ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও ফের শোন-অ্যারেস্ট শাহেদ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এর কাজ শতভাগ আওয়ামী প্রতিষ্ঠানের দখলে! এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা! গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন গাজীপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত শতাব্দী বাঁধন ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে২৫০ শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শালিখায় নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ৪৭ কর্মদিবসে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল, গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নজির। জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ে বরগুনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ফাঁ/সির আদেশ বহাল রাখায় খুশি আছিয়ার মা ও এলাকাবাসী

এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা!

  • বিশেষ প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : ১২:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৮৫ বার পড়া হয়েছে

নাম তার লোকিত উল্লাহ, বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। আশির দশকে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইটালি শাখায় গরু লালন- পালনের দায়িত্বে ছিলেন। তৎকালীন এম্বেসীর বিশেষ আস্থাভাজন হওয়াতে নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক লোককে ইটালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। যে কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি টাকা পয়সার মালিক বনে যান।
ফলশ্রুতিতে এক সময় ইতালিতে দোকানের ব্যবসা চালু করেন। শিক্ষা-দীক্ষা একেবারে না থাকলেও কুট বুদ্ধি, চাতুর্যতা ও অনিয়ম দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে বেশ সিদ্ধ হস্ত। ৯০ এর দশকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন মুখে মুখে বিএনপি ঘরনার হিসাবে পরিচয় দিতেন পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ আমলে আবার বিশিষ্ট আওয়ামীলীগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সেই সুবাদে ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিবেচনার ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে নাম লেখান। এবং এত বেশি বড় মাপের আওয়ামীলীগার হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন যে, ২০১৭ সাল থেকে শেখ সেলিমের ইশারায় দানবীয় পারভেজ তমাল এর নেতৃত্বে এনআরবিসি ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে বিশিষ্ট আওয়ামীলীগার হিসেবে পরিচালক পদে জায়গা করে নেন। এরপর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও অসাধারণ দুর্নীতিপরায়ণ ব্যাংক বোর্ডের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিচালক। এবং এসব দুর্নীতিপরায়ণ কতিপয় লোকজন মিলে ব্যাংকের সাথেই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য এনআরবি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গড়ে তোলেন। যা বাংলাদেশের সকল আইন কানুনের পরিপন্থী এবং ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!
তারপরেও দানবীয় পারভেজ তমালের সাথে উল্লেখিত লকিত উল্লাহ ও আরও বিতর্কিত ০৯ পরিচালক মিলে উল্লেখিত ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে নিজেদের ব্যাংকের সাথে নিজেরাই ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা নিজেদের ব্যাংক থেকেই লুট করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নগ্ন ব্যাংক লুটের ছক আর দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক ব্যাপক তদন্ত করে বিভিন্ন প্রকার তদন্ত প্রতিবেদন ও এসব দুর্নীতিপরায়ণ পরিচালকদের শাস্তি নিশ্চিতে নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলতে থাকে কিন্তু অদ্যাওবধি তাদেরকে ওই সব তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথভাবে আইনের আওতায় আনা হয়নি। তার কারণ তারা টাকার বিনিময়ে সকলকেই ম্যানেজ করে এসেছে।
আলোচিত এই ব্যক্তি শুধুমাত্র ঢাকার শ্যামলীতেই ৬ থেকে ৭ টি বহুতল ভবন ব্যাংক দুর্নীতির টাকায় নির্মাণ করেছেন বলে জানা যায়। এসব ব্যাংক লুট ও নানামুখী অনিয়ম-দূতের বিষয়ে বর্তমানে দুদক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত চলমান। কিন্তু তারপরেও এই ধূর্ত ও দুর্নীতিবাজ রাখাল বালক বিএনপি’র প্রভাবশালী লোকদের কথা বলে আবারও পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত পর্ষদের সদস্যদেরকে নিয়ে ব্যাংকের দখলে মরিয়া হয়েছেন ও নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি।

তাছাড়া ব্যাংকটির ফরেন্সিক অডিটে যেসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত ও দায়ী হিসেবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে সামান্যতম শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিলেও তাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান এই দুর্নীতিপরায়ণ রাখাল লোকিত উল্লাহ। যে প্রেক্ষিতে এনআরবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওইসব লঘুদণ্ডপ্রাপ্ত গুরুতর আসামি ব্যাংক কর্মকর্তাদেরকে আবারও ব্যাংকে পুনর্বাসন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা যায়। তাছাড়া এই রাখাল বালক লোকিত উল্লাহ ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে পলাতক ব্যাংক লুটেরা তমাল পারভেজের পক্ষে প্রক্সি হিসেবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সেই সময়কার সম্মনায়কদেরকে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে বিশেষ ডোনেশন দিয়ে ব্যাংকটিতে তমাল চক্রের দখলদারিত্ব চলমান রাখতে চেয়েছিলেন। তার কারণ সে নিজেও দানবীয় ওই ব্যাংক লুটেরা চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ।
আলোচিত লোকিত উল্লাহ বর্তমানে বিএনপি’র নোয়াখালী বেল্ট-এর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ এই পরিচয়ে ব্যাংকটিতে আবারও খবরদারি করছে ও বর্তমান পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ চাপে রেখে নিজেকে আবার পুনর্গঠিতব্য পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ পরিচালক হিসেবে দাবি করছেন। এবং নিয়মিত ব্যাংকে গিয়ে বসে তার আগের সে দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবারও বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। তার এই অশুভ চক্রান্ত রুখে দিতে ও পূর্বের সকল দুর্নীতিবাজ পরিচালক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদেরকে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার জন্য খাত সংশ্লিষ্টরা বিশেষভাবে তাগিদ দিচ্ছেন।
তার কারণ তা না হলে এই ব্যাংকটি থেকে অতীতের ধারাবাহিকতার অনিয়ম-দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা সম্ভব হবে না বলে সকলেই সংশয় প্রকাশ করছেন। আর এসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না করে বরাবরের মতো সময় ক্ষেপণ করে তাদেরকে আবার পুনর্বাসনে সহযোগিতার জন্য হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বর্তমান স্বাধীন ও স্বতন্ত্র পর্ষদ গঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র এসব গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার করা ও ব্যাংকটিতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে, যা পরিপালনে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন বলে ধারণা করছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। যাতে করে তাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা সম্পর্কেও বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে!
তাই অতি দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের প্রতিবেদন ও ফরেন্সিকের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অবিলম্বে দায়ী পরিচালকবৃন্দ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ব্যাংকটি থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করে সুশাসন নিশ্চিত না করলে ব্যাংকিং সেক্টরের উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও ফের শোন-অ্যারেস্ট শাহেদ

এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা!

আপডেট টাইম : ১২:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাম তার লোকিত উল্লাহ, বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। আশির দশকে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইটালি শাখায় গরু লালন- পালনের দায়িত্বে ছিলেন। তৎকালীন এম্বেসীর বিশেষ আস্থাভাজন হওয়াতে নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক লোককে ইটালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। যে কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি টাকা পয়সার মালিক বনে যান।
ফলশ্রুতিতে এক সময় ইতালিতে দোকানের ব্যবসা চালু করেন। শিক্ষা-দীক্ষা একেবারে না থাকলেও কুট বুদ্ধি, চাতুর্যতা ও অনিয়ম দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে বেশ সিদ্ধ হস্ত। ৯০ এর দশকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন মুখে মুখে বিএনপি ঘরনার হিসাবে পরিচয় দিতেন পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ আমলে আবার বিশিষ্ট আওয়ামীলীগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সেই সুবাদে ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিবেচনার ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে নাম লেখান। এবং এত বেশি বড় মাপের আওয়ামীলীগার হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন যে, ২০১৭ সাল থেকে শেখ সেলিমের ইশারায় দানবীয় পারভেজ তমাল এর নেতৃত্বে এনআরবিসি ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে বিশিষ্ট আওয়ামীলীগার হিসেবে পরিচালক পদে জায়গা করে নেন। এরপর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও অসাধারণ দুর্নীতিপরায়ণ ব্যাংক বোর্ডের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিচালক। এবং এসব দুর্নীতিপরায়ণ কতিপয় লোকজন মিলে ব্যাংকের সাথেই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য এনআরবি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গড়ে তোলেন। যা বাংলাদেশের সকল আইন কানুনের পরিপন্থী এবং ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!
তারপরেও দানবীয় পারভেজ তমালের সাথে উল্লেখিত লকিত উল্লাহ ও আরও বিতর্কিত ০৯ পরিচালক মিলে উল্লেখিত ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে নিজেদের ব্যাংকের সাথে নিজেরাই ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা নিজেদের ব্যাংক থেকেই লুট করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নগ্ন ব্যাংক লুটের ছক আর দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক ব্যাপক তদন্ত করে বিভিন্ন প্রকার তদন্ত প্রতিবেদন ও এসব দুর্নীতিপরায়ণ পরিচালকদের শাস্তি নিশ্চিতে নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলতে থাকে কিন্তু অদ্যাওবধি তাদেরকে ওই সব তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথভাবে আইনের আওতায় আনা হয়নি। তার কারণ তারা টাকার বিনিময়ে সকলকেই ম্যানেজ করে এসেছে।
আলোচিত এই ব্যক্তি শুধুমাত্র ঢাকার শ্যামলীতেই ৬ থেকে ৭ টি বহুতল ভবন ব্যাংক দুর্নীতির টাকায় নির্মাণ করেছেন বলে জানা যায়। এসব ব্যাংক লুট ও নানামুখী অনিয়ম-দূতের বিষয়ে বর্তমানে দুদক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত চলমান। কিন্তু তারপরেও এই ধূর্ত ও দুর্নীতিবাজ রাখাল বালক বিএনপি’র প্রভাবশালী লোকদের কথা বলে আবারও পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত পর্ষদের সদস্যদেরকে নিয়ে ব্যাংকের দখলে মরিয়া হয়েছেন ও নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি।

তাছাড়া ব্যাংকটির ফরেন্সিক অডিটে যেসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত ও দায়ী হিসেবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে সামান্যতম শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিলেও তাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান এই দুর্নীতিপরায়ণ রাখাল লোকিত উল্লাহ। যে প্রেক্ষিতে এনআরবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওইসব লঘুদণ্ডপ্রাপ্ত গুরুতর আসামি ব্যাংক কর্মকর্তাদেরকে আবারও ব্যাংকে পুনর্বাসন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা যায়। তাছাড়া এই রাখাল বালক লোকিত উল্লাহ ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে পলাতক ব্যাংক লুটেরা তমাল পারভেজের পক্ষে প্রক্সি হিসেবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সেই সময়কার সম্মনায়কদেরকে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে বিশেষ ডোনেশন দিয়ে ব্যাংকটিতে তমাল চক্রের দখলদারিত্ব চলমান রাখতে চেয়েছিলেন। তার কারণ সে নিজেও দানবীয় ওই ব্যাংক লুটেরা চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ।
আলোচিত লোকিত উল্লাহ বর্তমানে বিএনপি’র নোয়াখালী বেল্ট-এর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ এই পরিচয়ে ব্যাংকটিতে আবারও খবরদারি করছে ও বর্তমান পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ চাপে রেখে নিজেকে আবার পুনর্গঠিতব্য পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ পরিচালক হিসেবে দাবি করছেন। এবং নিয়মিত ব্যাংকে গিয়ে বসে তার আগের সে দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবারও বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। তার এই অশুভ চক্রান্ত রুখে দিতে ও পূর্বের সকল দুর্নীতিবাজ পরিচালক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদেরকে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার জন্য খাত সংশ্লিষ্টরা বিশেষভাবে তাগিদ দিচ্ছেন।
তার কারণ তা না হলে এই ব্যাংকটি থেকে অতীতের ধারাবাহিকতার অনিয়ম-দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা সম্ভব হবে না বলে সকলেই সংশয় প্রকাশ করছেন। আর এসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না করে বরাবরের মতো সময় ক্ষেপণ করে তাদেরকে আবার পুনর্বাসনে সহযোগিতার জন্য হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বর্তমান স্বাধীন ও স্বতন্ত্র পর্ষদ গঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র এসব গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার করা ও ব্যাংকটিতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে, যা পরিপালনে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন বলে ধারণা করছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। যাতে করে তাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা সম্পর্কেও বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে!
তাই অতি দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের প্রতিবেদন ও ফরেন্সিকের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অবিলম্বে দায়ী পরিচালকবৃন্দ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ব্যাংকটি থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করে সুশাসন নিশ্চিত না করলে ব্যাংকিং সেক্টরের উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট