ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের! আবারও ফুটপাত আওয়ামী দোসর খলিলের দখলে বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন তৃণমূলের ক্ষুদ্র উদ্যোগেই গড়ে উঠবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী গাজীপুরে ৯০ স্টল নিয়ে ৭দিনের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলার উদ্বোধন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ঘটনা এক, ব্যাখ্যা ভিন্ন: শরীয়তপুরে জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের সংবাদ সম্মেলন পঞ্চগড়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহায়তা প্রদান বান্দরবানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শুরু সাংগ্রাই উৎসব কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষক মাওলা হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

মানবিকতার আলোকবর্তিকা শিক্ষক টি এম মনোয়ার হোসেন

মোঃ বাবুল হোসেন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি-
শিক্ষকতার মতো মহৎ পেশার পাশাপাশি মানবিকতা, সমাজসেবা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষক টি এম মনোয়ার হোসেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় সহযোগিতা সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন অনুকরণীয় সমাজসেবক হিসেবে।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক কলেজছাত্রীকে প্রয়োজনীয় কাপড় উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। এর আগেও ২৫ জন অসহায় মানুষকে শাড়ী লুঙ্গি এবং এক অসচ্ছল ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। বহু শিক্ষার্থীকেও তিনি নিয়মিত লেখাপড়ার সহায়তা প্রদান করেন। জনসম্মুখে নীরবচর হলেও তার মানবিক কাজের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে।

টি এম মনোয়ার হোসেন ১৯৭৮ সালের ১২ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তরনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বি.এসসি ও বি.এড ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতাকে জীবনপেশা হিসেবে বেছে নেন। সাহিত্যচর্চা, গান শোনা, বইপড়া ও ভ্রমণ তার নেশা।

শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি একজন লেখক। তার প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ১৮টিরও বেশি। যৌথ গ্রন্থ ১৫০ এর অধিক। এছাড়া ‘রক্তে ভেজা বাংলা’, ‘দীপিকা’ এবং ‘ভেলা’ ম্যাগাজিনসহ বেশ কিছু প্রকাশনার সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। আধুনিক, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, দেশাত্মবোধক ও বিচ্ছেদধর্মীসহ বিভিন্ন ধাঁচের ১৫০টিরও বেশি গান লিখেছেন তিনি।

২০০৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ধূমকেতু সাহিত্য পরিষদ, যা পঞ্চগড়ের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করতে তিনি নিয়মিত আয়োজন, পরামর্শ ও সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছেন।

মানবিকতা, সাহিত্যসেবা ও শিক্ষকতার এক অনন্য সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার জীবন। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তার এমন নিরলস প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের!

মানবিকতার আলোকবর্তিকা শিক্ষক টি এম মনোয়ার হোসেন

আপডেট টাইম : ০২:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ বাবুল হোসেন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি-
শিক্ষকতার মতো মহৎ পেশার পাশাপাশি মানবিকতা, সমাজসেবা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড় কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষক টি এম মনোয়ার হোসেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় সহযোগিতা সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন অনুকরণীয় সমাজসেবক হিসেবে।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক কলেজছাত্রীকে প্রয়োজনীয় কাপড় উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। এর আগেও ২৫ জন অসহায় মানুষকে শাড়ী লুঙ্গি এবং এক অসচ্ছল ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। বহু শিক্ষার্থীকেও তিনি নিয়মিত লেখাপড়ার সহায়তা প্রদান করেন। জনসম্মুখে নীরবচর হলেও তার মানবিক কাজের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে।

টি এম মনোয়ার হোসেন ১৯৭৮ সালের ১২ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তরনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বি.এসসি ও বি.এড ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতাকে জীবনপেশা হিসেবে বেছে নেন। সাহিত্যচর্চা, গান শোনা, বইপড়া ও ভ্রমণ তার নেশা।

শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি একজন লেখক। তার প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ১৮টিরও বেশি। যৌথ গ্রন্থ ১৫০ এর অধিক। এছাড়া ‘রক্তে ভেজা বাংলা’, ‘দীপিকা’ এবং ‘ভেলা’ ম্যাগাজিনসহ বেশ কিছু প্রকাশনার সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। আধুনিক, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, দেশাত্মবোধক ও বিচ্ছেদধর্মীসহ বিভিন্ন ধাঁচের ১৫০টিরও বেশি গান লিখেছেন তিনি।

২০০৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ধূমকেতু সাহিত্য পরিষদ, যা পঞ্চগড়ের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করতে তিনি নিয়মিত আয়োজন, পরামর্শ ও সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছেন।

মানবিকতা, সাহিত্যসেবা ও শিক্ষকতার এক অনন্য সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার জীবন। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তার এমন নিরলস প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।