মোহনা টেলিভিশন লিমিটেড দখলের এক সুগভীর চক্রান্ত এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চাঞ্চল্যকর নীল নকশা উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রেখে, পদ-পদবির চরম অপব্যবহার এবং জালিয়াতির মাধ্যমে একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি সীমার বাইরে নির্বাহী পরিচালকের ‘পাওয়ার’ অপব্যবহার:
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহনা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেবল নির্দিষ্টভাবে নিজের (এমডি’র) ব্যক্তিগত মামলা-মোকাদ্দমা পরিচালনার সার্বিক কাজ দেখভালের জন্য নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেককে বিশেষ এক্টিয়ার ও ক্ষমতাপত্র (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) প্রদান করেছিলেন। কিন্তু উক্ত পদে তার নিয়োগ ও দায়িত্ব শুধুমাত্র এমডির মামলা সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কর্মচারীদের অফিসিয়াল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আদেশ দিচ্ছেন।
সাংবাদিক ও আইটি বিশেষজ্ঞের কাজ কি কারামুক্তি মিশন?
সাম্প্রতিক এক চিঠিতে দেখা যায়, মোহনা টিভির চিফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) মুহাম্মদ আবু আবিদ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-র নিকট একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, উক্ত নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেকের নির্দেশে তিনি এবং প্রতিষ্ঠানের সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট মোঃ আব্দুর রহমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সুচিকিৎসা ও কারামুক্তির জন্য ‘বিশেষ গোপনীয় অ্যাসাইনমেন্টে’ কাজ করছেন।
সংবাদঘরের নীতি ও আইটি পেশার নিয়ম অনুযায়ী, একজন চিফ এডিটরের কাজ সংবাদের পরিকল্পনা ও বিভাগ পরিচালনা করা, আর সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সার্ভার ও আইটি সিস্টেম সুরক্ষিত রাখা। সংবাদ প্রধান বা আইটি বিশেষজ্ঞকে দিয়ে কোনো ব্যক্তির মামলা তদারকি, কারামুক্তির চেষ্টা বা গোপনীয় মিশনের নামে দেশজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাকে পেশাগত কাঠামোর নজিরবিহীন লঙ্ঘন ও জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমডি ও সিইওর চরম বিস্ময় ও অস্বীকৃতি:
এ বিষয়ে মোহনা টিভির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও)-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা স্পষ্টভাবে জানান, এ ধরনের তথাকথিত ‘বিশেষ গোপনীয় অ্যাসাইনমেন্ট’ বা দেশব্যাপী কোনো মিশনে যাওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না এবং উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা থেকে এর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও বিএনপি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্ত:
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই মনগড়া প্রশাসনিক নাটকের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী ষড়যন্ত্র। প্রথমত, ভুয়া অ্যাসাইনমেন্টের সুযোগে মূল অফিসিয়াল জবাবদিহিতা এড়িয়ে ব্যাকডোর দিয়ে মোহনা টেলিভিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও ‘দখল’ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ আহমেদ মজুমদারকে আরও জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় ঠেলে দেওয়া, যাতে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।
আওয়ামী দোসর ও সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততার অভিযোগ:
অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে বিতর্কিত চিফ এডিটর মুহাম্মদ আবু আবিদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনের প্রত্যক্ষ দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, গত ২৪ এর জুলাই মাসে চট্টগ্রামে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ওপর রক্তক্ষয়ী গণহত্যার পেছনে জড়িত কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাবরের সক্রিয় কর্মী ও সহযোগী হিসেবে তার বিরুদ্ধে চরম অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনিক জালিয়াতির মাধ্যমে মোহনা টিভি দখলের চক্রান্ত, জুলাই গণহত্যার সহযোগীদের পুনর্বাসন এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এখন কঠোর প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের তীব্র দাবি উঠেছে।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 












