ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাগুরা-২ আসনের এমপি ও সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-কে নাগরিক সংবর্ধনা প্রাইভেট না পড়লে অর্ধবার্ষিকে নম্বর কেটে দেওয়ার হুমকি শিক্ষকের পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের চাঁদা-টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দলীয় হলেও ছাড় নয়- ডাক‌, টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে- প্রশাসক শওকত হোসেন খালেদা জিয়ার বাড়ী ভাংগা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বাফার ৫টি গুদাম নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ! কাঁঠালিয়ায় ইয়াবা কারবারি যুবলীগের সদস্যের কামড়ে এসআই আহত, আটক ১ রাজাপুরে ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক দুই জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজাপুরে তিন নারীকে পিটিয়ে আহত নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রীর সাথে জাইকার প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার ১১ আসনের ৮টিতেই বিএনপির জয়

মোঃ শাফায়েত হোসেন সুজন মুন্সী,মুরাদনগর (কুমিল্লা)-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছেন দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। অপর তিনটি আসনের একটি পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, একটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপিরই সদ্য বহিষ্কৃত নেতা; দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আসনভিত্তিক ফলাফল
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা):
বিজয়ী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (বিএনপি) — ১,৪০,৩০৫ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুজ্জামান বাহালুল (জামায়াত) — ৯০,৪৯৯ ভোট।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):
বিজয়ী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া (বিএনপি) — ৭৬,২৬৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবদুল মতিন (স্বতন্ত্র) — ৬২,৩৮৫ ভোট।
নাজিম উদ্দিন (জামায়াত) — ৫০,১৩৬ ভোট।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):
বিজয়ী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (বিএনপি) — ১,৫৮,০৯৩ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইউসুফ সোহেল (জামায়াত) — ১,০৪,৫৮০ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার):
বিজয়ী হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি) — ১,৬০,৫২৭ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ. জসিম উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ) — ৪৯,৬৪৪ ভোট।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):
বিজয়ী হাজী জসিম উদ্দিন (বিএনপি) — ১,৩৪,৪৮৫ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোবারক হোসাইন (জামায়াত) — ১,২৪,৫৪৭ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ):
বিজয়ী মনিরুল হক চৌধুরী (বিএনপি) — ১,৯৯,৩৭২ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (জামায়াত) — ১,১৪,২২৬ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):
বিজয়ী আতিকুল আলম শাওন (স্বতন্ত্র) — ৯০,৮১৯ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি) — ৪৭,৯২৫ ভোট।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া):
বিজয়ী জাকারিয়া তাহের সুমন (বিএনপি) — ১,৬৭,৪৮৬ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল (জামায়াত) — ৪১,২০৯ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ):
বিজয়ী মো. আবুল কালাম (বিএনপি) — ১,৬৮,১০৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক সরোয়ার আলম সিদ্দিকী (জামায়াত) — ১,১৩,৪৫৪ ভোট।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই):
বিজয়ী মোবাশ্বের আলম ভূইয়া (বিএনপি) — ১,১০,৬৯০ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (জামায়াত) — ৭৫,২৮৪ ভোট।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম):
বিজয়ী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (জামায়াত) — ১,৩৩,৩০৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামরুল হুদা (বিএনপি) — ৭৬,৬৩৮ ভোট।

ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোটগণনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন গণভোটেও অংশগ্রহণ করেন ভোটাররা।

ফলাফল প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র খোলা হয়। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল প্রকাশিত হতে থাকে। রাত ১১টার মধ্যেই জেলার ১১টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানা যায়।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরা-২ আসনের এমপি ও সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-কে নাগরিক সংবর্ধনা

কুমিল্লার ১১ আসনের ৮টিতেই বিএনপির জয়

আপডেট টাইম : ০১:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ শাফায়েত হোসেন সুজন মুন্সী,মুরাদনগর (কুমিল্লা)-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছেন দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। অপর তিনটি আসনের একটি পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, একটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপিরই সদ্য বহিষ্কৃত নেতা; দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আসনভিত্তিক ফলাফল
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা):
বিজয়ী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (বিএনপি) — ১,৪০,৩০৫ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুজ্জামান বাহালুল (জামায়াত) — ৯০,৪৯৯ ভোট।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):
বিজয়ী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া (বিএনপি) — ৭৬,২৬৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবদুল মতিন (স্বতন্ত্র) — ৬২,৩৮৫ ভোট।
নাজিম উদ্দিন (জামায়াত) — ৫০,১৩৬ ভোট।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):
বিজয়ী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (বিএনপি) — ১,৫৮,০৯৩ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইউসুফ সোহেল (জামায়াত) — ১,০৪,৫৮০ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার):
বিজয়ী হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি) — ১,৬০,৫২৭ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ. জসিম উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ) — ৪৯,৬৪৪ ভোট।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):
বিজয়ী হাজী জসিম উদ্দিন (বিএনপি) — ১,৩৪,৪৮৫ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোবারক হোসাইন (জামায়াত) — ১,২৪,৫৪৭ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ):
বিজয়ী মনিরুল হক চৌধুরী (বিএনপি) — ১,৯৯,৩৭২ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (জামায়াত) — ১,১৪,২২৬ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):
বিজয়ী আতিকুল আলম শাওন (স্বতন্ত্র) — ৯০,৮১৯ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি) — ৪৭,৯২৫ ভোট।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া):
বিজয়ী জাকারিয়া তাহের সুমন (বিএনপি) — ১,৬৭,৪৮৬ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল (জামায়াত) — ৪১,২০৯ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ):
বিজয়ী মো. আবুল কালাম (বিএনপি) — ১,৬৮,১০৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক সরোয়ার আলম সিদ্দিকী (জামায়াত) — ১,১৩,৪৫৪ ভোট।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই):
বিজয়ী মোবাশ্বের আলম ভূইয়া (বিএনপি) — ১,১০,৬৯০ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (জামায়াত) — ৭৫,২৮৪ ভোট।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম):
বিজয়ী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (জামায়াত) — ১,৩৩,৩০৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামরুল হুদা (বিএনপি) — ৭৬,৬৩৮ ভোট।

ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোটগণনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন গণভোটেও অংশগ্রহণ করেন ভোটাররা।

ফলাফল প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র খোলা হয়। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল প্রকাশিত হতে থাকে। রাত ১১টার মধ্যেই জেলার ১১টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানা যায়।