ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গাজীপুরের ভাওয়াল রাজদিঘীসহ সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবি শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দাঙ্গা দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার রায়ট কার কিনছে পুলিশ শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার পঞ্চগড়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রেস কাউন্সিলের কর্মশালা গাজীপুরে অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাটের দায়ে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেলেন সুদীপ বসাক গাজীপুরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাবের দ্বন্দ্বে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা: ৪ জন গ্রেপ্তার

বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

মো. সুমন, বান্দরবান |
বান্দরবান বন বিভাগের সুয়ালক চেক স্টেশনে ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পরীক্ষার নামে কাঠবাহী যানবাহন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাঠবাহী গাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
কাঠ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বনজদ্রব্য পরিবহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা চেক স্টেশনটি এখন অনেক পরিবহনকারীর কাছে হয়রানির জায়গায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বান্দরবান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া কাঠবাহী গাড়ি থেকে টিপি পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কাঠবাহী গাড়ির ধরন ও পরিবহন করা কাঠের ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের পৃথক হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো কাঠবাহী ট্রাক থেকে সাত হাজার টাকা, জিপ গাড়ি থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ফার্নিচারবাহী ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা এবং ছোট গাড়ি থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এ ছাড়া অবৈধ কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকপ্রতি ১৫ হাজার এবং জিপপ্রতি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, বৈধ ট্রানজিট পারমিট থাকা কাঠবাহী গাড়ি থেকেও দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে রাখা কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান,দৈনিক এক লাখ টাকার বেশি এবং মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন তারা।
নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর অনিয়ম বৃদ্ধির অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সুয়ালক চেক স্টেশনে নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর অর্থ আদায় ও কাঠ পরিবহনসংক্রান্ত অনিয়ম আরও বেড়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুয়ালক চেক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশির।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অধীন টেকনাফ রেঞ্জে প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে আগের কর্মস্থলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সুয়ালক চেক স্টেশনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তাঁর পরিবর্তে ফরেস্ট গার্ডদের দিয়ে বনজদ্রব্যবাহী গাড়ির কাগজপত্র যাচাই ও গাড়ি ছাড়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে ফরেস্ট গার্ডদের মাধ্যমে পরিবহনসংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে চেক স্টেশনে উপস্থিত হলেও নিয়মিত তদারকির পরিবর্তে অর্থ আদায়ের বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখান।
নিষিদ্ধ প্রজাতির কাঠ পরিবহনেও সহযোগিতার অভিযোগ
সুয়ালক চেক স্টেশন দিয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চম্পাফুল, গোদা, গুটগুটিয়া, গর্জন ও শিউরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের গোল, রদ্দা ও চেরাই কাঠবাহী গাড়ি চেক স্টেশন অতিক্রম করে। এসব কাঠের মধ্যে কোনোটি কর্তন বা পরিবহনে আইনগত বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র ও বন বিভাগের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু গাড়ি নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া বৈধ টিপি থাকা গাড়ি থেকেও দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে রাখা বা কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে হয়রানির আশঙ্কা থাকে।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, চেক স্টেশনে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সুয়ালক চেক স্টেশনে অবৈধ বনজদ্রব্য পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও গাড়ি আটকের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগদানের পর অবৈধ কাঠ পরিবহনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান নজির কম।
তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে কতটি কাঠবাহী গাড়ি পরীক্ষা করা হয়েছে, কতটি গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং কতটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বন বিভাগের সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুয়ালক চেক স্টেশনের কার্যক্রম স্বচ্ছ করতে  রেজিস্টার, ট্রানজিট পারমিট, গাড়ি আটকের তথ্য এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম তদন্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র থাকা কাঠবাহী গাড়ি থেকে অর্থ আদায় ও অবৈধ কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে সুয়ালক চেক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন প্রতিবেদক।পরে সুয়ালক চেক স্টেশনে কর্মরত ফরেস্টগার্ড জাবেদের মোঠো ফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায়। তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১২:২৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মো. সুমন, বান্দরবান |
বান্দরবান বন বিভাগের সুয়ালক চেক স্টেশনে ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পরীক্ষার নামে কাঠবাহী যানবাহন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাঠবাহী গাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
কাঠ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বনজদ্রব্য পরিবহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা চেক স্টেশনটি এখন অনেক পরিবহনকারীর কাছে হয়রানির জায়গায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বান্দরবান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া কাঠবাহী গাড়ি থেকে টিপি পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কাঠবাহী গাড়ির ধরন ও পরিবহন করা কাঠের ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের পৃথক হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো কাঠবাহী ট্রাক থেকে সাত হাজার টাকা, জিপ গাড়ি থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ফার্নিচারবাহী ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা এবং ছোট গাড়ি থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এ ছাড়া অবৈধ কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকপ্রতি ১৫ হাজার এবং জিপপ্রতি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, বৈধ ট্রানজিট পারমিট থাকা কাঠবাহী গাড়ি থেকেও দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে রাখা কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান,দৈনিক এক লাখ টাকার বেশি এবং মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন তারা।
নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর অনিয়ম বৃদ্ধির অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সুয়ালক চেক স্টেশনে নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর অর্থ আদায় ও কাঠ পরিবহনসংক্রান্ত অনিয়ম আরও বেড়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুয়ালক চেক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশির।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অধীন টেকনাফ রেঞ্জে প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে আগের কর্মস্থলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সুয়ালক চেক স্টেশনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তাঁর পরিবর্তে ফরেস্ট গার্ডদের দিয়ে বনজদ্রব্যবাহী গাড়ির কাগজপত্র যাচাই ও গাড়ি ছাড়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে ফরেস্ট গার্ডদের মাধ্যমে পরিবহনসংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে চেক স্টেশনে উপস্থিত হলেও নিয়মিত তদারকির পরিবর্তে অর্থ আদায়ের বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখান।
নিষিদ্ধ প্রজাতির কাঠ পরিবহনেও সহযোগিতার অভিযোগ
সুয়ালক চেক স্টেশন দিয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চম্পাফুল, গোদা, গুটগুটিয়া, গর্জন ও শিউরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের গোল, রদ্দা ও চেরাই কাঠবাহী গাড়ি চেক স্টেশন অতিক্রম করে। এসব কাঠের মধ্যে কোনোটি কর্তন বা পরিবহনে আইনগত বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র ও বন বিভাগের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু গাড়ি নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া বৈধ টিপি থাকা গাড়ি থেকেও দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে রাখা বা কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে হয়রানির আশঙ্কা থাকে।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, চেক স্টেশনে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সুয়ালক চেক স্টেশনে অবৈধ বনজদ্রব্য পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও গাড়ি আটকের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগদানের পর অবৈধ কাঠ পরিবহনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান নজির কম।
তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে কতটি কাঠবাহী গাড়ি পরীক্ষা করা হয়েছে, কতটি গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং কতটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বন বিভাগের সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুয়ালক চেক স্টেশনের কার্যক্রম স্বচ্ছ করতে  রেজিস্টার, ট্রানজিট পারমিট, গাড়ি আটকের তথ্য এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম তদন্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র থাকা কাঠবাহী গাড়ি থেকে অর্থ আদায় ও অবৈধ কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে সুয়ালক চেক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন প্রতিবেদক।পরে সুয়ালক চেক স্টেশনে কর্মরত ফরেস্টগার্ড জাবেদের মোঠো ফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায়। তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


প্রিন্ট