ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা লসমনগঞ্জ এলাকায় আবাসিক বাড়িতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে তিতাস গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাতেহা আহমেদ কিন্ডারগার্টেন স্কুল সংলগ্ন রিনা বেগমের মালিকানাধীন বাড়িতে এ অনিয়ম চলছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দৈনিক খবর বাংলাদেশ এর ক্রাইম ফোকাস নামক অনুসন্ধানী প্রতিনিধি টিম সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন।
লসমানগঞ্জ এলাকার একটি মার্কেটের সরু রাস্তা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় টিনশেড ঘরগুলোর শেষ প্রান্তে একটি কক্ষে ‘হাজী কাচ্চি ডাইন’ নামের বিরিয়ানি দোকানের যাবতীয় রান্নার কাজ চলছে। উক্ত কক্ষে সংযোগ বিহীন একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দেখা গেলেও বাণিজ্যিক চুলার নিচে তিতাস গ্যাসের সংযোগ পাইপ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
ঘরটি ভাড়া নেওয়া জাহাঙ্গীর তালুকদার জানান, তিনি রিনা বেগমের কাছ থেকে গ্যাস সংযোগ সহ মাসিক ১৫ হাজার টাকায় ঘরটি ভাড়া নিয়েছেন। গ্যাস সংযোগটি বৈধ না অবৈধ, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেনা বলে দাবি করেন।
টিনশেড কক্ষের পাশেই রিনা বেগমের মালিকানাধীন চারতলা একটি ভবন রয়েছে বলে দেখা যায়। অনুসন্ধানী টিম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চোখে পড়ে প্রতিটি তলায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে। ভবনের ছাদে কয়েকটি পরিবার বসবাস করে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করছে প্রমান পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ছাদে একটি কারখানার অস্তিত্ব মেলে সেখানে অবৈধভাবে সরকারি গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে ভবনের মালিক রিনা বেগমের মুঠোফোনে গ্যাস সংযোগের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি বরং প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
রিনা বেগমের পক্ষে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী ব্যক্তি ফোন করে টাকা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ দেন যার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমান নেই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন আবাসিক বাড়ি ও কারখানায় বাণিজ্যিক ভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান না থাকায় এসব সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে সিস্টেম লসের মাধ্যমে শতকোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সরকার। এতে বৈধ গ্রাহকরাও গ্যাস সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয় এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে। দ্রুত অভিযান জোরদার করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা না গেলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে।
প্রিন্ট
এসএম উজ্জ্বল হোসেন : 





















