মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৫ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহত মো. রাব্বি মন্ডল (৩২) পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মো. নজরুল মন্ডলের ছেলে তিনি পেশায় বালু ব্যবসায়ী। তার পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাব্বি মন্ডল ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বির গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার তাদের ফোন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা বাড়িতে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পর ফারজানা আক্তার তার বাবার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে চলে যান বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা জব্দ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা নজরুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “রাব্বি ১০ থেকে ১২ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। আজ সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওলি মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
প্রিন্ট
ফারুক আহমেদ : 























