ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

চিকিৎসার ছুটি নিয়ে বিদেশে ঝালকাঠির শিক্ষিকা, দুই শিক্ষকেই চলছে বিদ্যালয়

মো: আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫০ নম্বর কুশঙ্গল নিকাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আয়শা আক্তার শান্তার বিরুদ্ধে। তবে তাঁর ছুটির আবেদনপত্রে বিদেশে যাওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। সেখানে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটি চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক এস এম সেলিম হোসাইনের অবসরের পর সেখানে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক শায়লা আমিন গত ৩০ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এরপর সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার শান্তা দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত হন। স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন।

ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস ও একজন সহকারী শিক্ষক। মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মাসিক সভা, উপজেলা পর্যায়ের বৈঠক বা অন্য সরকারি কাজে বাইরে যেতে হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।

গত ১৬ জুন নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ছুটির আবেদনে আয়শা আক্তার শান্তা উল্লেখ করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটি ভোগের অনুমতি চান তিনি।

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। শারীরিক অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস বলেন, “ছুটির আবেদন অনুযায়ী তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। লোকমুখে শুনেছি, তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।”

নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। ছুটির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে আয়শা আক্তার শান্তার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চিকিৎসার ছুটি নিয়ে বিদেশে ঝালকাঠির শিক্ষিকা, দুই শিক্ষকেই চলছে বিদ্যালয়

আপডেট টাইম : ০৪:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মো: আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫০ নম্বর কুশঙ্গল নিকাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আয়শা আক্তার শান্তার বিরুদ্ধে। তবে তাঁর ছুটির আবেদনপত্রে বিদেশে যাওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। সেখানে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটি চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক এস এম সেলিম হোসাইনের অবসরের পর সেখানে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক শায়লা আমিন গত ৩০ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এরপর সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার শান্তা দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত হন। স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন।

ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস ও একজন সহকারী শিক্ষক। মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মাসিক সভা, উপজেলা পর্যায়ের বৈঠক বা অন্য সরকারি কাজে বাইরে যেতে হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।

গত ১৬ জুন নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ছুটির আবেদনে আয়শা আক্তার শান্তা উল্লেখ করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটি ভোগের অনুমতি চান তিনি।

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। শারীরিক অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস বলেন, “ছুটির আবেদন অনুযায়ী তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। লোকমুখে শুনেছি, তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।”

নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। ছুটির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে আয়শা আক্তার শান্তার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট