ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন: আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান সিংগাইরে মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান এমপি শান্তর অধিভুক্ত কলেজগুলোকে সবুজায়নের অন্তর্ভুক্ত করা হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সোনারগাঁয়ে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের ওপর হামলা, আহত ৭ দুই আমলেই সুবিধাভোগী হাকিম খান: একের পর এক অপকর্মে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম রব্বানীর হুমকির সম্মুখিন ভুক্তভোগীরা প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতারণা সিরাজদীখানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমান বাউবিতে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে নিশ-১ প্রোগ্রামের সমন্বয় সেলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত কালাইয়ে ৫০৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

দুই আমলেই সুবিধাভোগী হাকিম খান: একের পর এক অপকর্মে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি

পাবনা প্রতিনিধি |
দলে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ ও নীতি-আদর্শহীন রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম খানের বিরুদ্ধে। ২০-২৫ বছর ধরে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে অপকর্ম, জবরদখল, এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে আখের গোছানোর গুরুতর নানা অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় ও ত্যাগী বিএনপি নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যেসব ছাত্রনেতা রাজপথে রক্ত ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ কোণঠাসা করে ২০০১ সালে তৎকালীন এক এমপির সহযোগিতায় হঠাৎ বিএনপিতে আগমন ঘটে আব্দুল হাকিম খানের। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাগিয়ে নেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ। অভিযোগ রয়েছে, পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলের মূলধারার নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করতে শুরু করেন। তার মতের বিরুদ্ধে যাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেককেই কারাবরণ বা নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগ তোষণ ও স্ত্রীর ১৪ বছরের একচ্ছত্র সুবিধা
অভিযোগে জানা যায়, ১/১১-এর পর এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোল পাল্টে ফেলেন হাকিম খান। ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির পদে থাকলেও তিনি সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মকবুল হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এমপি ও তার পুত্র রাসেলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল করেন। এমনকি নিজের স্ত্রীকে দিয়ে এমপি মকবুল হোসেনকে ‘ধর্মবাপ’ বানিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটানা ১৪ বছর চাকরি করান। তার স্ত্রী সেখানে আরএমও থেকে পরবর্তীতে টিএইচএও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দখলদারিত্ব, ক্ষমতা অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাকিম খান বনওয়ারীনগর সিবি স্কুলের সরকারি জায়গা দখল, পাঁচতলা ভবন নির্মাণ ও সরকারি খাস জমি গ্রাস করেছেন। এছাড়া স্থানীয় খাল-বিল দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় তার হাত ছিল। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের আপন শ্যালককে স্থানীয় একটি গার্লস স্কুলে চাকরি ও শ্যালকের স্ত্রীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও থানাকে ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছামতো মামলা দেওয়া ও আসামি ছাড়ানোর সিন্ডিকেট চালাতেন তিনি। গত ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তার দখলদারি থামেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল ও দোকান দখলের অভিযোগ
সম্প্রতি বনওয়ারীনগর বাজারের তেঁতুলতলা এলাকায় জনৈক মোহাম্মদ নয়ন হোসেন নামের এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নয়ন হোসেনের অর্থায়নে ৮ লাখ টাকা খরচে দুটি দোকান নির্মাণ করিয়ে একটি দোকান নিজ ভাইয়ের নামে লিখে নেন হাকিম খান। পরবর্তীতে নয়নের সামনের দোকানটি খুলতে না দিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তা বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এনামুল কবির দুলাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাকিম খান বিএনপির গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একজন ডাক্তারের ওপর নির্যাতন চালানো থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করেছেন। জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত করায় আমরা তার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে আব্দুল হাকিম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, গত দেড় দশক ধরে ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজপথে মামলা-হামলার শিকার হলেও আব্দুল হাকিম খান দুই সরকারের আমলেই ছিলেন সুবিধাভোগী। তার এসব বিতর্কিত অপকর্ম ও নৈতিক স্খলনের বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন: আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান

দুই আমলেই সুবিধাভোগী হাকিম খান: একের পর এক অপকর্মে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি |
দলে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ ও নীতি-আদর্শহীন রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম খানের বিরুদ্ধে। ২০-২৫ বছর ধরে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে অপকর্ম, জবরদখল, এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে আখের গোছানোর গুরুতর নানা অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় ও ত্যাগী বিএনপি নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যেসব ছাত্রনেতা রাজপথে রক্ত ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ কোণঠাসা করে ২০০১ সালে তৎকালীন এক এমপির সহযোগিতায় হঠাৎ বিএনপিতে আগমন ঘটে আব্দুল হাকিম খানের। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাগিয়ে নেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ। অভিযোগ রয়েছে, পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলের মূলধারার নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করতে শুরু করেন। তার মতের বিরুদ্ধে যাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেককেই কারাবরণ বা নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগ তোষণ ও স্ত্রীর ১৪ বছরের একচ্ছত্র সুবিধা
অভিযোগে জানা যায়, ১/১১-এর পর এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোল পাল্টে ফেলেন হাকিম খান। ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির পদে থাকলেও তিনি সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মকবুল হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এমপি ও তার পুত্র রাসেলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল করেন। এমনকি নিজের স্ত্রীকে দিয়ে এমপি মকবুল হোসেনকে ‘ধর্মবাপ’ বানিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটানা ১৪ বছর চাকরি করান। তার স্ত্রী সেখানে আরএমও থেকে পরবর্তীতে টিএইচএও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দখলদারিত্ব, ক্ষমতা অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাকিম খান বনওয়ারীনগর সিবি স্কুলের সরকারি জায়গা দখল, পাঁচতলা ভবন নির্মাণ ও সরকারি খাস জমি গ্রাস করেছেন। এছাড়া স্থানীয় খাল-বিল দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় তার হাত ছিল। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের আপন শ্যালককে স্থানীয় একটি গার্লস স্কুলে চাকরি ও শ্যালকের স্ত্রীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও থানাকে ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছামতো মামলা দেওয়া ও আসামি ছাড়ানোর সিন্ডিকেট চালাতেন তিনি। গত ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তার দখলদারি থামেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল ও দোকান দখলের অভিযোগ
সম্প্রতি বনওয়ারীনগর বাজারের তেঁতুলতলা এলাকায় জনৈক মোহাম্মদ নয়ন হোসেন নামের এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নয়ন হোসেনের অর্থায়নে ৮ লাখ টাকা খরচে দুটি দোকান নির্মাণ করিয়ে একটি দোকান নিজ ভাইয়ের নামে লিখে নেন হাকিম খান। পরবর্তীতে নয়নের সামনের দোকানটি খুলতে না দিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তা বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এনামুল কবির দুলাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাকিম খান বিএনপির গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একজন ডাক্তারের ওপর নির্যাতন চালানো থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করেছেন। জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত করায় আমরা তার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে আব্দুল হাকিম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, গত দেড় দশক ধরে ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজপথে মামলা-হামলার শিকার হলেও আব্দুল হাকিম খান দুই সরকারের আমলেই ছিলেন সুবিধাভোগী। তার এসব বিতর্কিত অপকর্ম ও নৈতিক স্খলনের বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।


প্রিন্ট