ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে গিয়ে চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। তথ্য সংগ্রহ ও সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে এবং সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত রাখতে প্রকাশ্যে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই সচিবের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সনদপত্র প্রদান, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং ইউপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচিবের বক্তব্য জানতে চান। তখন তিনি সাংবাদিকদের একটি টাকার প্যাকেট দিতে চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা টাকা প্যাকেটটি নিতে না চাইলেও জোর করে দেয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের মতে, সুনির্দিষ্ট অনিয়ম সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই সচিব আবুল কালাম আজাদ সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি তথ্য বা বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে একটি খামে নগদ টাকা ভরে উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা এবং তাঁর এহেন আচরণকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত এক সাংবাদিক বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি সচিবের বক্তব্য নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের প্রশ্নের তোয়াক্কা না করে পকেট থেকে টাকার খাম বের করে আমাদের দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে আমরা খবরটি প্রকাশ না করি। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।”
জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবায় স্বচ্ছতা বজায় না রেখে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ঘুস দেয়ার ঘটনা অসংগত এবং নিন্দনীয়। অনতিবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিনিধি : 












