ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম রব্বানীর হুমকির সম্মুখিন ভুক্তভোগীরা প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতারণা সিরাজদীখানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমান বাউবিতে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে নিশ-১ প্রোগ্রামের সমন্বয় সেলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত কালাইয়ে ৫০৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ আরিফ উল্লাহ বিরুদ্ধে বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক ২০২৬ অনুষ্ঠিত মহম্মদপুরে আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে বাকরুদ্ধ বিধবা ঝর্না বেগম মির্জাগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক মরহুম আঃ মান্নান মিয়া এর ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী

নওগাঁয় ঘুলিরদহ বিলে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে মা-মাছ শিকার: ছুটির অজুহাত কর্তৃপক্ষের

নাদিম আহমেদ অনিক,নিজস্ব প্রতিনিধি-
নওগাঁ সদর উপজেলার ১১নং শিকারপুর ইউনিয়নের যমুনি ফতেপর জলমহালের একাংশ ঘুলির দহ বিলে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মৎস্যজীবিদের জীবিকা নির্বাহ করা যমুনী ফতেপুর জলমাহলের একাংশ ঘুলির দহ বিলে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন লাগিয়ে পানি শুকিয়ে মা-মাছ সহ নানান দেশীয় মাছ ধরার জন্য আয়োজন চলছে।
সংবাদ সংগ্রহ উদ্দ্যেশ্যে ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করা সময় বাদী হয় স্থানীয় কতিপয় কিছু ব্যাক্তি।
নানান অযুহাতের পাশাপাশি সাংবাদিককে ঘুষ দিয়ে সংবাদ অপ্রকাশে অনুরোধ জানান সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম সহ কিছু ব্যাক্তি।
সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম বলেন, আমরা গ্রামবাসীরা মিলে এখানে মেশিন লাগিয়ে পানি সেচে মাছ ধরছি। মৎস্যজীবিরাই এ বিলটা আমাদের দিয়েছে।
এ বিলে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে মাছ ধরাটা বৈধতা আছে কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ এটা অবৈধ। আপনারাতো সবই বোঝেন।
তবে পানি সেচে মাছ ধরার কারণে মা-মাছ ধ্বংষ হচ্ছে কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি কোন উত্তর দেননা।
এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবি আব্দুল হামীদ বলেন, একশাদ’র নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম, লাবুসহ আরও অনেকে পানি শুকিয়ে মা মাছ ধ্বংষ করছে। আমরা গরিব মানুষ। মাছ ধরে বাজারে বিক্রয় করে আমরা পরিবার চালাই, এভাবে শক্তির জোড়ে যদি পানি শুকিয়ে মা মাছ ধরে নেয় তবে তো আর মাছের বংশ বিস্তার ঘটবেনা।
তাদের কেউ এই বিলে মাছ ধরার অনুমতি দেয়নী, তারা কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে শক্তির জোরে মেশিন দিয়ে পানি সেচে সব মাছ ধরে নিচ্ছে।
আমরা গরিব ও অসহায় তাই চুপচাপ দেখা ছাড়া আর কিছু করার নাই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবি বলেন, ক্ষমতার জোড়ে তারা মেশিন দিয়ে পানি সেচে মা মাছ ধ্বংষ করছে। তারা টাকা উপার্জনের জন্য সব পারে।
কোন ক্ষমতার জোরে তারা এমন অবৈধ কাজ করতে সাহস পায় এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু সে ব্যাক্তি বলেন, আমরা সবাই অসহায়। কার নাম বলে বিপদে পরবো বলুন। তবে আমাদের মৎস্যজীবিদের রক্ষা করতে সরকারের কাছে আবেদন রইল।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ বায়েজিদ আলম বলেন, আজ ছুটির দিন হওয়াতে তারা এ ধরনের সুযোগ নিয়েছে। আমি এখন নওগাঁর বাহিরে অবস্থান করছি, আপনি তথ্য ও ছবি দিয়ে রাখুন, আগামিকাল ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পানি সেচা অবস্থায় সেইসব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কিছুটা অপরাধ দমন সম্ভব বলে মনে করেন নওগাঁর সচেতন মহল।

প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম রব্বানীর হুমকির সম্মুখিন ভুক্তভোগীরা

নওগাঁয় ঘুলিরদহ বিলে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে মা-মাছ শিকার: ছুটির অজুহাত কর্তৃপক্ষের

আপডেট টাইম : ১২:৪৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
নাদিম আহমেদ অনিক,নিজস্ব প্রতিনিধি-
নওগাঁ সদর উপজেলার ১১নং শিকারপুর ইউনিয়নের যমুনি ফতেপর জলমহালের একাংশ ঘুলির দহ বিলে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মৎস্যজীবিদের জীবিকা নির্বাহ করা যমুনী ফতেপুর জলমাহলের একাংশ ঘুলির দহ বিলে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন লাগিয়ে পানি শুকিয়ে মা-মাছ সহ নানান দেশীয় মাছ ধরার জন্য আয়োজন চলছে।
সংবাদ সংগ্রহ উদ্দ্যেশ্যে ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করা সময় বাদী হয় স্থানীয় কতিপয় কিছু ব্যাক্তি।
নানান অযুহাতের পাশাপাশি সাংবাদিককে ঘুষ দিয়ে সংবাদ অপ্রকাশে অনুরোধ জানান সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম সহ কিছু ব্যাক্তি।
সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম বলেন, আমরা গ্রামবাসীরা মিলে এখানে মেশিন লাগিয়ে পানি সেচে মাছ ধরছি। মৎস্যজীবিরাই এ বিলটা আমাদের দিয়েছে।
এ বিলে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে মাছ ধরাটা বৈধতা আছে কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ এটা অবৈধ। আপনারাতো সবই বোঝেন।
তবে পানি সেচে মাছ ধরার কারণে মা-মাছ ধ্বংষ হচ্ছে কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি কোন উত্তর দেননা।
এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবি আব্দুল হামীদ বলেন, একশাদ’র নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য হাকিম, লাবুসহ আরও অনেকে পানি শুকিয়ে মা মাছ ধ্বংষ করছে। আমরা গরিব মানুষ। মাছ ধরে বাজারে বিক্রয় করে আমরা পরিবার চালাই, এভাবে শক্তির জোড়ে যদি পানি শুকিয়ে মা মাছ ধরে নেয় তবে তো আর মাছের বংশ বিস্তার ঘটবেনা।
তাদের কেউ এই বিলে মাছ ধরার অনুমতি দেয়নী, তারা কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে শক্তির জোরে মেশিন দিয়ে পানি সেচে সব মাছ ধরে নিচ্ছে।
আমরা গরিব ও অসহায় তাই চুপচাপ দেখা ছাড়া আর কিছু করার নাই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবি বলেন, ক্ষমতার জোড়ে তারা মেশিন দিয়ে পানি সেচে মা মাছ ধ্বংষ করছে। তারা টাকা উপার্জনের জন্য সব পারে।
কোন ক্ষমতার জোরে তারা এমন অবৈধ কাজ করতে সাহস পায় এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু সে ব্যাক্তি বলেন, আমরা সবাই অসহায়। কার নাম বলে বিপদে পরবো বলুন। তবে আমাদের মৎস্যজীবিদের রক্ষা করতে সরকারের কাছে আবেদন রইল।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ বায়েজিদ আলম বলেন, আজ ছুটির দিন হওয়াতে তারা এ ধরনের সুযোগ নিয়েছে। আমি এখন নওগাঁর বাহিরে অবস্থান করছি, আপনি তথ্য ও ছবি দিয়ে রাখুন, আগামিকাল ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পানি সেচা অবস্থায় সেইসব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কিছুটা অপরাধ দমন সম্ভব বলে মনে করেন নওগাঁর সচেতন মহল।

প্রিন্ট