দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার আরোপিত একটি নতুন শর্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টি (বিজি) বা জামানত রাখার নিয়ম থাকলেও, বাংলাদেশে তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া এবং উচ্চ মূল্যে এলএনজি আমদানি করে ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর ও অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনুমোদন পাওয়ার পরও বেশিরভাগ বিদেশি ও আগ্রহী কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বা অনেকে সরবরাহ করেনি।
খাত সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কার্গোতে ১ লক্ষ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার দর যদি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ ডলার হিসেবে চুক্তি করা হয়, তবে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৯৫৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা)। পেট্রোবাংলার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এর ৩০ শতাংশ জামানত দিতে হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২৮৬ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। যেখানে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে আগেভাগেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা জামানত রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদেশিরা।
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম যেখানে ১৫ ডলারের কাছাকাছি, বা আরো কম সেখানে সরকারের একটি বিশেষ চক্র ২৮ থেকে ২৯ ডলারে চুক্তি করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং করছে। এর ফলে প্রতি ১ লক্ষ টনে সরকারের প্রায় ১০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার এই জাতীয় অপচয় ও অনৈতিক মুনাফা লুটের পেছনে জ্বালানি খাতের একটি বিশেষ চক্র এবং ঊর্ধ্বতন মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সারা বিশ্বে যেখানে ২ থেকে ৫ শতাংশের বেশি সিকিউরিটি নেওয়ার নিয়ম নেই, সেখানে বাংলাদেশের এমন নজিরবিহীন শর্ত আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোকে নিরুৎসাহিত করছে।
এছাড়া জানামতে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৪০ ডলার , ১৫.৯০ ডলার, ২০.৫০ ডলারের প্রস্তাব থাকলেও সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে ২৫-২৯ ডলারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হচ্ছে । এ নৈরাজ্য দেশের স্বার্থে বন্ধ হওয়া উচিত এবং এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও সকলে মনে করেন।
এই পরিস্থিতিতে এলএনজি খাতে চলমান বিশৃঙ্খলা দূর করতে, অস্বাভাবিক ৩০ শতাংশ জামানতের নিয়ম পরিবর্তন করে বৈশ্বিক মানদন্ড অনুযায়ী ২-৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং আমদানির নামে হাজার কোটি টাকা লোপাটকারী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও খাত সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্ট
রোস্তম মল্লিক : 




















