ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘জল তরঙ্গ’ সুইমিংপুলের আড়ালে চলছে রমরমা দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ ও দখলচেষ্টার অভিযোগে দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুমতি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাগুরায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত- ১ জন কুমিল্লার শ্রীকাইলে ধুমছে চলছে ড্রেজিং, হুমকিতে কৃষিজমি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে বাউবি উপাচার্যের শুভেচ্ছা জয়পুরহাটে অনলাইন জুয়া খেলার সময় যুবক গ্রেপ্তার, ১৯ মোবাইলসহ জব্দ ১ হাজার সিমকার্ড একই সময় বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশ: মহম্মদপুরে উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নাটেশ্বরে অবৈধভাবে বালু ভরাট, দুইজনকে আটক ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা রাকাব’র যুতসই উদ্যোগে বেড়েছে আমানত কমেছে লোকসান

রাকাব’র যুতসই উদ্যোগে বেড়েছে আমানত কমেছে লোকসান

মোঃ রমজান আলী |
এক বছরে আর্থিক বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি হয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব)। ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৮৫৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। একই সময়ে নিট লোকসান কমেছে ১৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনার জোনভিত্তিক তদারকি, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৮৭ সালের ১৫ মার্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে রাকাব। ব্যাংক সূত্রের দাবি, অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গভর্নর সভাতেও রাকাবের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

রাকাবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৮৫৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ব্যাংকের দাবি, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ অর্জন। অন্যদিকে, গত অর্থবছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ২৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে নিট লোকসান কমেছে ১৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের (সিএল) বিপরীতে প্রভিশনের পরিমাণও কমেছে। গত অর্থবছরে প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ৭০২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রভিশনের পরিমাণ কমেছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও রাকাবের সিএল প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে এ দাবির তুলনামূলক পরিসংখ্যানের বিস্তারিত উৎস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।
রাকাব সূত্র আরও জানায়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করেছে ব্যাংকটি। এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারের ২২৭ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

ব্যাংকের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন অর্গানোগ্রাম, গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা ও মোটরসাইকেল ঋণ নীতিমালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের আওতায় নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। এসব পদক্ষেপ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

তবে ব্যাংকের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা এসব উদ্যোগে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাকাবের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা অতীতের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বদলি বাণিজ্যসহ অনৈতিক সুবিধা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ায় ওই গোষ্ঠী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। ওই কর্মকর্তাদের দাবি, রাকাবে গত ৩৮ বছরে প্রায় ৬০ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে মব বিশৃঙ্খলা, অপপ্রচার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোর্তজা অসুস্থ থাকায় এবং মহাব্যবস্থাপক তাজ উদ্দিন ছুটিতে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্টাফ অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘রাকাব উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘গুটিকয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চান রাকাবের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব বাধা অতিক্রম করে রাকাব সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিক সূচকে সাম্প্রতিক এ অগ্রগতি ধরে রেখে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় রাকা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘জল তরঙ্গ’ সুইমিংপুলের আড়ালে চলছে রমরমা দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য

রাকাব’র যুতসই উদ্যোগে বেড়েছে আমানত কমেছে লোকসান

আপডেট টাইম : ০২:১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ রমজান আলী |
এক বছরে আর্থিক বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি হয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব)। ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৮৫৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। একই সময়ে নিট লোকসান কমেছে ১৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনার জোনভিত্তিক তদারকি, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৮৭ সালের ১৫ মার্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে রাকাব। ব্যাংক সূত্রের দাবি, অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গভর্নর সভাতেও রাকাবের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

রাকাবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৮৫৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ব্যাংকের দাবি, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ অর্জন। অন্যদিকে, গত অর্থবছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ২৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে নিট লোকসান কমেছে ১৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের (সিএল) বিপরীতে প্রভিশনের পরিমাণও কমেছে। গত অর্থবছরে প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ৭০২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রভিশনের পরিমাণ কমেছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও রাকাবের সিএল প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে এ দাবির তুলনামূলক পরিসংখ্যানের বিস্তারিত উৎস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।
রাকাব সূত্র আরও জানায়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করেছে ব্যাংকটি। এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারের ২২৭ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

ব্যাংকের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন অর্গানোগ্রাম, গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা ও মোটরসাইকেল ঋণ নীতিমালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের আওতায় নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। এসব পদক্ষেপ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

তবে ব্যাংকের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা এসব উদ্যোগে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাকাবের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা অতীতের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বদলি বাণিজ্যসহ অনৈতিক সুবিধা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ায় ওই গোষ্ঠী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। ওই কর্মকর্তাদের দাবি, রাকাবে গত ৩৮ বছরে প্রায় ৬০ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে মব বিশৃঙ্খলা, অপপ্রচার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোর্তজা অসুস্থ থাকায় এবং মহাব্যবস্থাপক তাজ উদ্দিন ছুটিতে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্টাফ অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘রাকাব উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘গুটিকয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চান রাকাবের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব বাধা অতিক্রম করে রাকাব সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিক সূচকে সাম্প্রতিক এ অগ্রগতি ধরে রেখে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় রাকা।


প্রিন্ট