নাদিম হায়দার, মুন্সীগঞ্জ |
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে সরকারি বিদ্যুৎ খরচ করে সুপেয় পানির অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্টাফ কোয়ার্টার (ডরমিটরি) থেকে ব্যবহৃত পানি দিয়ে দুটি হোটেল পরিচালনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ এলাকায় সুপেয় পানির পাম্প চালু করার পর বিপুল পরিমাণ পানি বের হয়ে গেলেও তা বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পানি প্রবাহিত হয়ে অপচয় হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পাম্প চালু রাখতে ব্যয় হচ্ছে সরকারি বিদ্যুৎ।
জানা যায়, পানির পাম্পের দেখভালের দায়িত্বে ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আক্কাস আলী ও সেলিম রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আক্কাস আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বাংলো নিয়ে থাকি। পানির বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে আমি চেষ্টা করতাম পানি অপচয় কম করতে। তাছাড়া আমি সিরাজদিখান থেকে বদলি হয়ে গেছি।”
এদিকে উপজেলা স্টাফ কোয়ার্টারের ব্যবহৃত পানি দিয়ে দুটি হোটেল পরিচালনার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি পানির সংযোগ কীভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ উল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, “আপনি ভালো দুটি দিক তুলে ধরেছেন। আমি কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। যতদূর শুনেছি, পাম্পের চেম্বারে সমস্যা আছে। কথা বলে অবশ্যই পানি অপচয় নিরসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। একই সঙ্গে দুটি হোটেলে কীভাবে সরকারি পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও দেখব। অবৈধভাবে পানি নেওয়া হয়ে থাকলে তা বিচ্ছিন্ন করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পানির অপচয় বন্ধে দ্রুত পাম্পের ত্রুটি মেরামত, দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্ধারণ এবং সরকারি পানির বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 




















