মোঃ শাফায়েত হোসেন সুজন মুন্সী,মুরাদনগর (কুমিল্লা) |
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আজ বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হাফিজুরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তনুর মা, বাবা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৬ এপ্রিল মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে হাজির হন। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। অপর দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তাঁরাও সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন।
মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে। তাঁরা ঘটনার শুরু থেকেই নামগুলোর কথা বলে আসছেন। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তাঁরা তখন জানেননি, সৈনিক জাহিদের নামটি বারবার আলোচনায় এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কুমিল্লার আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা তাঁকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানায়। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে ওই সময় তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 

























