ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি |
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। উপজেলাটির দেউলী সুবিদখালী, কাকড়াবুনিয়া ও মজিদবাড়িয়াসহ চারটি ইউনিয়ন এই প্রমত্তা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানে শুরু হয় তীব্র ভাঙন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপড়াখালি গ্রামে। নদী ভাঙনের এক চরম উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় পিপড়াখালি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খান বাড়ির সামনে থেকে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খান বাড়ির ৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক পাকা কুয়েতি মসজিদটি এখন নদীর একেবারে কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। মসজিদের ঠিক সম্মুখভাগ পর্যন্ত মাটি ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে এবং মসজিদটিকে তাৎক্ষণিক ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে নদীর পাড়ে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে পানির তীব্র স্রোতের কাছে এই অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা টিকবে, তা নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মসজিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় মানুষের চোখে-মুখে এখন কেবলই ভিটেমাটি আর ধর্মীয় উপাসনালয় হারানোর চরম আকুলতা।
ইতিমধ্যেই পিপড়াখালি গ্রামের হাওলাদার বাড়ি ও খান বাড়ির প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য শাহাজাহান খান ও আব্দুর রব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এখানে ভাঙন চললেও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না। চোখের সামনে আমাদের ঘরবাড়ি যাচ্ছে, এখন এই কুয়েতি মসজিদটিও অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পায়রার পেটে চলে যাবে।”

এছাড়াও চলতি বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে মাধবখালি ইউনিয়নের রামপুরা; মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ভিকাখালি, সুন্দ্রা-কালিকাপুর, পিপড়াখালি ও চিংগড়িয়া; দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের গোলখালী, চরখালি, মেন্দিয়াবাদ ও রানিপুর; কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের কাকড়াবুনিয়া বাজার ও কেওয়াবুনিয়া স্লুইসগেট এবং মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের ভয়াং বাজার লঞ্চঘাট, মজিদবাড়িয়া ও কুতবারচর এলাকায়। প্রতি বছরই এসব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। কোন কোন স্থানে ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ফসল নষ্ট হয় এবং বাড়ি তলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির বলেন, “যুগ যুগ ধরে ভাঙনের ফলে আমার ইউনিয়নের মানচিত্র প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে শুধু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানো যাবে না, ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে মির্জাগঞ্জকে মানচিত্র থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাকিব জানান, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বর্তমানে একটি সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই ধীরগতির সমীক্ষা ও আশ্বাসের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না ভাঙনকবলিত দিশেহারা মানুষ। চোখের সামনে ঐতিহ্যবাহী কুয়েতি মসজিদসহ নিজেদের শেষ সম্বলটুকু নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত ও স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন মির্জাগঞ্জবাসী।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ

আপডেট টাইম : ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি |
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। উপজেলাটির দেউলী সুবিদখালী, কাকড়াবুনিয়া ও মজিদবাড়িয়াসহ চারটি ইউনিয়ন এই প্রমত্তা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানে শুরু হয় তীব্র ভাঙন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপড়াখালি গ্রামে। নদী ভাঙনের এক চরম উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় পিপড়াখালি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খান বাড়ির সামনে থেকে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খান বাড়ির ৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক পাকা কুয়েতি মসজিদটি এখন নদীর একেবারে কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। মসজিদের ঠিক সম্মুখভাগ পর্যন্ত মাটি ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে এবং মসজিদটিকে তাৎক্ষণিক ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে নদীর পাড়ে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে পানির তীব্র স্রোতের কাছে এই অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা টিকবে, তা নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মসজিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় মানুষের চোখে-মুখে এখন কেবলই ভিটেমাটি আর ধর্মীয় উপাসনালয় হারানোর চরম আকুলতা।
ইতিমধ্যেই পিপড়াখালি গ্রামের হাওলাদার বাড়ি ও খান বাড়ির প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য শাহাজাহান খান ও আব্দুর রব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এখানে ভাঙন চললেও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না। চোখের সামনে আমাদের ঘরবাড়ি যাচ্ছে, এখন এই কুয়েতি মসজিদটিও অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পায়রার পেটে চলে যাবে।”

এছাড়াও চলতি বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে মাধবখালি ইউনিয়নের রামপুরা; মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ভিকাখালি, সুন্দ্রা-কালিকাপুর, পিপড়াখালি ও চিংগড়িয়া; দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের গোলখালী, চরখালি, মেন্দিয়াবাদ ও রানিপুর; কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের কাকড়াবুনিয়া বাজার ও কেওয়াবুনিয়া স্লুইসগেট এবং মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের ভয়াং বাজার লঞ্চঘাট, মজিদবাড়িয়া ও কুতবারচর এলাকায়। প্রতি বছরই এসব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। কোন কোন স্থানে ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ফসল নষ্ট হয় এবং বাড়ি তলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির বলেন, “যুগ যুগ ধরে ভাঙনের ফলে আমার ইউনিয়নের মানচিত্র প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে শুধু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানো যাবে না, ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে মির্জাগঞ্জকে মানচিত্র থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাকিব জানান, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বর্তমানে একটি সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই ধীরগতির সমীক্ষা ও আশ্বাসের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না ভাঙনকবলিত দিশেহারা মানুষ। চোখের সামনে ঐতিহ্যবাহী কুয়েতি মসজিদসহ নিজেদের শেষ সম্বলটুকু নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত ও স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন মির্জাগঞ্জবাসী।


প্রিন্ট