মোঃ শাফায়েত হোসেন সুজন মুন্সী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) |
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার অধিকাংশ খাল অবৈধ দখলের কবলে। এক সময় এসব খাল-বিল ও নদী-নালা ছিল এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানে দখল ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পড়েছে এসব খাল। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমি জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এসব খাল ছিল গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খালপথে নৌকা চলাচল ও পানি প্রবাহ সহজ ও স্বাভাবিক ছিল। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকে, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক জমি চাষাবাদ থেকে বিরত থাকছেন।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট কৃষিজমি প্রায় ১৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে প্রতি মৌসুমেই ৮ থেকে ১৫ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নবীনগর , রামচন্দ্রপুর, কড়ইবাড়ি, কাকালিয়া, নায়ানপুর, তিতাসপাড়, ধনিয়াপাড়া ও কোম্পানীগঞ্জসহ প্রায় ১০০টি খাল দখল হয়ে গেছে। এসব খালের মধ্যে অনেকগুলো ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে।
এ ছাড়া গরিবনগর, দারোরা, ধামঘর, নাগেরচর, ঘাগড়া, টনকিয়া, শুশুন্দি,হাটখোলা অধের খাল কাদিরপুর, বায়েক, চণ্ডীপাড়া, ডুমুরিয়া, মালিপাড়া, নবীপুর পূর্ব-পশ্চিম ও মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল দখল ও ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, যা জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও তীব্র করছে।
আবদ্ধ দখলের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল ও নদী-নালা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর এলাকায় নদী ও খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি নদী ও খাল পুনঃখনন করা হবে। এর মধ্যে বড় নদী ৩২ কিলোমিটার, আর ছোট নদী ৪০ কিলোমিটার এবং প্রায় ২৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। পানিপথের মাধ্যমে চলাচল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে।
তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষিতে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পরিকল্পিতভাবে নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 




















