ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন গাজীপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত শতাব্দী বাঁধন ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে২৫০ শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শালিখায় নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ৪৭ কর্মদিবসে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল, গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নজির। জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ে বরগুনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ফাঁ/সির আদেশ বহাল রাখায় খুশি আছিয়ার মা ও এলাকাবাসী ঝালকাঠির রাজাপুরে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত ঠিকাদার জয়পুরহাটে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

গাজীপুর প্রতিনিধি |
‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে কৃষকের জীবন, গ্রামের মানুষ ও পল্লির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদ‌যাপন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের উদ্যোগে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ চত্বরে সৌন্দর্য বর্ধনকারী কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ ও কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। এরপর অনুষদীয় চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল গ্রামীণ জনজীবন ও পল্লি উন্নয়ন নিয়ে নানা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক টুকরো গ্রাম-বাংলা।
র‌্যালি শেষে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘পল্লী উন্নয়ন: জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, সিরডাপের মানবসম্পদ ও প্রশাসন শাখা প্রধান এফ.এ.এম জাকিরুল হকসহ গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রভোস্ট, অনুষদীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. মনিরা পারভীন মুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন উপাচার্য। এ সময় সিরডাপের পক্ষ থেকে ড. পি. চন্দ্র শেখর গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানকে সম্মাননাসূচক উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সিরডাপ প্রকাশিত গ্রন্থাবলি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্মিত একটি প্রামাণ্যিচত্র প্রদিশত হয়, যেখানে বাংলােদেশর পল্লী উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা, অর্জন ও বতমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে ’পল্লী উন্নয়ন: জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি” শীষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মনজুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্বতন্ত্র গ্রামীণ উন্নয়ন ডিগ্রি প্রোগ্রাম। বর্তমানে বিভাগটিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জাতীয় উন্নয়নে গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পল্লী উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। একই সে ভবিষ্যতে সিরডাপের সাথে যৌথভাবে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দিবসটির বহুমুখী গুরুত্ব ও পল্লি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগণ উন্নত হলেই রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি সম্ভব। তাই সিরডাপ সদস্য দেশগুলোর গ্রামীণ জনজীবনে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছে। বক্তব্যে তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়াকরণ, স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ নানা মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে উদ্যোক্তা হবার আহ্বান জানান। অন্যদিকে গ্রাম্য জনগণের উন্নতি ছাড়া দেশের সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, পল্লির উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং এটি হলো মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মর্যাদার উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পল্লির মানুষের পাশে থেকে যে উন্নত পল্লি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে তা অব্যাহত রাখতে চায়।”
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি বছর ৬ জুলাইকে ‘বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০২৫ সালে বিশ্বে অন্যান্য দেশে এ দিনটি পালিত হলেও ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পালিত হয়।
অন্যদিকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পল্লি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় সিরডাপ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় সিরডাপ-আরইইডিএস ইন্টারন্যাশনাল রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৬-এ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া গাকৃবির শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বডিট’ এর হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি।


প্রিন্ট
ট্যাগস

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

আপডেট টাইম : ০৩:১৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি |
‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে কৃষকের জীবন, গ্রামের মানুষ ও পল্লির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদ‌যাপন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের উদ্যোগে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ চত্বরে সৌন্দর্য বর্ধনকারী কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ ও কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। এরপর অনুষদীয় চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল গ্রামীণ জনজীবন ও পল্লি উন্নয়ন নিয়ে নানা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক টুকরো গ্রাম-বাংলা।
র‌্যালি শেষে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘পল্লী উন্নয়ন: জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, সিরডাপের মানবসম্পদ ও প্রশাসন শাখা প্রধান এফ.এ.এম জাকিরুল হকসহ গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রভোস্ট, অনুষদীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. মনিরা পারভীন মুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন উপাচার্য। এ সময় সিরডাপের পক্ষ থেকে ড. পি. চন্দ্র শেখর গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানকে সম্মাননাসূচক উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সিরডাপ প্রকাশিত গ্রন্থাবলি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্মিত একটি প্রামাণ্যিচত্র প্রদিশত হয়, যেখানে বাংলােদেশর পল্লী উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা, অর্জন ও বতমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে ’পল্লী উন্নয়ন: জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি” শীষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মনজুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্বতন্ত্র গ্রামীণ উন্নয়ন ডিগ্রি প্রোগ্রাম। বর্তমানে বিভাগটিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জাতীয় উন্নয়নে গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পল্লী উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। একই সে ভবিষ্যতে সিরডাপের সাথে যৌথভাবে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দিবসটির বহুমুখী গুরুত্ব ও পল্লি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগণ উন্নত হলেই রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি সম্ভব। তাই সিরডাপ সদস্য দেশগুলোর গ্রামীণ জনজীবনে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছে। বক্তব্যে তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়াকরণ, স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ নানা মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে উদ্যোক্তা হবার আহ্বান জানান। অন্যদিকে গ্রাম্য জনগণের উন্নতি ছাড়া দেশের সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, পল্লির উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং এটি হলো মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মর্যাদার উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পল্লির মানুষের পাশে থেকে যে উন্নত পল্লি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে তা অব্যাহত রাখতে চায়।”
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি বছর ৬ জুলাইকে ‘বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০২৫ সালে বিশ্বে অন্যান্য দেশে এ দিনটি পালিত হলেও ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পালিত হয়।
অন্যদিকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পল্লি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় সিরডাপ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় সিরডাপ-আরইইডিএস ইন্টারন্যাশনাল রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৬-এ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া গাকৃবির শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বডিট’ এর হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি।


প্রিন্ট