ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

চেয়ারম্যান,এমডি কারাগারে: মব গোষ্ঠির দখলে মোহনা টিভি!

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টেলিভিশন লিমিটেডে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি কারাগারে থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দখলদার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম. এ. মালেক। প্রশাসনিক সীমা অতিক্রম করে তিনি এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় চীফ এডিটর আবু আবিদ, এইচআর-অ্যাডমিন আনিছুর রহমান এবং সিনিয়র নিউজ এডিটর রাশেদুল হক সহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি দখলদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এর আগে নিয়োগপত্র ছাড়াই একাধিক ব্যক্তিকে আইডি কার্ড দিয়ে “অনলাইন প্রতিনিধি” হিসেবে মাঠে নামানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আইডি ইস্যু শুধুই অনিয়ম নয়, বরং একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও স্পষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চীফ এডিটর আবু আবিদ তার নিজ ভাই আবু আদিলকে নিউজ এডিটর পদে যুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম. এ. মালেক তার নিজের সন্তান মাহফুজ আলম শাহীনকে নির্বাচন কভারেজের অজুহাতে সিনিয়র রিপোর্টার পরিচয়ে আইডি কার্ড দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। আরো অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংগঠিত গ্রুপ নিয়ে নিয়মিত অফিসে অবস্থান, বৈঠক এবং আপ্যায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি মালিকপক্ষ ও কিছু কর্মকর্তাকে অফিসে না আসার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
মোহনা টিভির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠান দখল এবং অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব আইডি কার্ড ইস্যু ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে ভিন্ন ভিন্ন আইডি কার্ড ব্যবহার, পদবির অসঙ্গতি এবং প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজন নিয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির শেযার হোল্ডার দ্বারা গঠিত পরিচালনা পর্ষদ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

চেয়ারম্যান,এমডি কারাগারে: মব গোষ্ঠির দখলে মোহনা টিভি!

আপডেট টাইম : ০৬:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টেলিভিশন লিমিটেডে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি কারাগারে থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দখলদার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম. এ. মালেক। প্রশাসনিক সীমা অতিক্রম করে তিনি এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় চীফ এডিটর আবু আবিদ, এইচআর-অ্যাডমিন আনিছুর রহমান এবং সিনিয়র নিউজ এডিটর রাশেদুল হক সহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি দখলদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এর আগে নিয়োগপত্র ছাড়াই একাধিক ব্যক্তিকে আইডি কার্ড দিয়ে “অনলাইন প্রতিনিধি” হিসেবে মাঠে নামানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আইডি ইস্যু শুধুই অনিয়ম নয়, বরং একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও স্পষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চীফ এডিটর আবু আবিদ তার নিজ ভাই আবু আদিলকে নিউজ এডিটর পদে যুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম. এ. মালেক তার নিজের সন্তান মাহফুজ আলম শাহীনকে নির্বাচন কভারেজের অজুহাতে সিনিয়র রিপোর্টার পরিচয়ে আইডি কার্ড দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। আরো অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংগঠিত গ্রুপ নিয়ে নিয়মিত অফিসে অবস্থান, বৈঠক এবং আপ্যায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি মালিকপক্ষ ও কিছু কর্মকর্তাকে অফিসে না আসার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
মোহনা টিভির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠান দখল এবং অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব আইডি কার্ড ইস্যু ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে ভিন্ন ভিন্ন আইডি কার্ড ব্যবহার, পদবির অসঙ্গতি এবং প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজন নিয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির শেযার হোল্ডার দ্বারা গঠিত পরিচালনা পর্ষদ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।


প্রিন্ট