ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পাকুন্দিয়ায় ‘প্রমোট ফাউন্ডেশন’র নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে বায়তুল আমান হাউজিংয়ে নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন, অনুমোদনের বাইরে বাড়তি নির্মাণের অভিযোগ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওএমএস কার্যক্রমে নানান অনিয়মের অভিযোগ মুরাদনগরে ৩ মাসেই দুর্নীতির রেকর্ড: বিতর্কিত সাব-রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন সিদ্ধিরগঞ্জে আইবিডব্লিউএফের বস্ত্র ব্যবসায়ী থানা কমিটি গঠন প্রেমের সম্পর্ক থেকে ধর্ষণের অভিযোগ, এনসিপি নেতাকে অব্যাহতি বারি’র আইএসএসসিএ গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ অর্জন কালিহাতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ঈশ্বরদীতে জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা: আতঙ্কে এলাকাবাসী, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন মুরাদনগরে সম্পত্তির দ্বন্দ্বে ভাইয়ের হাতে বোন-ভাতিজা খু/ন

জয়পুরহাটে জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

হানিফ সরদার, জয়পুরহাট |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় একজন লোহার কর্মকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনের একটি বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিদ্ধেশ্বর। এ সময় অশোক ঘটনাস্থলে এসে দোকানে থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে অশোক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিদ্ধেশ্বরকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কামনা রানী পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এ রায় প্রদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর এ রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

পাকুন্দিয়ায় ‘প্রমোট ফাউন্ডেশন’র নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে

জয়পুরহাটে জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

হানিফ সরদার, জয়পুরহাট |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় একজন লোহার কর্মকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনের একটি বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিদ্ধেশ্বর। এ সময় অশোক ঘটনাস্থলে এসে দোকানে থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে অশোক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিদ্ধেশ্বরকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কামনা রানী পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এ রায় প্রদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর এ রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।


প্রিন্ট