মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। পঞ্চগড় জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিতরণব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। এ সুযোগে কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মিলনায়তনে প্রশাসন ও জেলার নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলারদের সঙ্গে সার সরবরাহ, বিতরণ, মজুত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে নিয়োগ পাওয়া অনেক সার ডিলার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের অনেকে বর্তমানে এলাকায় নেই বা পলাতক। ফলে পর্যাপ্ত সার সরবরাহের পরও কোনো কোনো ডিলার তাদের গুদাম থেকে কৃষকের মধ্যে যথাযথভাবে সার বিতরণ করছেন না। কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরিরও চেষ্টা করছেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে পঞ্চগড়ে সার নিয়ে কোনো সংকট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। এ জন্য জেলা প্রশাসকসহ কৃষি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।
তবে ক্ষুদ্র কৃষকেরা সময়মতো সার না পাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১০, ১৫ বা ২০ কেজি সার কিনতে গিয়ে অনেক কৃষককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দুই-তিন দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ মাসেই শূন্য পদে নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তবে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ইউনিয়নে ডিলার না থাকলেও পাশের ইউনিয়ন বা উপজেলার বাসিন্দারা এসে সেখানে ডিলারশিপ নিয়েছেন। এতে সার বিতরণে জটিলতা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে স্থানীয় বাসিন্দাকে সার ডিলার নিয়োগের সুযোগ রেখে নতুন একটি পরিপত্র জারি করা হবে। আগামীকাল এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ডিলার হতে হলে আবেদনকারীকে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেটসহ নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ২৫ টন সার সংরক্ষণের উপযোগী নিজস্ব বা ভাড়া করা গুদাম থাকতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন ডিলার তার সহায়ক হিসেবে দুজন সাব-এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে যারা সারের পরিবেশক আছেন, তাদের পাশাপাশি আরও একজন করে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সহজে সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বন্ধে কঠোর মনিটরিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার সার কোনোভাবেই ১ হাজার ৭০০ বা ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে না। রাতের আঁধারে বা গোপন জায়গায় নিয়ে গিয়ে কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে তা প্রতিহত করতে প্রশাসনকে কার্যকর নজরদারি করতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু ও চেম্বারের সভাপতি শরিফ হোসেনসহ প্রশাসন প্রমুখ।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 























