ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাগুরায় ১৩ লাখ টাকার সাংস্কৃতিক অনুদান নিয়ে বিতর্কিত মির্জাগঞ্জ মাজারের ডাকবাংলোর সংষ্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারক স্মরণে পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির দোয়া ও স্মরণসভা গাজীপুরে ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পেল মানবিক ত্রাণ সহায়তা জয়পুরহাটে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারীসহ আটক-৯ জয়পুরহাটে হামের উপসর্গের গুঞ্জনে উদ্বেগ, ৪ মাসের শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় ৯৪ বছরের বৃদ্ধা নিখোঁজ, থানায় জিডি মির্জাগঞ্জে ২৫ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল সভাপতি পদ প্রত্যাশী গ্রেপ্তার বরখাস্তের পরেও পূর্বের কর্মস্থলে সক্রিয় ঢাকা-২ (সাভার) ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রেজায়ে রাব্বি! মির্জাগঞ্জে আর্জেন্টিনার সমর্থক দালালকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড

ঝুট ব্যবসায় অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে–জিএমপি কমিশনার

রেজাউল মোল্লা |
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের সফলতা ও ব্যরথা তুলে ধরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের( জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, পুলিশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি জনসম্পৃক্ততা। তিনি মঙ্গলবার সকালে জিএমপি হেডকোয়ার্টারের সভা ক্ষকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড়ো ধরণের সাফল্য দেখিয়েছে জিএমপি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে জিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সময়ে মহানগরীর ৮টি থানায় মামলা রুজু হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪টি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ মাসে রুজুকৃত ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: হত্যা ও ডাকাতি মামলা ২০টি হত্যা, ৭টি ডাকাতি ও ২৮টি ছিনতাই মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, বিভিন্ন অভিযান ও মামলা দায়ের করার পাশাপাশি পুলিশ মোট ৩ হাজার ২১৭ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব আসামীর মধ্যে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়াও, অপরাধ দমনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জিএমপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। গত ৬ মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গত ২১ জুন এবং ৩ জুলাই মহানগরীর পৃথক স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের ওপর হুমকির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক নাশকতাকারীকে শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি, টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় শিল্প খাতের অন্যতম উৎস ‘ঝুট’ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকারীদের কঠোরভাবে দমন করেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঝুট ব্যবসায় অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জিএমপি কমিশনার মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিএমপির জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর মাজার বস্তি, কেরানীর টেক এবং এরশাদ নগরের মতো দুর্ভেদ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বস্তিগুলোতে জিএমপি নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তাদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মহানগর এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার সমূলে উৎপাটন করতে গ্যাং সদস্যদের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: তাহেররুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো: বেলায়েত হোসেন, উপ পুলিশ কমিশনারগনসহ উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক গণ।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় ১৩ লাখ টাকার সাংস্কৃতিক অনুদান নিয়ে বিতর্কিত

ঝুট ব্যবসায় অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে–জিএমপি কমিশনার

আপডেট টাইম : ০২:৩০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

রেজাউল মোল্লা |
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের সফলতা ও ব্যরথা তুলে ধরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের( জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, পুলিশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি জনসম্পৃক্ততা। তিনি মঙ্গলবার সকালে জিএমপি হেডকোয়ার্টারের সভা ক্ষকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড়ো ধরণের সাফল্য দেখিয়েছে জিএমপি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে জিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সময়ে মহানগরীর ৮টি থানায় মামলা রুজু হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪টি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ মাসে রুজুকৃত ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: হত্যা ও ডাকাতি মামলা ২০টি হত্যা, ৭টি ডাকাতি ও ২৮টি ছিনতাই মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, বিভিন্ন অভিযান ও মামলা দায়ের করার পাশাপাশি পুলিশ মোট ৩ হাজার ২১৭ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব আসামীর মধ্যে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়াও, অপরাধ দমনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জিএমপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। গত ৬ মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গত ২১ জুন এবং ৩ জুলাই মহানগরীর পৃথক স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের ওপর হুমকির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক নাশকতাকারীকে শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি, টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় শিল্প খাতের অন্যতম উৎস ‘ঝুট’ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকারীদের কঠোরভাবে দমন করেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঝুট ব্যবসায় অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জিএমপি কমিশনার মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিএমপির জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর মাজার বস্তি, কেরানীর টেক এবং এরশাদ নগরের মতো দুর্ভেদ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বস্তিগুলোতে জিএমপি নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তাদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মহানগর এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার সমূলে উৎপাটন করতে গ্যাং সদস্যদের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: তাহেররুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো: বেলায়েত হোসেন, উপ পুলিশ কমিশনারগনসহ উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক গণ।


প্রিন্ট