প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে স্থায়ী চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে নিঃস্ব করা হয়েছে কয়েক হাজার চাকুরি প্রার্থীকে। ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি ভূঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তার করে রেখেছে এই প্রতারণার জাল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকশো কোটি টাকা।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূলত মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নিশানা তৈরি করতো। তার মধ্যে লালমনিরহাট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি সহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায় তাদের সুসংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এসব প্রতিনিধিরা সহজ-সরল চাকরি প্রার্থীদের বিশ্বাস জোগাতে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও ভুয়া এনওসি (অনাপত্তি সনদ) প্রদর্শন করতেন।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হলো:
জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভাইভা: চাকরিপ্রার্থীদের প্রথম বিশ্বাস অর্জন করতে নেওয়া হতো কথিত লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। এরপর তৈরি করা হতো হুবহু সরকারি প্যাডের মতো দেখতে ভুয়া ‘নিয়োগপত্র’ হতো যাহা সম্পূর্ণ ভুয়া।
বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন: পিরোজপুর ও ঝালকাঠির একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, পদভেদে ৭ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হতো। ভাইভা ও ভুয়া নিয়োগজ পত্র হাতে পাওয়ার পর প্রমোট ফাউন্ডেশন এর এজেন্টদের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয় প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কর্তাদের হাতে।
টাকা নিয়ে লাপাত্তা: লালমনিরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভুক্তভোগীরা ভূঁইফোঁড় এই প্রতিষ্ঠানেরই রাজধানীর মিরপুর ডিওএসএস এলাকার কার্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান,বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথোপকথনের এক পর্যায়ে টাকা ফেরত না দিয়ে জেলা পর্যায়ে এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তারা, কিন্তু ভুক্তভোগীরা জেলা পর্যায়ের এজেন্টেদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এখন বিভিন্ন হুমকি ধামকির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে জানা যায়।
লালমনিরহাটের এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “জমিজমা বন্ধক রেখে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এক প্রতিনিধিকে। এখন তারা সবাই ফোন বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। আমরা পুরো পরিবার নিয়ে এখন পথে বসেছি।”
ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারক চক্রের স্থানীয় এজেন্টদের চাপ দিলে তারা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় থানা ও আদালতে মামলা দায়েরও করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বর সাথে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রতারক চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। কোনো বেসরকারি সংস্থা বা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি শিক্ষক নিয়োগের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ ধরনের লোভনীয় অফার ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আরো বিস্তারিত নিয়ে আসছে আমাদের দ্বিতীয় পর্ব দেখতে চোখ রাখুন।
প্রিন্ট
রুপালী আক্তার সাথী : 

























