ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

সান্তাহারে মৎস্য আড়তের ঘর পার্টনারকে জিম্মি করে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি- বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে এক মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ীর ঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়াদ থাকা সত্বেও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ঘর দখলের অভিযোগ তুলেছেন মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী শাহিনা জোয়ারদার বাপ্পী। উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের রাধাকান্ত হাটের পাশে মৎস্য আড়তে ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (৩১অক্টোবর) রাতে দখলের ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে শাহীনা জোয়ারদারের সঙ্গে আড়ত কমিটির দায়িত্বরতদের হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি ও সান্তাহার পৌরসভা প্রশাসক বরাবর আইনি সহায়তার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার মৎস্য আড়তে গত ২০২২ সালে (৩বছর) আগে ব্যবসায়ীর অংশীদার হিসেবে গোলাম সরোয়ারের সঙ্গে আট লক্ষ টাকায় মাসিক দশ হাজার লোভ্যাংশে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি চুক্তিনামা করেন শাহীনা জোয়ারদার বাপ্পী। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে আড়ত পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। চুক্তিনামা অনুসারে আরও দুই বছর ঘরের মেয়াদ রয়েছে। গত শুক্রবার (৩১অক্টোবর) বৃষ্টির দিন রাতে অংশীদার সরোয়ারের নেতৃত্বে সান্তাহার মৎস্য আড়তের সভাপতি মন্টু ও সাধারন সম্পাদক পাপুলের সহযোগিতায় অংশীদার শাহীনা জোয়ারদার বাপ্পীর মৎস্য আড়তের ঘর দখল করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরসভা থেকে আড়ত লিজকৃত গোলাম সরোয়ার গোপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে সাইফুল ইসলামের নিটক হস্তান্তর করেছে বলে জানা যায়৷ শুধু তাই নয় এখানে গোপনে আড়ত কমিটির দায়িত্বরতরা সিন্ডিকেট তৈরি করে বহু আড়ত ব্যবসায়ীদের সরিয়ে অন্যদের দখলে সহযোগিতা করেছেন। ইতিপূর্বেও অনেকেই এমন ভুক্তভোগীর শিকার হয়েছেন। এদিকে শাহিনা জোয়ারদারের আড়ত পরিচালনা করার সময় বিভিন্ন মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। যারফলে নিজের প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারাই তাকে প্রতিনিয়ত যেগুলো মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ দিতো তারা ঘুরে চলে যাচ্ছে। যার কারনে তাকে অনেক লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিত্রাণ পেতে আইনগত সহায়তায় জন্য সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি ও সান্তাহার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক বকুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরিবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক নিশাত আনজুম অনন্যা জানান, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নিজেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সান্তাহারে মৎস্য আড়তের ঘর পার্টনারকে জিম্মি করে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১২:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি- বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে এক মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ীর ঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়াদ থাকা সত্বেও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ঘর দখলের অভিযোগ তুলেছেন মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী শাহিনা জোয়ারদার বাপ্পী। উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের রাধাকান্ত হাটের পাশে মৎস্য আড়তে ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (৩১অক্টোবর) রাতে দখলের ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে শাহীনা জোয়ারদারের সঙ্গে আড়ত কমিটির দায়িত্বরতদের হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি ও সান্তাহার পৌরসভা প্রশাসক বরাবর আইনি সহায়তার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার মৎস্য আড়তে গত ২০২২ সালে (৩বছর) আগে ব্যবসায়ীর অংশীদার হিসেবে গোলাম সরোয়ারের সঙ্গে আট লক্ষ টাকায় মাসিক দশ হাজার লোভ্যাংশে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি চুক্তিনামা করেন শাহীনা জোয়ারদার বাপ্পী। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে আড়ত পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। চুক্তিনামা অনুসারে আরও দুই বছর ঘরের মেয়াদ রয়েছে। গত শুক্রবার (৩১অক্টোবর) বৃষ্টির দিন রাতে অংশীদার সরোয়ারের নেতৃত্বে সান্তাহার মৎস্য আড়তের সভাপতি মন্টু ও সাধারন সম্পাদক পাপুলের সহযোগিতায় অংশীদার শাহীনা জোয়ারদার বাপ্পীর মৎস্য আড়তের ঘর দখল করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরসভা থেকে আড়ত লিজকৃত গোলাম সরোয়ার গোপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে সাইফুল ইসলামের নিটক হস্তান্তর করেছে বলে জানা যায়৷ শুধু তাই নয় এখানে গোপনে আড়ত কমিটির দায়িত্বরতরা সিন্ডিকেট তৈরি করে বহু আড়ত ব্যবসায়ীদের সরিয়ে অন্যদের দখলে সহযোগিতা করেছেন। ইতিপূর্বেও অনেকেই এমন ভুক্তভোগীর শিকার হয়েছেন। এদিকে শাহিনা জোয়ারদারের আড়ত পরিচালনা করার সময় বিভিন্ন মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। যারফলে নিজের প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারাই তাকে প্রতিনিয়ত যেগুলো মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ দিতো তারা ঘুরে চলে যাচ্ছে। যার কারনে তাকে অনেক লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিত্রাণ পেতে আইনগত সহায়তায় জন্য সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি ও সান্তাহার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক বকুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরিবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক নিশাত আনজুম অনন্যা জানান, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নিজেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


প্রিন্ট