ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি |
ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত বোরো চাষিদের বাদ দিয়ে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে সরকারের কৃষকবান্ধব ধান ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ তিন টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারেন। তবে নলছিটিতে লটারিতে মনোনীত কৃষকদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলছিটিতে ১ হাজার ৬৫৯ জন কৃষকের আবেদনের বিপরীতে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা লটারির মাধ্যমে ২২৯ জন কৃষককে মনোনীত করেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বোরো চাষিদের তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।
লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা যাচাই করে বেশ কিছু অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এক এলাকার কৃষক অন্য এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। একই মোবাইল নম্বর একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। এছাড়া তালিকায় সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই গ্রামের পাঁচজন কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে খাদ্য গুদামের অনিয়মিত স্টাফরা ধান সরবরাহ করছেন। অথচ যাদের নামে ধান বিক্রি দেখানো হচ্ছে, তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। এমনকি বরাদ্দপত্রে কৃষকের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে।

প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত না করে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এই চক্র মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা সাধারণ কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। কেউ ধান নিয়ে গেলে ধানের গুণগতমান নিয়ে আপত্তি তুলে তা ফেরত দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে কৃষকদের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করতে হচ্ছে। এছাড়া গুদামে ধান খালাসের জন্য শ্রমিকদের নামে প্রতি জনের কাছ থেকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত নলছিটি উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধানের গুণগতমান যাচাইয়ের নামে নগদ অর্থ গ্রহণের তথ্য সঠিক নয়। তবে পণ্য খালাসের জন্য শ্রমিকদের খুশি করতে কিছু বকশিস নেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ লিখিত আকারে পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৪:১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি |
ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত বোরো চাষিদের বাদ দিয়ে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে সরকারের কৃষকবান্ধব ধান ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ তিন টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারেন। তবে নলছিটিতে লটারিতে মনোনীত কৃষকদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলছিটিতে ১ হাজার ৬৫৯ জন কৃষকের আবেদনের বিপরীতে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা লটারির মাধ্যমে ২২৯ জন কৃষককে মনোনীত করেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বোরো চাষিদের তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।
লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা যাচাই করে বেশ কিছু অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এক এলাকার কৃষক অন্য এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। একই মোবাইল নম্বর একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। এছাড়া তালিকায় সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই গ্রামের পাঁচজন কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে খাদ্য গুদামের অনিয়মিত স্টাফরা ধান সরবরাহ করছেন। অথচ যাদের নামে ধান বিক্রি দেখানো হচ্ছে, তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। এমনকি বরাদ্দপত্রে কৃষকের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে।

প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত না করে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এই চক্র মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা সাধারণ কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। কেউ ধান নিয়ে গেলে ধানের গুণগতমান নিয়ে আপত্তি তুলে তা ফেরত দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে কৃষকদের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করতে হচ্ছে। এছাড়া গুদামে ধান খালাসের জন্য শ্রমিকদের নামে প্রতি জনের কাছ থেকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত নলছিটি উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধানের গুণগতমান যাচাইয়ের নামে নগদ অর্থ গ্রহণের তথ্য সঠিক নয়। তবে পণ্য খালাসের জন্য শ্রমিকদের খুশি করতে কিছু বকশিস নেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ লিখিত আকারে পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট