দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লটারির মাধ্যমে বদলি করে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে পদায়ন করা হয়েছে। সারাদেশের ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে তাদের বাছাই করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে নির্বাচিতদের দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনা করে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পদায়ন করা হবে বলে জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
লটারিতে নির্বাচিত ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রার হলেন— রিপন চাকমা (ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম), আমিনা বেগম (যশোর সদর), শর্মিলা আহমেদ সম্পা (ঘিওর, মানিকগঞ্জ), আলী আজগর (মুন্সীগঞ্জ সদর), রাজীব মজুমদার (গোপালপুর, টাঙ্গাইল), শিংমং থোয়াই (বাঁশবাড়িয়া, চট্টগ্রাম), মনিষা রায় (পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও), মোহাম্মদ হানিফ (দাউদকান্দি, কুমিল্লা), নাজনীন জাহান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা), এস এম আবু মুসা (নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মোহাম্মদ মাসুম (নাজিরপুর, পিরোজপুর), গোবিন্দ সাহা (মনোহরদী, নরসিংদী), রাশেদ মল্লিক (কুষ্টিয়া সদর), অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম), অজয় কুমার সাহা (চুয়াডাঙ্গা সদর), ফরিদা আক্তার (চিতলমারী, চাঁদপুর), অমাইক বাবু (সাতক্ষীরা সদর) এবং গোলাম মর্তুজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)।
সিন্ডিকেট ভাঙতেই লটারির উদ্যোগ
পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঢাকার সব কার্যালয়ে কাজের চাপ এক রকম নয়। তাই নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পদায়ন করা হবে; যাতে যে কর্মকর্তা যে পরিমাণ চাপ নিতে পারবেন, তাকে সে অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া যায়।”
সাব-রেজিস্ট্রারদের এই বিশেষ বদলি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “পাবলিক পারসেপশনে (জনগণের ধারণায়) যেসব জায়গাকে দুর্নীতির আখড়া বলে মনে করা হয়, মূলত সেসব জায়গায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই এই প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।”
রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই উদ্যোগ একটি শুরুর প্রক্রিয়া মাত্র এবং তা চলমান থাকবে। লটারিতে নির্বাচিতদের সাধারণত সার্ভিস রুল অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কেউ যদি দুর্নীতিতে জড়ান, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
খালি পদে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান
বর্তমানে সারাদেশে ২৩২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত রয়েছেন এবং ১৩৯টি পদ খালি আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, শূন্য পদগুলোতে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিগত ছয় মাসে এ ধরনের অভিযোগে প্রায় ১০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রিন্ট
মঞ্জরুল ইসলাম রতন: 











