গাজীপুর প্রতিনিধি |
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় কমিটিতে সভাপতি পদ না দিলে মাদক ব্যবসায়ী কতৃক মসজিদে তালা মারার হুমকির নিউজ করায় সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভিকটিম সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটির ৫২ নং ওয়ার্ড গুটিয়া এলাকায় হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক শরীফ ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী জালাল এবং তার লোকজন।
জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ৫২ নং ওয়ার্ড গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে স্থান না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেন মাদক ব্যবসায়ী জালাল নামের এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারাণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম। থানায় জিডি ও নিউজের কারণে মাদক ব্যবসায়ী জালালসহ তার লোকজন একাধিকবার সাংবাদিক শরীফ ও তার হত্যার হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় হত্যার উদ্দেশ্যে শরীফ ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ী জালাল এবং তার লোকজন।
হামলার শিকার সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী জালাল এলাকায় বেপরোয়া ভাবে দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কমিটিতে সভাপতি পদ না দিলে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেয় সে। ওই ঘটনায় আমি থানায় একটি জিডি করি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা করি। জিডি ও নিউজ করায় ১০ লাখ টাকা খরচ হলেও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জালাল।
শরীফুল আরো বলেন, হুমকি দিয়ে কিছুদিন চুপ থাকলেও বুধবার সন্ধ্যায় আমার বাবা এবং আমার ওপর অতর্কিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ী জালাল এবং তার ভাই ইব্রাহিম ও খোকন। হামলা গুরুতর আঘাতের কারনে আমার বাম চোখে ঝাপসা দেখছি। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারনে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি ক্যাম্পাসে থাকা কালেই বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। পড়া–শোনা শেষে ঢাকায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন তিনি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চাকরি ছেড়ে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বেপরোয়া আচরণ করছে জালাল। দলে কোনো পদ না থাকলেও নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করে এসব অপকর্ম করছে সে। গত ২৫ বছর ধরে গুটিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের কমিটি নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কমিটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে জালাল। তবে তার চারিত্রিক সমস্যার কারনে মুসল্লিরা তাকে মানতে নারাজ। গত ৩ জুলাই মসজিদে আহ্বায়ক কমিটির সভা চলাকালে জালাল সেখানে প্রবেশ করে নিজের নাম না থাকায় মুসল্লিদের গালিগালাজ করে এবং নথিপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। এমনকি মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকিও দেয় সে। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত ১১ জুলাই শনিবার টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গাজীপুর জেলার সাবেক সহ-সভাপতি ও গুটিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান স্বপন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই জালালের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। জালালের বিষয়ে নানা সময় এলাকার লোকজন তার কাছে অভিযোগ করেছে। তার বিরুদ্ধে মসজিদের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরনের অভিযোগও করেছেন এলাকার লোকজন। আইনজীবী পরিচিয় ব্যবহার করে, দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার মানুষদের হয়রানি করা কাম্য নয়। তার কারনে বিএনপির বদনাম হচ্ছে বলেও মনে করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাচিত এই যুগ্ম সম্পাদক।
জালালের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা বলেন, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পেতে যে যে যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা জালালের ছিলো না। তারপরও ৫ আগস্টের পর তিনি জোরপূর্বকভাবে সভাপতি পদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি প্রতিবাদ জানালে ক্ষেপে গিয়ে জালাল তাকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অপবাদ দেয়।
অন্যদিকে জালালকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, গুলি করে খুন করার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এলাকাবাসীর। কারও সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও গুলি করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসী জালাল। ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রচার করতে থাকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জালাল।
তবে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত জালাল। তার দাবি এসব মিথ্যা অভিযোগ।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 




















