ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজাপুরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার বান্দরবান রুমায় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ গাছা ভূমি অফিসের হর্তাকর্তা কে এই দালাল জহির? মুরাদনগরে ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান: ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, একটির কার্যক্রম বন্ধ গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ফিল্ড স্পোর্টস সিটির শুভ উদ্বোধন জয়পুরহাটে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদল নেতা আদনান বহিষ্কার কুমিল্লা দেবিদ্বারের শিক্ষার্থীদের সংসদ অধিবেশন ও সামরিক জাদুঘর ঘুরে দেখালেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বালাঘাটার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা মাগুরা পৌরসভার প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ: বদলী হলেও।মাগুরা ছাড়ছেন না: দ্রুত অপসারণ দাবী মাগুরা পৌরসভার প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ: বদলী হলেও।মাগুরা ছাড়ছেন না: দ্রুত অপসারণ দাবী

হাদল ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ, অধ্যক্ষ আবু মুছাকে ঘিরে চাঞ্চল্যর সৃষ্টি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাদল ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু মুছার বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে ধাপে ধাপে মাদ্রাসার প্রায় আট থেকে দশ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার নামে থাকা মূল্যবান জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গোপনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব জমি ওয়াকফভুক্ত হওয়ায় তা ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি বা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি বেচাকেনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ আবু মুছার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে একটি চক্র ব্যক্তিস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির কিছু সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তিও দখলের চেষ্টা করছে। তাদের আশঙ্কা, ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি হলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার আর্থিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মাদ্রাসার সম্পত্তি সাধারণ মানুষের দান এবং5 ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত। সেই সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবু মুছা বলেন, ২০১৪ সালের মধ্যে মাদ্রাসার কিছু সম্পত্তি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে কার কার অনুমতি প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিই নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা শিক্ষা অফিসারের চূড়ান্ত অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হয়। এছাড়া সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ড বা ট্রাস্টের অধীনে থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতিও নিতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও তদারকির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার ভর্তি ও পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। একই বছরের ২৩ আগস্ট ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম শুধু আইনগত অপরাধই নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রশাসন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

হাদল ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ, অধ্যক্ষ আবু মুছাকে ঘিরে চাঞ্চল্যর সৃষ্টি

আপডেট টাইম : ০৯:০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাদল ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু মুছার বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে ধাপে ধাপে মাদ্রাসার প্রায় আট থেকে দশ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার নামে থাকা মূল্যবান জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গোপনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব জমি ওয়াকফভুক্ত হওয়ায় তা ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি বা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি বেচাকেনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ আবু মুছার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে একটি চক্র ব্যক্তিস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির কিছু সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তিও দখলের চেষ্টা করছে। তাদের আশঙ্কা, ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি হলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার আর্থিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মাদ্রাসার সম্পত্তি সাধারণ মানুষের দান এবং5 ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত। সেই সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবু মুছা বলেন, ২০১৪ সালের মধ্যে মাদ্রাসার কিছু সম্পত্তি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে কার কার অনুমতি প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিই নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা শিক্ষা অফিসারের চূড়ান্ত অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হয়। এছাড়া সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ড বা ট্রাস্টের অধীনে থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতিও নিতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও তদারকির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার ভর্তি ও পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। একই বছরের ২৩ আগস্ট ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম শুধু আইনগত অপরাধই নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রশাসন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


প্রিন্ট