রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ বিশিল লেগুনা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্ট্যান্ড পরিচালনা ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, মারধর, গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ঘটনায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: নং ঢাকা-৯৭৪) তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ বিশিল লেগুনা স্ট্যান্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় স্ট্যান্ড পরিচালনার বৈধতা এবং সেখানে অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কার্যক্রম চলমান না থাকলে কারা স্ট্যান্ড পরিচালনা করছেন এবং কিসের ভিত্তিতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে? অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ বিশিলসহ আশপাশের কয়েকটি লেগুনা স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে যুবদলের সাবেক এক নেতা ও দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজের অনুসারীরা জড়িত। সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই স্ট্যান্ডগুলোতে পারভেজের প্রতিনিধি হিসেবে ইয়াকুব অর্থ আদায় করতেন। গত ৫ অক্টোবর স্ট্যান্ড পরিচালনা ও অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ইয়াকুবকে মারধর করে পুলিশে দেন। দারুস সালাম থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইয়াকুব চাঁদাতোলার কথা শিকার করেন এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকুব পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দাবি করেন, পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁকে আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয় বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াকুবকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ বা বিক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দারুস সালাম এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
প্রিন্ট
স্টাফ রিপোর্টার : 

















