, সরকার কর্তৃক ডিএপি সারের নির্ধারিত রেট ১০৫০ টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি (DAP) সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তা ডিএপি খুচরা বাজার বিক্রি করছেন। ১৪০০ টাকা থেকে শুরু করে কখনো কখনো ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রকার সারের সরকারি মূল্য থেকেও দাম বেশি নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত রেটের চেয়ে কৃত্রিম শট দেখিয়ে ভরা মৌসুম ডিএপি সার বেশি দামে বিক্রি করে আসছেন তারা। এছাড়াও মেসার্স সিরাজ এন্টারপ্রাইজের মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ার সুযোগে বেশিরভাগ সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা তার নিত্যদিনের কৌশল হয়ে উঠেছে।
এদিকে একাধিক কৃষকদের ভাষ্যমতে বারবার মুখ খুলতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ কারণেই মেসার্স সিরাজ ট্রেডার্স সর্বদাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক বলেন,খানখানাপুর বাজারের সার ব্যবসায়ীদের কাছে সার কিনতে গেলে এক প্রকার জিম্মি হয়ে বেশি দরে সার কিনতে হয়। এদিকে সরকার যেখানে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি দিচ্ছে, আর খানখানাপুর বাজারের অসাধু সার ডিলাররা দিনের পর দিন কৃষকদের পকেট কেটে নিচ্ছে প্রকাশ্যে।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে যে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষকদের সর্বস্বান্ত করছে না, বরং সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাজারে এই নৈরাজ্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্স এর কর্তৃপক্ষর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সরকারি দামেই সার বিক্রি করছি। অন্যথায় দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। আপনি এসেছেন বসেন আমার দোকানে আমি আমার ভাই রাকিবকে ডেকে আনছি তিনি কথা বলবেন তারপর আপনি এখান থেকে যাবেন।

তবে এ বিষয়ে কথা হয় রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম তিনি বলেন, ডিএপি সারের কোনো সংকট নেই। যারা সারের বাজারে কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে অধিক মুনাফা চেষ্টা করছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ীতে সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে সার বিক্রিতে লাগামহীন নৈরাজ্য,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের

রাজবাড়ীতে সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে সার বিক্রিতে লাগামহীন নৈরাজ্য,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের

আপডেট টাইম : ১২:১৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীতে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলে দেখিয়ে ডিএপি সারের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং স্থানীয় বিসিআইসি সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

এসকল সার ব্যবসায়ীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করেই দিনের পর দিন সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছে। ফলে এদের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও কোন প্রকার আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
এছাড়াও বছরের পর বছর ধরে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতিটা কৃষকের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা। একেতে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক আরেক দিকে ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের ভাব মুহূর্ত।
রাজবাড়ী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এ জেলায় ডিএপি (DAP) সারের বরাদ্দ অনুযায়ী ডিএপি সারের সংকট নেই বললেই চলে। কিন্তু রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজারের মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্স,মেসার্স সিরাজ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ ও গোয়ালন্দ বাজারের মেসার্স হোসেন আলী বেপারীর সারের দোকানে দেখা যাচ্ছে এসব চিত্র।
সরোজন ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, সরকার কর্তৃক ডিএপি সারের নির্ধারিত রেট ১০৫০ টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি (DAP) সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তা ডিএপি খুচরা বাজার বিক্রি করছেন। ১৪০০ টাকা থেকে শুরু করে কখনো কখনো ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রকার সারের সরকারি মূল্য থেকেও দাম বেশি নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত রেটের চেয়ে কৃত্রিম শট দেখিয়ে ভরা মৌসুম ডিএপি সার বেশি দামে বিক্রি করে আসছেন তারা। এছাড়াও মেসার্স সিরাজ এন্টারপ্রাইজের মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ার সুযোগে বেশিরভাগ সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা তার নিত্যদিনের কৌশল হয়ে উঠেছে।
এদিকে একাধিক কৃষকদের ভাষ্যমতে বারবার মুখ খুলতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ কারণেই মেসার্স সিরাজ ট্রেডার্স সর্বদাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক বলেন,খানখানাপুর বাজারের সার ব্যবসায়ীদের কাছে সার কিনতে গেলে এক প্রকার জিম্মি হয়ে বেশি দরে সার কিনতে হয়। এদিকে সরকার যেখানে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি দিচ্ছে, আর খানখানাপুর বাজারের অসাধু সার ডিলাররা দিনের পর দিন কৃষকদের পকেট কেটে নিচ্ছে প্রকাশ্যে।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে যে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষকদের সর্বস্বান্ত করছে না, বরং সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাজারে এই নৈরাজ্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্স এর কর্তৃপক্ষর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সরকারি দামেই সার বিক্রি করছি। অন্যথায় দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। আপনি এসেছেন বসেন আমার দোকানে আমি আমার ভাই রাকিবকে ডেকে আনছি তিনি কথা বলবেন তারপর আপনি এখান থেকে যাবেন।

তবে এ বিষয়ে কথা হয় রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম তিনি বলেন, ডিএপি সারের কোনো সংকট নেই। যারা সারের বাজারে কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে অধিক মুনাফা চেষ্টা করছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।