ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামায়াত-ফ্যাসিস্ট চক্রের যোগসাজশে গভীর চক্রান্ত! দারুস সালামে চাঁদাবাজির অভিযোগে অর্থদণ্ড, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ! উপ-সচিবের ভাই ফারুক আহমেদকে সার ডিলার নিয়োগ, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এর অসীম দৌরাত্ম! মাগুরায় দীর্ঘ ১৪ বছর জাল সনদপত্র ও বয়স কমিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সরকারি চাকরির অভিযোগ মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি থেকে যুক্ত হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ বই: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার শারীরিক অসুস্থার জন্য বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে পারেননি আ.লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জামায়াতের আমির মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: রাশেদ খান মাগুরাতে ২৮ হাজার ইয়াবা ও ১৯ লক্ষ টাকা সহ এসআরবির হাতে গ্রেফতার এক
স্বাস্থ্য খাতে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’র ভূমিকায় প্রতিমন্ত্রী:

জামায়াত-ফ্যাসিস্ট চক্রের যোগসাজশে গভীর চক্রান্ত!

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার যখন কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই কায়েমি স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত একটি চক্র পুরো স্বাস্থ্য সেক্টরকে গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবের অপসারণের পর পর্দার অন্তরালে থেকে এই নাশকতার মূল খেলোয়াড় হিসেবে খোদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিজে কলকাঠি নাড়ছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য এখন যেকোনো মূল্যে পূর্ণমন্ত্রী হওয়া; আর এই উচ্চাভিলাষ ও কায়মি স্বার্থ হাসিল করতেই তিনি স্বাস্থ্য খাতকে অস্থিতিশীল করার এক অশুভ খেলায় মেতে উঠেছেন।

সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি চিকিৎসকদের দাঁড় করানোর অপকৌশল:
সবচেপড আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর সিন্ডিকেট অত্যনমশ চতুরতার সাথে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি সাধারণ চিকিৎসকদের দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রী নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে পেশাগত পরিচয় ও প্রভাবকে সুকৌশলে অপব্যবহার করছেন। তিনি পেশাজীবী সংগঠনের কতিপয় নেতা, বিশেষ করে জামায়াতপন্থী এবং ৫ আগস্টের পর বেকায়দায় পড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী চিকিৎসকদের সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, এই চিকিৎসকদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। একদিকে চিকিৎসকদের মধ্যে উসকানি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে সাংবাদিক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ চিকিৎসকদের ওপর গিয়ে পড়ছে। আর এই কৃত্রিম মুখোমুখি অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নেপথ্যে বসে কায়মি স্বার্থান্বেষী চক্রটি নিজেদের দুর্নীতি ও আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন ও সাংবিধানিক যোগ্যতার প্রশ্ন:
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য তথা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ বা নাগরিকত্ব অর্জন করলে তিনি পদ ধরে রাখার যোগ্যতা হারান। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ‘বসন্তের কোকিল’ হয়ে তিনি দেশে আসেন এবং নির্বাচনকালে হলফনামায় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন রেখে এমপি ও পরবর্তীকালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। পরিবার বিদেশে অবস্থান করায় চিকিৎসকদের পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

ফাইল আটকে রাখা, অনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন:
অভিযোগ রয়েছে, নিজের অনৈতিক ও অবৈধ স্বার্থ হাসিল না হলে জরুরি ও স্পর্শকাতর স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি আটকে রাখা প্রতিমন্ত্রীর নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও ক্রয় প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে চরম বিলম্ব ঘটছে এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। অবৈধ আবদার পূরণ না হলেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে দুর্ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন তদবিরবাজদের সময় দিতে গিয়ে অফিশিয়াল ফাইল জমিয়ে রাখার কারণে স্বাস্থ্য খাতের গতিশীলতা, সংস্কার ও স্বচ্ছতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিতর্কিত অতীত ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন:
শুধু প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা রয়েছে। গণমাধ্যমের পুরানো সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে চরম অনিয়ন্ত্রিত ও বিতর্কিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অতীতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটানোর মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যাতে পরবর্তীতে একজন ব্যক্তি প্রাণ হারান। এমন একজন চরম বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি কীভাবে স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার চক্রান্ত করছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য সমালোচনা ও তোয়াক্কা না করার নীতি:
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরকারের ভেতরে থেকেও মন্ত্রণালয়ের প্রধান বা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গৃহীত জনবান্ধব পদক্ষেপের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন এবং ফ্যাসিস্টদের দোসর ঠিকাদার ও চিকিৎসকদের পুনর্বাসনে তৎপর রয়েছেন। এমনকি ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মন্ত্রীত্ব থাকছে না’—এমন অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চরম অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক চক্র ও পলাতক ইউটিউবারদের যোগসাজশ:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন তৃণমূলে গিয়ে সরকারি হাসপাতালের সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছেন, তখন এই সিন্ডিকেট আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। জামায়াত ও ফ্যাসিস্ট সমর্থিত কতিপয় চিকিৎসক ও প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের উসকে দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়া ও কেনা মিডিয়া সেলের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে দেশের ভেতরের এই চক্রটির সাথে বিদেশে অবস্থানরত বিতর্কিত ইউটিউবারদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের বড় অংকের মাসোহারা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর আসল উদ্দেশ্য কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন বড় প্রশ্ন তুলছেন—স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই ধরনের আচার-আচরণ, কাঙ্ক্ষিত সেবা বাদ দিয়ে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার মরিয়া দৌড়ঝাঁপ এবং চক্রান্তের আসল উদ্দেশ্য কী? তিনি কি সরকারে থেকে সরকারকে বারবার বিব্রত করতেই এই অপকৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন? নাকি নিজের অপরাধ ঢাকতে ও অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে জামায়াত ও ফ্যাসিস্ট চক্রকে পুনর্বাসিত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করছেন? সরকারের ভেতরে থাকা এমন ‘ঘরের শত্রু বিভীষণদের’ বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সরকারের সামগ্রিক অর্জন ও স্বাস্থ্য খাতের গতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়বে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-ফ্যাসিস্ট চক্রের যোগসাজশে গভীর চক্রান্ত!

স্বাস্থ্য খাতে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’র ভূমিকায় প্রতিমন্ত্রী:

জামায়াত-ফ্যাসিস্ট চক্রের যোগসাজশে গভীর চক্রান্ত!

আপডেট টাইম : ০২:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার যখন কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই কায়েমি স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত একটি চক্র পুরো স্বাস্থ্য সেক্টরকে গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবের অপসারণের পর পর্দার অন্তরালে থেকে এই নাশকতার মূল খেলোয়াড় হিসেবে খোদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিজে কলকাঠি নাড়ছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য এখন যেকোনো মূল্যে পূর্ণমন্ত্রী হওয়া; আর এই উচ্চাভিলাষ ও কায়মি স্বার্থ হাসিল করতেই তিনি স্বাস্থ্য খাতকে অস্থিতিশীল করার এক অশুভ খেলায় মেতে উঠেছেন।

সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি চিকিৎসকদের দাঁড় করানোর অপকৌশল:
সবচেপড আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর সিন্ডিকেট অত্যনমশ চতুরতার সাথে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি সাধারণ চিকিৎসকদের দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রী নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে পেশাগত পরিচয় ও প্রভাবকে সুকৌশলে অপব্যবহার করছেন। তিনি পেশাজীবী সংগঠনের কতিপয় নেতা, বিশেষ করে জামায়াতপন্থী এবং ৫ আগস্টের পর বেকায়দায় পড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী চিকিৎসকদের সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, এই চিকিৎসকদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। একদিকে চিকিৎসকদের মধ্যে উসকানি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে সাংবাদিক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ চিকিৎসকদের ওপর গিয়ে পড়ছে। আর এই কৃত্রিম মুখোমুখি অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নেপথ্যে বসে কায়মি স্বার্থান্বেষী চক্রটি নিজেদের দুর্নীতি ও আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন ও সাংবিধানিক যোগ্যতার প্রশ্ন:
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য তথা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ বা নাগরিকত্ব অর্জন করলে তিনি পদ ধরে রাখার যোগ্যতা হারান। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ‘বসন্তের কোকিল’ হয়ে তিনি দেশে আসেন এবং নির্বাচনকালে হলফনামায় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন রেখে এমপি ও পরবর্তীকালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। পরিবার বিদেশে অবস্থান করায় চিকিৎসকদের পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

ফাইল আটকে রাখা, অনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন:
অভিযোগ রয়েছে, নিজের অনৈতিক ও অবৈধ স্বার্থ হাসিল না হলে জরুরি ও স্পর্শকাতর স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি আটকে রাখা প্রতিমন্ত্রীর নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও ক্রয় প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে চরম বিলম্ব ঘটছে এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। অবৈধ আবদার পূরণ না হলেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে দুর্ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন তদবিরবাজদের সময় দিতে গিয়ে অফিশিয়াল ফাইল জমিয়ে রাখার কারণে স্বাস্থ্য খাতের গতিশীলতা, সংস্কার ও স্বচ্ছতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিতর্কিত অতীত ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন:
শুধু প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা রয়েছে। গণমাধ্যমের পুরানো সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে চরম অনিয়ন্ত্রিত ও বিতর্কিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অতীতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটানোর মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যাতে পরবর্তীতে একজন ব্যক্তি প্রাণ হারান। এমন একজন চরম বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি কীভাবে স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার চক্রান্ত করছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য সমালোচনা ও তোয়াক্কা না করার নীতি:
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরকারের ভেতরে থেকেও মন্ত্রণালয়ের প্রধান বা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গৃহীত জনবান্ধব পদক্ষেপের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন এবং ফ্যাসিস্টদের দোসর ঠিকাদার ও চিকিৎসকদের পুনর্বাসনে তৎপর রয়েছেন। এমনকি ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মন্ত্রীত্ব থাকছে না’—এমন অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চরম অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক চক্র ও পলাতক ইউটিউবারদের যোগসাজশ:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন তৃণমূলে গিয়ে সরকারি হাসপাতালের সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছেন, তখন এই সিন্ডিকেট আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। জামায়াত ও ফ্যাসিস্ট সমর্থিত কতিপয় চিকিৎসক ও প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের উসকে দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়া ও কেনা মিডিয়া সেলের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে দেশের ভেতরের এই চক্রটির সাথে বিদেশে অবস্থানরত বিতর্কিত ইউটিউবারদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের বড় অংকের মাসোহারা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর আসল উদ্দেশ্য কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন বড় প্রশ্ন তুলছেন—স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই ধরনের আচার-আচরণ, কাঙ্ক্ষিত সেবা বাদ দিয়ে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার মরিয়া দৌড়ঝাঁপ এবং চক্রান্তের আসল উদ্দেশ্য কী? তিনি কি সরকারে থেকে সরকারকে বারবার বিব্রত করতেই এই অপকৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন? নাকি নিজের অপরাধ ঢাকতে ও অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে জামায়াত ও ফ্যাসিস্ট চক্রকে পুনর্বাসিত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করছেন? সরকারের ভেতরে থাকা এমন ‘ঘরের শত্রু বিভীষণদের’ বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সরকারের সামগ্রিক অর্জন ও স্বাস্থ্য খাতের গতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়বে।


প্রিন্ট