ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজাপুরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার বান্দরবান রুমায় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ গাছা ভূমি অফিসের হর্তাকর্তা কে এই দালাল জহির? মুরাদনগরে ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান: ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, একটির কার্যক্রম বন্ধ গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ফিল্ড স্পোর্টস সিটির শুভ উদ্বোধন জয়পুরহাটে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদল নেতা আদনান বহিষ্কার কুমিল্লা দেবিদ্বারের শিক্ষার্থীদের সংসদ অধিবেশন ও সামরিক জাদুঘর ঘুরে দেখালেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বালাঘাটার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা মাগুরা পৌরসভার প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ: বদলী হলেও।মাগুরা ছাড়ছেন না: দ্রুত অপসারণ দাবী মাগুরা পৌরসভার প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ: বদলী হলেও।মাগুরা ছাড়ছেন না: দ্রুত অপসারণ দাবী

গাছা ভূমি অফিসের হর্তাকর্তা কে এই দালাল জহির?

গাজীপুর প্রতিনিধি |
টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন “গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিস”। নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী নন। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সরদার। তিনিই যেন গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের হর্তাকর্তা। বলছি “গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিস” দালালখ্যাত উমেদার জহিরের কথা। নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী না হয়েও একই অফিসে আছেন ৫ বছর ধরে। এর আগে ছিলেন বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। তার ভাবখানা দেখলে মনে হয় তিনি অফিসের বড় কোন কর্মকর্তা। বলা হয় তিনিই স্ব-ঘোষিত ভূমি কর্মকর্তা। নিয়মিত অফিস করেন গাছা ভূমি অফিসে। অফিসের ভিতরের এক কোণে চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার সবই রয়েছে তার। শুধু অফিসের ভিতরেই নয় অফিসের বাইরেও রয়েছে আলাদা আরেকটি অফিস। সেখানেও নিয়মিত বসেন জহির। কাজ তার খারিজ বাণিজ্য।
অভিযোগ রয়েছে, গাছা ভূমি অফিসে নামজারী বানিজ্য, খাসজমি বন্দোবস্তি করে দেয়ার নামে অর্থ আদায় করে আলাদিনের চেরাগ বনে গেছেন জহির। জহিরের নামে রয়েছে অগনিত খারিজ বাণিজ্যের অভিযোগ তারপরেও কেন প্রশাসন নিরব।
সূত্রে প্রকাশ, তিনি যেখানে যান সেখানেই শুরু হয় বৈধ-অবৈধ পন্থায় উর্পাজনের পালা। অফিসের বাইরে ব্যক্তিগত আরেকটি অফিস বানিয়েছেন জহির। সেখানে বসেই জমি নামজারী করে দেয়া, জমা খারিজ ও জমা একত্রীকরন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার কন্ট্রাক্ট নিয়ে শুরু করেন পাইকারী ধান্দাবাজি।
ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজের বাহানায় সেবাপ্রার্থীদের নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত অফিসে। অর্থের বিনিময়ে নামে-বেনামে সরকারী বিভিন্ন খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী না হয়েও পূর্বাচলের মতো আবাসিক এলাকায় রয়েছে কয়েককোটি টাকা মূল্যের ৩ কাঠা প্লট। কিন্তু প্লটটি তার নয় বলে তিনি অস্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছে না ভুমি সেবা। অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় অফিসটিতে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ঘুষের রেট। ফলে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন জনসাধারণ।
জমির নামজারি ও জমাভাগ এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে নাগরিকরা সরকারের রাজস্ব তহবিলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু নির্ধারিত ফি দিয়েও যখন ঘুষ প্রদানে বাধ্য হতে হয়, ঘুষ না দিলে হয়রানি করা হয়, তখন সেবাপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হন এবং প্রতিকার দাবি করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহেরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের ভেতরে উমেদার বা দালাল নামধারী কেউ চেয়ার – টেবিল নিয়ে বসার কোন সুযোগ নেই, দালালের বিস্তারিত তথ্য দেন ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে গাছা ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী ইউসূফ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে জহির নামে তিনি কাউকে চিনেন না বলে জানান। তবে উপ সহকারী ইউসূফ মিয়া জহিরকে দালালির সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে সেবা প্রার্থীরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জহির বলেন, গাছা ভূমি অফিসের বাইরে আমার কোন অফিস নেই। তবে গাছা ভূমি অফিসে টুকটাক কাজ করি। তিনি আরো বলেন, শুধু গাছা অফিসেই নয় বাসন,কাশিমপুর, পূবাইল ভূমি অফিসেও খারিজের কাজ করে থাকি।
পূর্বাচলে ৩ কাঠা প্লটের বিষয়ে জানতে চাইলে জহির বলেন, আমার খালাতো ভাই মোস্তফা ছোট বেলায় পূর্বাচলে ৩ কাঠা প্লটটি আমার নামে করে দেন। কিন্তু বিষয়টি আমি জানতাম না। যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মহলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপর গত আড়াই বছর আগে আমার খালাতো ভাই মোস্তফার নামে পূর্বাচলের ৩ কাঠা প্লটটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাঠক এখানেই শেষ নয় জহিরের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছি।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

গাছা ভূমি অফিসের হর্তাকর্তা কে এই দালাল জহির?

আপডেট টাইম : ০৪:৫১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি |
টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন “গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিস”। নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী নন। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সরদার। তিনিই যেন গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের হর্তাকর্তা। বলছি “গাছা ইউনিয়ন ভুমি অফিস” দালালখ্যাত উমেদার জহিরের কথা। নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী না হয়েও একই অফিসে আছেন ৫ বছর ধরে। এর আগে ছিলেন বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। তার ভাবখানা দেখলে মনে হয় তিনি অফিসের বড় কোন কর্মকর্তা। বলা হয় তিনিই স্ব-ঘোষিত ভূমি কর্মকর্তা। নিয়মিত অফিস করেন গাছা ভূমি অফিসে। অফিসের ভিতরের এক কোণে চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার সবই রয়েছে তার। শুধু অফিসের ভিতরেই নয় অফিসের বাইরেও রয়েছে আলাদা আরেকটি অফিস। সেখানেও নিয়মিত বসেন জহির। কাজ তার খারিজ বাণিজ্য।
অভিযোগ রয়েছে, গাছা ভূমি অফিসে নামজারী বানিজ্য, খাসজমি বন্দোবস্তি করে দেয়ার নামে অর্থ আদায় করে আলাদিনের চেরাগ বনে গেছেন জহির। জহিরের নামে রয়েছে অগনিত খারিজ বাণিজ্যের অভিযোগ তারপরেও কেন প্রশাসন নিরব।
সূত্রে প্রকাশ, তিনি যেখানে যান সেখানেই শুরু হয় বৈধ-অবৈধ পন্থায় উর্পাজনের পালা। অফিসের বাইরে ব্যক্তিগত আরেকটি অফিস বানিয়েছেন জহির। সেখানে বসেই জমি নামজারী করে দেয়া, জমা খারিজ ও জমা একত্রীকরন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার কন্ট্রাক্ট নিয়ে শুরু করেন পাইকারী ধান্দাবাজি।
ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজের বাহানায় সেবাপ্রার্থীদের নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত অফিসে। অর্থের বিনিময়ে নামে-বেনামে সরকারী বিভিন্ন খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী না হয়েও পূর্বাচলের মতো আবাসিক এলাকায় রয়েছে কয়েককোটি টাকা মূল্যের ৩ কাঠা প্লট। কিন্তু প্লটটি তার নয় বলে তিনি অস্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছে না ভুমি সেবা। অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় অফিসটিতে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ঘুষের রেট। ফলে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন জনসাধারণ।
জমির নামজারি ও জমাভাগ এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে নাগরিকরা সরকারের রাজস্ব তহবিলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু নির্ধারিত ফি দিয়েও যখন ঘুষ প্রদানে বাধ্য হতে হয়, ঘুষ না দিলে হয়রানি করা হয়, তখন সেবাপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হন এবং প্রতিকার দাবি করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহেরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের ভেতরে উমেদার বা দালাল নামধারী কেউ চেয়ার – টেবিল নিয়ে বসার কোন সুযোগ নেই, দালালের বিস্তারিত তথ্য দেন ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে গাছা ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী ইউসূফ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে জহির নামে তিনি কাউকে চিনেন না বলে জানান। তবে উপ সহকারী ইউসূফ মিয়া জহিরকে দালালির সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে সেবা প্রার্থীরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জহির বলেন, গাছা ভূমি অফিসের বাইরে আমার কোন অফিস নেই। তবে গাছা ভূমি অফিসে টুকটাক কাজ করি। তিনি আরো বলেন, শুধু গাছা অফিসেই নয় বাসন,কাশিমপুর, পূবাইল ভূমি অফিসেও খারিজের কাজ করে থাকি।
পূর্বাচলে ৩ কাঠা প্লটের বিষয়ে জানতে চাইলে জহির বলেন, আমার খালাতো ভাই মোস্তফা ছোট বেলায় পূর্বাচলে ৩ কাঠা প্লটটি আমার নামে করে দেন। কিন্তু বিষয়টি আমি জানতাম না। যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মহলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপর গত আড়াই বছর আগে আমার খালাতো ভাই মোস্তফার নামে পূর্বাচলের ৩ কাঠা প্লটটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাঠক এখানেই শেষ নয় জহিরের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছি।


প্রিন্ট