ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঝালকাঠিতে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টারে কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবনের অভিযোগ বরগুনার বামনায় বেপরোয়া অটো রিক্সার চাপায় প্রাণ গেল ৮ বছরের শিশুর জুলাইয়ের ভিত্তি রচিত হয়েছে ১৬ বছরে, একদিনে নয়- পানি সম্পদ মন্ত্রী পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ও শতভাগ পেশাদারিত্বের ওপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ গাজীপুরে বাস মালিকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে সাত দিনের আল্টিমেটাম পরিবহণ নেতাদের জয়পুরহাটে জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন বরগুনার তালতলীতে ডিবির অভিযানে ৩কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার মির্জাগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মুরাদনগরে জামায়াতের গণমিছিল জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ফতুল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

জয়পুরহাটে জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

হানিফ সরদার, জয়পুরহাট |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় একজন লোহার কর্মকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনের একটি বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিদ্ধেশ্বর। এ সময় অশোক ঘটনাস্থলে এসে দোকানে থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে অশোক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিদ্ধেশ্বরকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কামনা রানী পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এ রায় প্রদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর এ রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টারে কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবনের অভিযোগ

জয়পুরহাটে জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

হানিফ সরদার, জয়পুরহাট |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় একজন লোহার কর্মকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনের একটি বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিদ্ধেশ্বর। এ সময় অশোক ঘটনাস্থলে এসে দোকানে থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে অশোক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিদ্ধেশ্বরকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কামনা রানী পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এ রায় প্রদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর এ রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।


প্রিন্ট