ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুরাদনগরে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির প্রভাবের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি শালিখায় পাণ্ডুলিপি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার এর শুভ উদ্বোধন বান্দরবানে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের নানা আয়োজন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ গাজীপুরের শ্রীপুরে মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা বরগুনায় ১৬ সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গাজীপুরের ভাওয়াল রাজদিঘীসহ সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবি

পঞ্চগড়ে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট, সংকটাপন্ন রোগী

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি-
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা ছাড়াই ভূয়া রিপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীকে দেওয়া হয় চিকিৎসা। এতে ওই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

জানা যায়, বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের শমসের নগর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ময়না বেগম (৫০) ডায়াবেটিস ও তলপেট ব্যথা নিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসক ময়নাকে কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেন। তার মধ্যে একটি পরীক্ষার রিপোর্ট ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে দিনাজপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন দিনের মধ্যে করে এনে দেওয়া কথা। তিনদিন পরে সেই রিপোর্টিও দেওয়া হয়। পরে সেই রিপোর্টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফুর কবিরের কাছে গেলে তিনি প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দেন। ঔষধ খাওয়ার পরে ময়না আরও বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. আইরিস রহমানের কাছে যান। সেখানে গেলে তিনিও কয়েকটি পরীক্ষা দেন। এসময় তাকে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টি দেখালে তিনি রিপোর্টটি ভূয়া ধরতে পারেন। এসময় সেখানে আবার পরীক্ষা করলে রিপোর্ট দুইটার মাঝে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় নাই। পরে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান তুহিন পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

ময়না বেগম বলেন, ডায়াবেটিস ও তলপেট ব্যথা নিয়ে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের কাছে যাই। এসময় ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা করে আবার ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি রিপোর্ট দেখে প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দেন। সেই ঔষধগুলো খেয়ে আমি আরও বেশী অসুস্থ হয়ে যাই। বিছানা থেকে উঠতে পারিনা। পরে তাড়াতাড়ি করে আমার স্বামী ঠাকুরগাঁওয়ে অন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে শুনি আমাকে ভূল রিপোর্টি দিয়েছে।

ময়নার স্বামী আলমগীর বলেন, নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমাদের যে রিপোর্টটি দেওয়া হয়। সেখানে খামটা শুধু অরজিনাল দিয়েছে আর যে রিপোর্টটা দিয়েছে সেটা কম্পিউটার থেকে একটা সাদাকালো প্রিন্ট করে দিয়েছিলো। আমি তখন ওই টেকনিশিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে যেটা বাইরে থেকে আসে সেটা এরকম হয়। এই রিপোর্টটা করার জন্য আমার কাছ থেকে বারোশত টাকা নেয়। এখন আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি এটার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত টেকনিশিয়ান তুহিন পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী উজ্জল বলেন, রোগী ময়না ও তার লোকজন আমার কাছে আসছিল, আমি টেকনিশিয়ান ও রোগীকে একত্রে করে কথা বলিয়ে দিয়েছি, তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিবে।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুর কবির বলেন, এটা জালিয়াতি করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা করবো।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

পঞ্চগড়ে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট, সংকটাপন্ন রোগী

আপডেট টাইম : ০২:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি-
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা ছাড়াই ভূয়া রিপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীকে দেওয়া হয় চিকিৎসা। এতে ওই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

জানা যায়, বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের শমসের নগর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ময়না বেগম (৫০) ডায়াবেটিস ও তলপেট ব্যথা নিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসক ময়নাকে কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেন। তার মধ্যে একটি পরীক্ষার রিপোর্ট ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে দিনাজপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন দিনের মধ্যে করে এনে দেওয়া কথা। তিনদিন পরে সেই রিপোর্টিও দেওয়া হয়। পরে সেই রিপোর্টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফুর কবিরের কাছে গেলে তিনি প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দেন। ঔষধ খাওয়ার পরে ময়না আরও বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. আইরিস রহমানের কাছে যান। সেখানে গেলে তিনিও কয়েকটি পরীক্ষা দেন। এসময় তাকে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টি দেখালে তিনি রিপোর্টটি ভূয়া ধরতে পারেন। এসময় সেখানে আবার পরীক্ষা করলে রিপোর্ট দুইটার মাঝে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় নাই। পরে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান তুহিন পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

ময়না বেগম বলেন, ডায়াবেটিস ও তলপেট ব্যথা নিয়ে নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের কাছে যাই। এসময় ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা করে আবার ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি রিপোর্ট দেখে প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দেন। সেই ঔষধগুলো খেয়ে আমি আরও বেশী অসুস্থ হয়ে যাই। বিছানা থেকে উঠতে পারিনা। পরে তাড়াতাড়ি করে আমার স্বামী ঠাকুরগাঁওয়ে অন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে শুনি আমাকে ভূল রিপোর্টি দিয়েছে।

ময়নার স্বামী আলমগীর বলেন, নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমাদের যে রিপোর্টটি দেওয়া হয়। সেখানে খামটা শুধু অরজিনাল দিয়েছে আর যে রিপোর্টটা দিয়েছে সেটা কম্পিউটার থেকে একটা সাদাকালো প্রিন্ট করে দিয়েছিলো। আমি তখন ওই টেকনিশিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে যেটা বাইরে থেকে আসে সেটা এরকম হয়। এই রিপোর্টটা করার জন্য আমার কাছ থেকে বারোশত টাকা নেয়। এখন আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি এটার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত টেকনিশিয়ান তুহিন পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

নিরাময় নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী উজ্জল বলেন, রোগী ময়না ও তার লোকজন আমার কাছে আসছিল, আমি টেকনিশিয়ান ও রোগীকে একত্রে করে কথা বলিয়ে দিয়েছি, তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিবে।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুর কবির বলেন, এটা জালিয়াতি করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা করবো।


প্রিন্ট