ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক মরহুম আঃ মান্নান মিয়া এর ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী পেপারলেস হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরগুনার তালতলীতে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২ বরগুনায় প্রথম, বাল্যবিবাহকে ‘না’ বললো আমতলী গাজীপুরে শ্রীপুরে বিন্দুবাড়ী গাউসুল আজম মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠন শিক্ষার আলো ছড়ানো ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত গুরুদাসপুরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে জীবিকা উপকরণ ও অনুদানের চেক বিতরণ রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে রেল স্টেশনে ভাঙচুর, যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় ‘প্রমোট ফাউন্ডেশন’র নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে বায়তুল আমান হাউজিংয়ে নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন, অনুমোদনের বাইরে বাড়তি নির্মাণের অভিযোগ

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়ার দাফন সম্পন্ন

মোঃ ওমর ফারুক, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
সুদানে জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী লন্ড্রী কর্মচারী সবুজ মিয়ার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বহনকারী হেলিকপ্টারে করে সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধার তুলশীঘাট হেলিপ্যাডে পৌঁছায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছী (ছোট ভগবানপুর) গ্রামে নেওয়া হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত সবুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগম দম্পতির ছেলে। এক নজর দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা। বাড়ির আঙিনায় ছেলের মরদেহ দেখে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন মা ছকিনা বেগম। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে ছোট ভগবানপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে বাদ যোহর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের পক্ষে সেনা কর্মকর্তারা এবং পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এদিকে, নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক শেষ বর্ষের ছাত্রী নুপুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাসের মাথায় স্বামীকে হারালাম। আমাদের সব স্বপ্ন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।” তার কান্নায় উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৫ মিনিটে সুদানে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম মরদেহগুলো গ্রহণ করেন।

এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন ও সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের ‘আবেই’ অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় সবুজ মিয়াসহ ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক মরহুম আঃ মান্নান মিয়া এর ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়ার দাফন সম্পন্ন

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ ওমর ফারুক, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
সুদানে জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী লন্ড্রী কর্মচারী সবুজ মিয়ার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বহনকারী হেলিকপ্টারে করে সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধার তুলশীঘাট হেলিপ্যাডে পৌঁছায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছী (ছোট ভগবানপুর) গ্রামে নেওয়া হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত সবুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগম দম্পতির ছেলে। এক নজর দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা। বাড়ির আঙিনায় ছেলের মরদেহ দেখে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন মা ছকিনা বেগম। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে ছোট ভগবানপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে বাদ যোহর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের পক্ষে সেনা কর্মকর্তারা এবং পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এদিকে, নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক শেষ বর্ষের ছাত্রী নুপুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাসের মাথায় স্বামীকে হারালাম। আমাদের সব স্বপ্ন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।” তার কান্নায় উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৫ মিনিটে সুদানে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম মরদেহগুলো গ্রহণ করেন।

এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন ও সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের ‘আবেই’ অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় সবুজ মিয়াসহ ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন।


প্রিন্ট