ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুরাদনগরে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির প্রভাবের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি শালিখায় পাণ্ডুলিপি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার এর শুভ উদ্বোধন বান্দরবানে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের নানা আয়োজন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ গাজীপুরের শ্রীপুরে মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা বরগুনায় ১৬ সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গাজীপুরের ভাওয়াল রাজদিঘীসহ সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবি

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ডা: আজিজুলের দুর্নীতির রাজত্ব!

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ আজিজুল ইসলাম এখন টক অব দ্য ডিপার্টমেন্ট। প্রাপ্ত অভিযোগ মতে, যশোর সদরের হৈবতপুর ইউনিয়নের চিরেরহাট গ্রামের মৃত মোহর আলী রাজাকারের পুত্র পশু ডাক্তার মোঃ আজিজুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারী পরিষদের মহাসচিব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রত্যায়ন পত্রে দেখা যায়, মোঃ আজিজুল ইসলাম ১৯৮৯-৯০ সালে ছাত্র জীবনেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে) ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম নিজেকে আওয়ামী পরিবারের এবং একজন অন্ধ আওয়ামীলীগার হিসাবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ও সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন । তিনি কথায় কথায় তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য জামাত-শিবির ও বিএনপি পন্থী বানিয়ে ফেলেন এবং মিথ্যা অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যশোরের সদর উপজেলার চিরির হাট গ্রামে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হৈবতপুর গ্রামের চিরির হাট গ্রামটি রাজাকারের গ্রাম হিসাবে ব্যাপক পরিচিত এবং ডাঃ আজিজের পরিবারের সকলেই রাজাকারের পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচিত। এমনকি মোহর আলী বললে কেউ না চিনলেও মোহর আলী রাজাকারের বাড়ি বললে সকলেই চেনেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় পার্টির শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী মরহুম খালেদুর রহমান টিটুর এপিএস হিসাবে আজিজের এক ভাই দায়িত্ব পালনরত ছিলেন এবং সেখানে মুখ্য ভুমিকা পালন করতেন রাজাকার পুত্র আজিজুল ইসলাম। এছাড়াও বিএনপির শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের মিন্টু রোডের বাড়িতে অধিকাংশ সময় তিনি অতিবাহিত করতেন এবং মন্ত্রীর লোকজনের সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন দালালী করতেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের শতভাগ কর্মকতা-কর্মচারীর প্রশ্ন একজন রাজাকারের ছেলে কিভাবে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারী পরিষদের নেতৃত্ব দেয়?
আরোও জানা যায়, রাজাকার পরিবারের সন্তান হওয়ায় ৩ বার উপ-সচিব পদে পদোন্নতির তালিকায় নাম থাকার পরেও এসএসবিতে তার বিষয়টি বিবেচিত হয়নি। রাজাকার পুত্র ডাঃ আজিজুল ইসলামের মিথ্যাচার আর দূর্নীতি কতটা ভয়াবহ তা বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদের সভাপতি কর্তৃক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগই প্রমাণিত। ১৯তম বিসিএস এর মাধ্যমে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে যোগদানের পর তিনি কোটি কোটি টাকা হাসিলের ফন্দি আঁটেন। যেই সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের প্রভাবশালী কোনো মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে নিজেকে সরকার সমর্থিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাবার চেষ্টায় লিপ্ত থেকে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করে এখন শত কোটি টাকার মালিক। আর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পে দায়িত্ব নিয়ে যে অনিয়ম দূর্নীতি করেছেন সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এখনো তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আলোচিত ও বিতর্কিত হওয়ায় তিনবার উপসচিব পদে আবেদন করে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সুপারিশ দিয়েও পদোন্নতি প্রাপ্ত হতে পারেনি। তারপরও এই উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তা সংস্থার পরিচালক ও মহাপরিচালক হওয়ার স্বপ্নে বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি, মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজী করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিগত দিনের অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া অতীব জরুরি বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির কর্মকর্তারা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ডা: আজিজুলের দুর্নীতির রাজত্ব!

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ আজিজুল ইসলাম এখন টক অব দ্য ডিপার্টমেন্ট। প্রাপ্ত অভিযোগ মতে, যশোর সদরের হৈবতপুর ইউনিয়নের চিরেরহাট গ্রামের মৃত মোহর আলী রাজাকারের পুত্র পশু ডাক্তার মোঃ আজিজুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারী পরিষদের মহাসচিব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রত্যায়ন পত্রে দেখা যায়, মোঃ আজিজুল ইসলাম ১৯৮৯-৯০ সালে ছাত্র জীবনেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে) ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম নিজেকে আওয়ামী পরিবারের এবং একজন অন্ধ আওয়ামীলীগার হিসাবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ও সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন । তিনি কথায় কথায় তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য জামাত-শিবির ও বিএনপি পন্থী বানিয়ে ফেলেন এবং মিথ্যা অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যশোরের সদর উপজেলার চিরির হাট গ্রামে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হৈবতপুর গ্রামের চিরির হাট গ্রামটি রাজাকারের গ্রাম হিসাবে ব্যাপক পরিচিত এবং ডাঃ আজিজের পরিবারের সকলেই রাজাকারের পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচিত। এমনকি মোহর আলী বললে কেউ না চিনলেও মোহর আলী রাজাকারের বাড়ি বললে সকলেই চেনেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় পার্টির শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী মরহুম খালেদুর রহমান টিটুর এপিএস হিসাবে আজিজের এক ভাই দায়িত্ব পালনরত ছিলেন এবং সেখানে মুখ্য ভুমিকা পালন করতেন রাজাকার পুত্র আজিজুল ইসলাম। এছাড়াও বিএনপির শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের মিন্টু রোডের বাড়িতে অধিকাংশ সময় তিনি অতিবাহিত করতেন এবং মন্ত্রীর লোকজনের সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন দালালী করতেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের শতভাগ কর্মকতা-কর্মচারীর প্রশ্ন একজন রাজাকারের ছেলে কিভাবে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারী পরিষদের নেতৃত্ব দেয়?
আরোও জানা যায়, রাজাকার পরিবারের সন্তান হওয়ায় ৩ বার উপ-সচিব পদে পদোন্নতির তালিকায় নাম থাকার পরেও এসএসবিতে তার বিষয়টি বিবেচিত হয়নি। রাজাকার পুত্র ডাঃ আজিজুল ইসলামের মিথ্যাচার আর দূর্নীতি কতটা ভয়াবহ তা বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদের সভাপতি কর্তৃক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগই প্রমাণিত। ১৯তম বিসিএস এর মাধ্যমে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে যোগদানের পর তিনি কোটি কোটি টাকা হাসিলের ফন্দি আঁটেন। যেই সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের প্রভাবশালী কোনো মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে নিজেকে সরকার সমর্থিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাবার চেষ্টায় লিপ্ত থেকে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করে এখন শত কোটি টাকার মালিক। আর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পে দায়িত্ব নিয়ে যে অনিয়ম দূর্নীতি করেছেন সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এখনো তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আলোচিত ও বিতর্কিত হওয়ায় তিনবার উপসচিব পদে আবেদন করে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সুপারিশ দিয়েও পদোন্নতি প্রাপ্ত হতে পারেনি। তারপরও এই উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তা সংস্থার পরিচালক ও মহাপরিচালক হওয়ার স্বপ্নে বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি, মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজী করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিগত দিনের অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া অতীব জরুরি বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির কর্মকর্তারা।


প্রিন্ট