ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলা পাঁচ নম্বর কাপাসাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমকে নব্য জামাত আওয়ামীলিগের পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়েছে বলে, এলাকায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
নেপথ্য ৫ নম্বর কাপাসাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরাফতউল্লাহ ঝন্টুর ইন্ধনে এবং সার্বিক সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছেন। এবং এই হত্যা কান্ডের নেপথ্যে কাজ করেছেন ঝন্টু চেয়ারম্যানের ছোট ভাই তুষার আলী এমনটাই অভিযোগ করেন,নিহত কাশেমেের ছেলে মেহেদী হাসান বোন, এবং মা।
তারা বলেন বেশ কিছুদিন আগে ৫ নম্বর কাপাসটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঝন্টু ও তার ছোট ভাই তুসার সহ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি দ্বয়ের উপস্থিতিতে কুল্যাগাছা বাজারে, এই আবুল কাশেম সহ স্থানীয় বিএনপির নেতা এবং কর্মীদের ভীতি প্রদর্শনের জন্য ঢাল ভেলা সোরকি দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেন।নিহত আবুল কাশেমের ছেলে মেহেদী হাসান,আরও অভিযোগ করেন এই চেয়ারম্যান এর আগেও তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৫/৩/২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় ফেসবুকের একটা কমেন্ট কে কেন্দ্র করে এই আবুল কাশেমকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, কুল্যগাছা বাজার থেকে মোতালেবের বাড়ির পাশে এবং সেখানে ওত পেতে থাকা খুনিরা কাশেম কে একা পেয়ে একটি দোকান ঘর থেকে কিছু দূরে নিয়ে তাকে
বাঁশের লাঠি, লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করলে, আবুল কাশেম মাটিতে পড়ে যায়। এমত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে ঐ সময় লিমন নামের একজন হাতুড়ি দিয়ে অন্ডকোষ আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যায়।
আজিজ,লোহার রড দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্য আবুল কাসেমের অন্ডকোষ লক্ষ করে বাড়ি মারে ও এলোপাতাড়ি মারতে থাকে এবং মতিয়ার, মোতালেব, মজিদ, মোশারেফ,মিরাজ,
আবু বাক্কা,নায়েব আলী, আব্দুল আলীম, নাফিজ,তুষার মিয়া ও অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জন লোহার রড,বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য এলোপাতাড়ি ভাবে মারতে থাকে।
মারার পর এক পর্যায়ে আবুল কাসেম কে লোকজন অজ্ঞান অবস্থায় জঙ্গল থেকে তুলে নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পৌছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এবং এই ঘটনা আশিক, সেলিম সহ আরো তিনজন আহত হন,এদের মধ্যে নাজির নামের একজনের হাতের হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে জানান।
এই ঘটনার বিষয় আসামীদের মধ্যে থেকে ঝন্টু চেয়ারম্যান ও আব্দুল গনির মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন দু:খিত বলে জানান।
এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে নিহত আবুল কাসেমের ছেলে মেহেদী হাসান গত ২৬/৩/২৬ তারিখ রাত ০৯.২৫ ঘটিকার সময় হরিনাকুন্ডু থানায় চেয়ারম্যানকে হুকুমের আসামী করে ১৪ জনকে সরাসরি আসামী ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে এজাহার দায়ের করেন।
যাহা হরিনাকুন্ডু থানার মামলা নং ২০
ধারা,১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০২/৩০৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড।
এ বিষয় হরিনাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান কে মুঠোফোনে খুনের ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলা হয়েছে,
এই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই গিয়াস উদ্দিন
আসামীদের গ্রেফতার কার্য্য চলমান কিন্তু আসামীরা সবাই পলাতক রয়েছে।
তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই গিয়াস উদ্দিন কে আসামীদের গ্রেফতার করার বিষয় মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আসামী ধরার জন্য আমি সহ তিন জন এস আই ও একজন এ এস আই সহ আমরা কাজ করছি কিন্তু আসামীদের মোবাইল বন্ধ এবং পলাতক থাকায় আমরা আসামীদের গ্রেফতার করতে পারছি না।
এদিকে লাশ দাফের আগে গোসল করানো সময় যারা ছিলেন তাদের কথা অনুযায়ী তারা মাথায়, ঘাড়ে, অন্ডকোষ লোহার রড বাঁশের লাঠির আঘাতের চিহ্ন পায়,এবং অন্ডকোষে ও একটু উপরে হাতুড়ি দিয়ে মারার আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় বলে জানিয়েছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের মা,বোন,স্ত্রী,ছেলে মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেছে তার পিতা আবুল কাসেম কে খুন করা হয়েছে ৪/৫ দিন। থানায় মামলা করেছি ২৬/৩/২৬ তারিখে অথচ এখনো পর্যন্ত আসামী ধরতে, আসামিদের বাড়িতে পুলিশ একবারও আসেনি।
এই দিকে খুনের ঘটনা কে কেন্দ্র করে যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তাদের পরিবারের অভিযোগ আসামী হওয়ার কারণ বাড়িতে কেউ না থাকায় বি এন পির কর্মীরা তাদের বাড়ি ঘর দোকান ঘর সহ ভাংচুর করেছে বিভিন্ন রকমের ক্ষয়ক্ষতি করছে বলে আসামীদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলেন তাদের উপর জুলুম নির্যাতন করছে খুন হওয়া পক্ষের লোকজন।
এই হত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থতির নিয়ন্ত্রণে জন্য ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কুল্যগাছা সদরউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
অসহায় পরিবার তার, বাবা,ছেলে, ভাই, স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন।
এস,এম শাহীন রেজা সোহরাব : 











