স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন হলেও পতন হয়নি স্বৈরাচারের দোসর একনিষ্ঠ সমর্থকদের। দেশের প্রতিটি সরকারী দপ্তরে ঘাপটি মেরে আছে কুশীলবরা। তাদেরই একজন বিসিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (মূল পদবীঃ উপ-মহাব্যবস্থাপক) মোঃ রাশেদুর রহমান। যিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
০৯ অক্টোবর ২০১১ তারিখে নিয়োগ আদেশ প্রাপ্ত হয়ে ০৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে বিসিকের চাকুরীতে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর হতে একের পর এক অপকর্ম করে আসছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ রাশেদুর রহমান।
স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময়কালে ছিলেন অতিমাত্রায় প্রভাবশালী এবং বিসিকের কর্মকান্ডের অন্যতম নিয়ন্ত্রককারী ব্যক্তি। সকাল বিকাল শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার তাবেদারী করে দিতেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্ট।
ক্ষমতার মোহে এবং অবৈধ পন্থায় অর্থ কামাইয়ে অন্ধ এ কর্মকর্তা একনেক অনুমোদিত প্রকল্পের অঙ্গহানি করতেও পিছপা হননি। আছে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, বার বার দুদক কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপন করা হলেও বার বার তিনি থেকে গেছেন অধরা! তার উপরে আছে টেন্ডার সিন্ডিকেট মেম্বার এর তকমা।
ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর নব গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ফেইসবুক পোষ্ট দেয়ার কারণে ০৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে “সরকারী কর্মকর্তার ফেইসবুক পোষ্টে তোলপাড়” শিরোনামে এবং ২০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে “অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাস্তি পেলেও বিসিকের রাশেদ অধরা” শিরোনামে বেশ কয়েকটি অনলাইন এবং অফলাইন পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদের কার্টিং এবং রাশেদুর রহমানের দেয়া ফেইসবুক পোষ্টের কপি সংযুক্ত করে বিসিক কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হলেও প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান থাকার পরেও রাশেদুর রহমান মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সহযোগিতায় দায় এড়ানোর সুযোগ পেয়ে গেছেন।
পরবর্তীতে ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে সবিস্তারে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিসিক কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং তার দেয়া মতামত গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এটা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনে তিনি মনক্ষুন্ন হয়ে এ জাতীয় কাজ করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে তার এ জাতীয় কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এতদস্বত্তেও বিসিক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্ত বিসিক কর্তৃপক্ষ তাকে উৎসাহ প্রদান করে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য পদে মনোনীত করে এবং দুদকে অভিযোগ দায়ের থাকা অবস্থায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক হতে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রদান করেছে। এর অল্প কিছুদিন পরে বিসিকের মহাব্যবস্থাপকের শুন্য পদের বিপরীতে ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব প্রদান করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগে পদায়ন করেছে।
বিসিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগে যোগদানের পর হতে মোঃ রাশেদুর রহমান হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য মহাক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসাবে। তার কূট-কৌশলের কাছে বিসিক চেয়ারম্যান বা বিসিক কর্তৃপক্ষ বারবার অসহায়ত্ব বরণ করেছেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর টেন্ডার কাজ সুকৌশলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছেন মোঃ রাশেদুর রহমান। এক কথায় বলা যায় বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুর রহমান। তার পছন্দের বাইরের কোন ঠিকাদার যাতে কাজ না পায় সেজন্য তিনি যে কৌশল প্রয়োগ করা দরকার তাই প্রয়োগ করেন। বিনিময়ে অবৈধভাবে আহরণ করছেন কাড়ি কাড়ি অর্থ। যার একটি অংশ ব্যয় করছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের পিছনে। নিভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রাপ্ত তথ্য মতে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে রাশেদুর রহমান এর যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
সংসদীয় আইনে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে অথচ বহাল তবিয়তে আছেন সংগঠনের চিহ্নিত কর্মী সমর্থক ও অর্থদাতা ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোঃ রাশেদুর রহমান । এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন দেশের সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কথা বললে রাশেদুর রহমান জানান, আমি এখন সরকারি চাকুরী করি। কোন রাজনৈতিব দলের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আগে ছাত্র লীগ করতেন একথা অবলীলায় স্বীকার করেন।
স্টাফ রিপোর্টার : 























