ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফাঁ/সির আদেশ বহাল রাখায় খুশি আছিয়ার মা ও এলাকাবাসী ঝালকাঠির রাজাপুরে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত ঠিকাদার জয়পুরহাটে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি সারে ১২ কোটি টাকার কাজে ঢালাই শেষ হওয়ার আগেই ধ্বস! গাজীপুরে রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও মাছের পোনা অবমুক্ত মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ লং মার্চ সফল করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত ঝালকাঠিতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিদেশ যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার ধান রোপণের সময় মাঠেই লুটিয়ে পড়ে দিনমজুরের মৃত্যু

সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি

মুফতি ইদ্রিসুর রহমান, বরগুনা |
বরগুনার আমতলী পৌরসভার বহুল আলোচিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হয়েছেন বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১২৬৪

জিডিতে যা উল্লেখ আছে:

রবিবার বার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পৌর কার্যালয়ের সামনের লেকে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাই চলাকালে রডের চালিসহ একটি অংশ দেবে যায়। এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক মনিরুল।

অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণ শুরু করতেই সেখানে থাকা বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পেশাগত কাজে বাধা দেন। লোগোযুক্ত ক্যামেরা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

জিডিতে বিবাদী করা হয়েছে আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান (৫০) ও ঠিকাদারের সহযোগী মো. পানু মোল্লা (৪০) কে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রোববার সকালে ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়লে সেই অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে পড়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, “আমার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু পুরো কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান।”

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, “মূল পিলারে কোনো সমস্যা হয়নি, সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।”

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনে বাধা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বরগুনার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

ফাঁ/সির আদেশ বহাল রাখায় খুশি আছিয়ার মা ও এলাকাবাসী

সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি

আপডেট টাইম : ০২:০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মুফতি ইদ্রিসুর রহমান, বরগুনা |
বরগুনার আমতলী পৌরসভার বহুল আলোচিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হয়েছেন বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১২৬৪

জিডিতে যা উল্লেখ আছে:

রবিবার বার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পৌর কার্যালয়ের সামনের লেকে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাই চলাকালে রডের চালিসহ একটি অংশ দেবে যায়। এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক মনিরুল।

অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণ শুরু করতেই সেখানে থাকা বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পেশাগত কাজে বাধা দেন। লোগোযুক্ত ক্যামেরা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

জিডিতে বিবাদী করা হয়েছে আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান (৫০) ও ঠিকাদারের সহযোগী মো. পানু মোল্লা (৪০) কে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রোববার সকালে ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়লে সেই অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে পড়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, “আমার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু পুরো কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান।”

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, “মূল পিলারে কোনো সমস্যা হয়নি, সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।”

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনে বাধা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বরগুনার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।


প্রিন্ট