মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। রবিবার বিকেল ৩টায় একই সময়ে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার পর উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা-২ আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষকে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থক এবং অপর পক্ষকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থক হিসেবে পরিচিত করা হয়। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম এবং মন্ত্রীর সমর্থক ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১০ আগস্ট রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর পর ১২ আগস্ট নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থকরা পাল্টা প্রতিবাদ মিছিল করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নয়ন সমর্থকরা আগামী রবিবার বিকেল ৩টায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাদ নির্মূলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন। একই দিন ও একই সময়ে অপর পক্ষ সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা বিষয়ে গণমিছিল ও আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও বাজারে জনসংযোগ চালিয়েছে। মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা ১৫ দিন আগেই মাদকবিরোধী সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছি। পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য মৈমুর আলী মৃধা বলেন, আমাদের কর্মসূচি সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিয়ে। কারও কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং তারাই আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে ঘোষণা দিয়েছে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম শামীম হোসেন জানান, রবিবার বিকেল ৩টায় বিএনপির দুই পক্ষ কর্মসূচি দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিন্ট
মাসুদ রানা, মাগুরা : 























