ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মুরাদনগরে জামায়াতের গণমিছিল জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ফতুল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বরগুনার বামনায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পলাতক এআই দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, পঞ্চগড়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ গাজীপুরে অ্যাপোলো পেট ক্লিনিকের উদ্বোধন মাগুরায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত ‎নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের অভিযোগে পল্লবীতে ১৭ জন আটক, মাইক্রোবাস-ব্যানার জব্দ নতুন কুঁড়ির চ্যাম্পিয়ন স্মৃতি কিসকুর মায়ের চাকরির ঘোষণা, আর্থিক সহায়তাও দিলেন- প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিআইডব্লিউটিএর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ!

বরগুনার বামনায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পলাতক

মুফতি ইদ্রিসুর রহমান, বরগুনা |
বরগুনার বামনার খোলপটুয়ায় অযোধ্যা গ্রামে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত সাইফুল ইসলাম অযোধ্যা গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের নাতি। প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে সাইফুলকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার স্ত্রী সুমাইয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সাইফুলের চাচাতো ভাই রিপন জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে সাইফুল ও তার স্ত্রী খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকালে সাইফুলের চাচা স্বপনের ডাকচিৎকার শুনে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তিনি জানান, সকালে সাইফুলের দাদা আইয়ুব আলী হাওলাদার বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় সাইফুলের স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সাইফুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, আইয়ুব আলী হাওলাদারের দুই ছেলে স্বপন ও রিপন পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির একটি ঘরে সাইফুল ও তার স্ত্রী থাকতেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুমাইয়ার সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বামনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন খান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।”


প্রিন্ট
ট্যাগস

মির্জাগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল

বরগুনার বামনায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পলাতক

আপডেট টাইম : ০২:৪০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মুফতি ইদ্রিসুর রহমান, বরগুনা |
বরগুনার বামনার খোলপটুয়ায় অযোধ্যা গ্রামে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত সাইফুল ইসলাম অযোধ্যা গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের নাতি। প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে সাইফুলকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার স্ত্রী সুমাইয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সাইফুলের চাচাতো ভাই রিপন জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে সাইফুল ও তার স্ত্রী খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকালে সাইফুলের চাচা স্বপনের ডাকচিৎকার শুনে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তিনি জানান, সকালে সাইফুলের দাদা আইয়ুব আলী হাওলাদার বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় সাইফুলের স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সাইফুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, আইয়ুব আলী হাওলাদারের দুই ছেলে স্বপন ও রিপন পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির একটি ঘরে সাইফুল ও তার স্ত্রী থাকতেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুমাইয়ার সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বামনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন খান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।”


প্রিন্ট