ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

পাবনায় জ্বালানি সংকটঃ সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে হাহাকার, নেপথ্যে কী?

আব্দুল্লাহ আল মোমিন,পাবনা জেলা প্রতিনিধি |
পাবনায় তীব্র হয়ে উঠেছে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট। তবে এই সংকটের সমীকরণ বেশ রহস্যজনক। পাম্প মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। আগে যে পরিমাণ তেল ৪-৫ দিন ধরে বিক্রি হতো, এখন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ তেল একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শালগাড়িয়া এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের দৈনিক গড় প্রাপ্তি ছিল ১৫ হাজার ৬১৭ লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৮৮৩ লিটার পেট্রোল এবং ৩ হাজার ২০০ লিটার অকটেন। কিন্তু ৬ এপ্রিল (২০২৬) তাদের প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন/পেট্রোল। অর্থাৎ, আগের তুলনায় পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার কমছে না।

একই চিত্র দেখা গেছে ফারুক ফিলিং স্টেশনেও। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সংকটের আগে তারা ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল নিলে তা ৪-৫ দিন অনায়াসে বিক্রি করা যেত। অথচ বর্তমানে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন পেয়েও তারা গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে পারছেন না। প্রতিদিন ট্যাগ অফিসার তদারকি করলেও গ্রাহকের তুষ্টির প্রশ্নে নিরুত্তর থাকছেন মালিকপক্ষ।

এদিকে ফরিদ ফিলিং স্টেশনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ট্যাগ অফিসারের কোনো নজরদারি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সরাসরি তেলের মজুত বা প্রাপ্তির তথ্য না দিলেও তারা স্বীকার করেছেন যে, হেলমেট ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের কাছেও তারা তেল বিক্রি করছেন। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিয়ে ভিড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ফারুক ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিদিন পাম্পে কত লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে সেই হিসাব তার কাছে নেই, তবে পাম্পের মজুত সংক্রান্ত তথ্য তার কাছে রয়েছে।

সরবরাহ বাড়ার পরেও কেন এই হাহাকার, তা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের অবৈধ মজুত হচ্ছে কি না, কিংবা সরবরাহ চেইনে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন পাবনাবাসী।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

পাবনায় জ্বালানি সংকটঃ সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে হাহাকার, নেপথ্যে কী?

আপডেট টাইম : ০৬:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল মোমিন,পাবনা জেলা প্রতিনিধি |
পাবনায় তীব্র হয়ে উঠেছে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট। তবে এই সংকটের সমীকরণ বেশ রহস্যজনক। পাম্প মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। আগে যে পরিমাণ তেল ৪-৫ দিন ধরে বিক্রি হতো, এখন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ তেল একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শালগাড়িয়া এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের দৈনিক গড় প্রাপ্তি ছিল ১৫ হাজার ৬১৭ লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৮৮৩ লিটার পেট্রোল এবং ৩ হাজার ২০০ লিটার অকটেন। কিন্তু ৬ এপ্রিল (২০২৬) তাদের প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন/পেট্রোল। অর্থাৎ, আগের তুলনায় পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার কমছে না।

একই চিত্র দেখা গেছে ফারুক ফিলিং স্টেশনেও। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সংকটের আগে তারা ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল নিলে তা ৪-৫ দিন অনায়াসে বিক্রি করা যেত। অথচ বর্তমানে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন পেয়েও তারা গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে পারছেন না। প্রতিদিন ট্যাগ অফিসার তদারকি করলেও গ্রাহকের তুষ্টির প্রশ্নে নিরুত্তর থাকছেন মালিকপক্ষ।

এদিকে ফরিদ ফিলিং স্টেশনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ট্যাগ অফিসারের কোনো নজরদারি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সরাসরি তেলের মজুত বা প্রাপ্তির তথ্য না দিলেও তারা স্বীকার করেছেন যে, হেলমেট ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের কাছেও তারা তেল বিক্রি করছেন। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিয়ে ভিড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ফারুক ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিদিন পাম্পে কত লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে সেই হিসাব তার কাছে নেই, তবে পাম্পের মজুত সংক্রান্ত তথ্য তার কাছে রয়েছে।

সরবরাহ বাড়ার পরেও কেন এই হাহাকার, তা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের অবৈধ মজুত হচ্ছে কি না, কিংবা সরবরাহ চেইনে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন পাবনাবাসী।


প্রিন্ট