যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর দক্ষিণ আলী এলাকায় এক কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব, অপহরণ, হাত-পা ও মুখ বেঁধে আটকে রাখা এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের পর গোয়ালঘরে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর দক্ষিণ আলী এলাকার ওই কিশোরীকে একই এলাকার মামুন মোল্লার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তৌহিদুল কিশোরীর বাড়ির কাছে গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে বের করেন। পরে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে কিশোরী বাইরে বের হলে তাকে পেছন থেকে জোরপূর্বক ধরে তার পরনের ওড়না দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর কিশোরীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে তার নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্ত। এ সময় কাউকে বিষয়টি জানালে তাকে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে কিশোরীর দাদি তাকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের একটি অনুলিপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অলক বিশ্বাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত পরিবারকে একাধিকবার বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মেয়ের জন্মনিবন্ধন নিয়ে এসে এজাহার দায়ের করার জন্য। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি, বরং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মাতুব্বরের মধ্যস্থতায় মীমাংসার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পক্ষ পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে এবং অভিযুক্ত পক্ষ এক লাখ টাকা দিতে চাইছে—এমন কথাবার্তা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, আমি অভিযোগ দেওয়ার পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সহায়তা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় মাতুব্বররা আমাদের হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, অভিযোগ করার পর স্থানীয় নেতারা আমাদের অভিযোগ তুলে নিতে অনেক চাপ সৃষ্টি করছেন। আমরা গরিব ও অসহায় মানুষ। ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ বলেন, “আদৌ ওই রকম ঘটনা ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ওই ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের কপিটা আমাকে একটু দেন, আমি মণিরামপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলছি।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গুরুতর অভিযোগের পরও কেন দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর কোনো আইনগত পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়, অভিযোগের তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কোনো চাপ বা সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রিন্ট
ফয়সাল হায়দার : 























