ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

বোদায় দুই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীর পাস করল না কেউ

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন এবং অন্যটি থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় একজন শিক্ষার্থী। সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিদ্যালয় দুটি ঘুরে দেখা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার কথা ১০০ জন। তবে দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যালয়ের কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। আগের বছরগুলোতেও বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল না বলে তারা জানান।
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেন, আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।
অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয়টির কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। সেখানে একটি কক্ষ রয়েছে, সেটি বন্ধ ছিল। পাশে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি বড় ঘর থাকলেও সেটির দরজা-জানালা ও বেড়া নেই। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় দুটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনোই ছিল না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। প্রতিষ্ঠান দুটিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বোদায় দুই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীর পাস করল না কেউ

আপডেট টাইম : ০৩:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন এবং অন্যটি থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় একজন শিক্ষার্থী। সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিদ্যালয় দুটি ঘুরে দেখা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার কথা ১০০ জন। তবে দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যালয়ের কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। আগের বছরগুলোতেও বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল না বলে তারা জানান।
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেন, আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।
অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয়টির কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। সেখানে একটি কক্ষ রয়েছে, সেটি বন্ধ ছিল। পাশে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি বড় ঘর থাকলেও সেটির দরজা-জানালা ও বেড়া নেই। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় দুটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনোই ছিল না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। প্রতিষ্ঠান দুটিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


প্রিন্ট