ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

কালিহাতীতে সেফটি ট্যাংক থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার-মায়ের হৃদয়বিদারক আহাজারি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সেফটি ট্যাংকের অন্ধকার গহ্বরে নিথর দেহে পাওয়া গেলো কলেজপড়ুয়া এক তরুণের লাশ। ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা আব্দুল আলীম আজ নিথর, নিশ্চুপ। তার মা আকলিমা বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়ার আকাশ-বাতাস।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়ার জামাল বাদশার বাড়ির পেছনের টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে আব্দুল আলীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় পেঁচানো ছিলো প্লাস্টিকের রশি, পেটে ছিল ছুরির গভীর ক্ষত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—শ্বাসরোধ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আব্দুল আলীম (১৯) ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামের সন্তান। সৌদি প্রবাসী জহুরুল ইসলাম নজরুলের ছেলে সে। পড়াশোনার স্বপ্নে বিভোর এই তরুণ কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
১২ এপ্রিল, শনিবার সকালে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি তার। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাটাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের হৃদয়বিদারক অপেক্ষার অবসান ঘটে একটি মৃত্যুসংবাদে।
আব্দুলের ফুফাতো বোন মোচ্ছামত খালেদা আক্তার চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, আলীম  সকালে বের হয়েছিল প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য। কে জানতো, ওর ফিরে আসা আর হবে না!
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ  টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—কে এমন নিষ্ঠুর? কার আক্রোশে প্রাণ গেলো এক সম্ভাবনাময় তরুণের? উত্তর জানে না কেউ, কিন্তু কালো মেঘে ঢেকে গেছে একটি মা-বাবার জীবন।

প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

কালিহাতীতে সেফটি ট্যাংক থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার-মায়ের হৃদয়বিদারক আহাজারি

আপডেট টাইম : ০৬:০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সেফটি ট্যাংকের অন্ধকার গহ্বরে নিথর দেহে পাওয়া গেলো কলেজপড়ুয়া এক তরুণের লাশ। ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা আব্দুল আলীম আজ নিথর, নিশ্চুপ। তার মা আকলিমা বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়ার আকাশ-বাতাস।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়ার জামাল বাদশার বাড়ির পেছনের টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে আব্দুল আলীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় পেঁচানো ছিলো প্লাস্টিকের রশি, পেটে ছিল ছুরির গভীর ক্ষত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—শ্বাসরোধ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আব্দুল আলীম (১৯) ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামের সন্তান। সৌদি প্রবাসী জহুরুল ইসলাম নজরুলের ছেলে সে। পড়াশোনার স্বপ্নে বিভোর এই তরুণ কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
১২ এপ্রিল, শনিবার সকালে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি তার। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাটাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের হৃদয়বিদারক অপেক্ষার অবসান ঘটে একটি মৃত্যুসংবাদে।
আব্দুলের ফুফাতো বোন মোচ্ছামত খালেদা আক্তার চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, আলীম  সকালে বের হয়েছিল প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য। কে জানতো, ওর ফিরে আসা আর হবে না!
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ  টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—কে এমন নিষ্ঠুর? কার আক্রোশে প্রাণ গেলো এক সম্ভাবনাময় তরুণের? উত্তর জানে না কেউ, কিন্তু কালো মেঘে ঢেকে গেছে একটি মা-বাবার জীবন।

প্রিন্ট