ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাগুরায় দীর্ঘ ১৪ বছর জাল সনদপত্র ও বয়স কমিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সরকারি চাকরির অভিযোগ মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি থেকে যুক্ত হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ বই: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার শারীরিক অসুস্থার জন্য বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে পারেননি আ.লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জামায়াতের আমির মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: রাশেদ খান মাগুরাতে ২৮ হাজার ইয়াবা ও ১৯ লক্ষ টাকা সহ এসআরবির হাতে গ্রেফতার এক যশোরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, রোগী ভাগিয়ে বাণিজ্য মা ইলিশ রক্ষায় আজ থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য: মোহনা টিভি দখল ও সরকারবিরোধী বড় চক্রান্তের তথ্য ফাঁস! সিন্ডিকেট ভাঙতে লটারির মাধ্যমে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ১৮ কর্মকর্তা

যশোরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, রোগী ভাগিয়ে বাণিজ্য

যশোরে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া, হাসপাতালের বহির্বিভাগের পরিচয় ও চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্টের পর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে একাধিক চিকিৎসকের নাম থাকলেও তাদের অনেকেই নিয়মিত চেম্বার করেন না বলেও অভিযোগ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রথম গেটের গা ঘেঁষে অবস্থিত লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালের এত কাছে অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রোগী সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের লক্ষ্য করে হাসপাতালের আশপাশে কথিত দালালরা সক্রিয় থাকে। নানা কথায় তাদের আস্থায় নেওয়ার পর চিকিৎসক দেখানো বা পরীক্ষা করানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের এ প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগের গুরুতর দিক হলো, রোগীদের বলা হচ্ছে লাইফ কেয়ারই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৬, ৭ ও ১৬ নম্বর কক্ষ। সরকারি হাসপাতালের পরিচয় ব্যবহার করে এমনভাবে রোগীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে যে, অনেকে বুঝতেই পারছেন না তারা সরকারি হাসপাতালের সেবা নিচ্ছেন, নাকি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিভিন্ন সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা করানো কিংবা নানা অজুহাতে খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগেরই একটি চিত্র সামনে আসে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের মারুফ হোসেন ও বিরামপুরের আবিদ হাসান নামে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় তারা বুঝতেই পারেন না কখন তাদের গন্তব্য বদলে গেছে। চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসা রোগী পরিণত হন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকে। এরপর একের পর এক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচের চাপ তৈরি হয়। এতে অনেকে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। লাইফ কেয়ারের কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর লাইসেন্স নিয়ে। যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৮৩। ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত। এরপর বিভিন্ন ত্রুটির কারণে লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কীভাবে অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু লাইসেন্স নয়, অতীতের কার্যক্রম নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত লাইফ কেয়ারকে জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযানের পরও অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের প্রশ্ন, জরিমানা ও অভিযান যদি হয়ে থাকে, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে কীভাবে? চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে অন্তত আটজন চিকিৎসকের নাম রয়েছে। কিন্তু তাদের অনেককেই নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডা. মাসুদ মোল্যা , ডা. আনোয়ার হোসেন ও ডা. সোনিয়া শারমিন বর্তমানে নিয়মিত চেম্বার না করলেও তাদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের নাম সামনে রেখে রোগীর আস্থা অর্জনের পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা নিতে উৎসাহিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন ফারুক হোসেন। এর আগে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। আগের মালিকদের মধ্যে ছিলেন ডা. মনির হাসান, জাহিদ হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লাইফ কেয়ার দালালনির্ভরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। দালালের মাধ্যমে রোগী না এলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রোগী খুবই কম এমন দাবিও রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের নজরদারির কারণে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকা কথিত দালালরা আবারও একত্র হয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে লাইফ কেয়ার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি পরে ফোন করার কথা জানান। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী পরিচয়ে জিনিয়া শারমিন ফোন করে বলেন, লাইফ কেয়ারে কোনো দালাল নেই। মঙ্গলবার যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক দুই ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ নন। তারা কেন লাইফ কেয়ারের নাম বলেছেন, তা তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, হালনাগাদ লাইসেন্সের জন্য আরিফুজ্জামানের মাধ্যমে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ চলছে। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসকেরা চেম্বার করেন। ডা. আনোয়ার হোসেন ও ডা. মাসুদ মোল্যা বর্তমানে বসছেন না, তবে কিছুদিন পর তারা আবার চেম্বারে বসবেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, লাইফ কেয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবার নামে কাউকে প্রতারণার সুযোগ দেওয়া হবে না।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় দীর্ঘ ১৪ বছর জাল সনদপত্র ও বয়স কমিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সরকারি চাকরির অভিযোগ

যশোরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, রোগী ভাগিয়ে বাণিজ্য

আপডেট টাইম : ১২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া, হাসপাতালের বহির্বিভাগের পরিচয় ও চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্টের পর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে একাধিক চিকিৎসকের নাম থাকলেও তাদের অনেকেই নিয়মিত চেম্বার করেন না বলেও অভিযোগ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রথম গেটের গা ঘেঁষে অবস্থিত লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালের এত কাছে অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রোগী সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের লক্ষ্য করে হাসপাতালের আশপাশে কথিত দালালরা সক্রিয় থাকে। নানা কথায় তাদের আস্থায় নেওয়ার পর চিকিৎসক দেখানো বা পরীক্ষা করানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের এ প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগের গুরুতর দিক হলো, রোগীদের বলা হচ্ছে লাইফ কেয়ারই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৬, ৭ ও ১৬ নম্বর কক্ষ। সরকারি হাসপাতালের পরিচয় ব্যবহার করে এমনভাবে রোগীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে যে, অনেকে বুঝতেই পারছেন না তারা সরকারি হাসপাতালের সেবা নিচ্ছেন, নাকি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিভিন্ন সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা করানো কিংবা নানা অজুহাতে খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগেরই একটি চিত্র সামনে আসে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের মারুফ হোসেন ও বিরামপুরের আবিদ হাসান নামে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় তারা বুঝতেই পারেন না কখন তাদের গন্তব্য বদলে গেছে। চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসা রোগী পরিণত হন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকে। এরপর একের পর এক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচের চাপ তৈরি হয়। এতে অনেকে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। লাইফ কেয়ারের কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর লাইসেন্স নিয়ে। যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৮৩। ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত। এরপর বিভিন্ন ত্রুটির কারণে লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কীভাবে অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু লাইসেন্স নয়, অতীতের কার্যক্রম নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত লাইফ কেয়ারকে জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযানের পরও অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের প্রশ্ন, জরিমানা ও অভিযান যদি হয়ে থাকে, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে কীভাবে? চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে অন্তত আটজন চিকিৎসকের নাম রয়েছে। কিন্তু তাদের অনেককেই নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডা. মাসুদ মোল্যা , ডা. আনোয়ার হোসেন ও ডা. সোনিয়া শারমিন বর্তমানে নিয়মিত চেম্বার না করলেও তাদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের নাম সামনে রেখে রোগীর আস্থা অর্জনের পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা নিতে উৎসাহিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন ফারুক হোসেন। এর আগে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। আগের মালিকদের মধ্যে ছিলেন ডা. মনির হাসান, জাহিদ হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লাইফ কেয়ার দালালনির্ভরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। দালালের মাধ্যমে রোগী না এলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রোগী খুবই কম এমন দাবিও রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের নজরদারির কারণে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকা কথিত দালালরা আবারও একত্র হয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে লাইফ কেয়ার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি পরে ফোন করার কথা জানান। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী পরিচয়ে জিনিয়া শারমিন ফোন করে বলেন, লাইফ কেয়ারে কোনো দালাল নেই। মঙ্গলবার যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক দুই ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ নন। তারা কেন লাইফ কেয়ারের নাম বলেছেন, তা তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, হালনাগাদ লাইসেন্সের জন্য আরিফুজ্জামানের মাধ্যমে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ চলছে। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসকেরা চেম্বার করেন। ডা. আনোয়ার হোসেন ও ডা. মাসুদ মোল্যা বর্তমানে বসছেন না, তবে কিছুদিন পর তারা আবার চেম্বারে বসবেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, লাইফ কেয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবার নামে কাউকে প্রতারণার সুযোগ দেওয়া হবে না।


প্রিন্ট