ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন: মুরাদনগর ভেঙে হচ্ছে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা

মোঃ শাফায়েত হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) |
অবশেষে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা অঞ্চলের মানুষের। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম বৈঠকে মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর সরকারের এই সিদ্ধান্তে পুরো বাঙ্গরা অঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বাঙ্গরা উপজেলার আওতায় থাকবে শ্রীকাইল, আন্দিকোট, রামচন্দ্রপুর (উত্তর), আকুবপুর, পূর্বধইর (পূর্ব), পূর্বধইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা ও টনকি ইউনিয়ন।
স্থানীয়দের মতে, মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এসব ইউনিয়নের মানুষকে এতদিন উপজেলা সদরে গিয়ে সরকারি সেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কাজে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ভোগান্তির শিকার হতেন সাধারণ মানুষ। নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এসব দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, পৃথক বাঙ্গরা উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং জনসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই নতুন উপজেলা ও থানা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর ও ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও নামে আরও দুটি নতুন উপজেলা এবং চট্টগ্রামে হালদা নামে একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। উপজেলা হলে সরকারি অফিসগুলো কাছে চলে আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও সম্প্রসারিত হবে।”
শ্রীকাইল ইউনিয়নের জনতার চেয়ারম্যান জনাব,ইকবাল বাহার বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।”
আকবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার বলেন, “জমিজমার কাজ কিংবা অন্য সরকারি কাজে এতদিন মুরাদনগর যেতে অনেক কষ্ট হতো। এখন উপজেলা হলে নারীদের জন্যও সরকারি সেবা নেওয়া অনেক সহজ হবে।”
চাপিতলা ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “কৃষি অফিসসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তর কাছে থাকলে কৃষকেরা দ্রুত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।”
এখন অপেক্ষা বাস্তবায়নের
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিকারের অনুমোদনের পর দ্রুত সরকারি গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ, উপজেলা সদর চূড়ান্তকরণ এবং উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, নতুন বাঙ্গরা উপজেলা শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এখন বাঙ্গরার মানুষের চোখে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনার আলো।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন: মুরাদনগর ভেঙে হচ্ছে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা

আপডেট টাইম : ০৪:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাফায়েত হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) |
অবশেষে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা অঞ্চলের মানুষের। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম বৈঠকে মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর সরকারের এই সিদ্ধান্তে পুরো বাঙ্গরা অঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বাঙ্গরা উপজেলার আওতায় থাকবে শ্রীকাইল, আন্দিকোট, রামচন্দ্রপুর (উত্তর), আকুবপুর, পূর্বধইর (পূর্ব), পূর্বধইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা ও টনকি ইউনিয়ন।
স্থানীয়দের মতে, মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এসব ইউনিয়নের মানুষকে এতদিন উপজেলা সদরে গিয়ে সরকারি সেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কাজে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ভোগান্তির শিকার হতেন সাধারণ মানুষ। নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এসব দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, পৃথক বাঙ্গরা উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং জনসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই নতুন উপজেলা ও থানা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর ও ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও নামে আরও দুটি নতুন উপজেলা এবং চট্টগ্রামে হালদা নামে একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। উপজেলা হলে সরকারি অফিসগুলো কাছে চলে আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও সম্প্রসারিত হবে।”
শ্রীকাইল ইউনিয়নের জনতার চেয়ারম্যান জনাব,ইকবাল বাহার বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।”
আকবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার বলেন, “জমিজমার কাজ কিংবা অন্য সরকারি কাজে এতদিন মুরাদনগর যেতে অনেক কষ্ট হতো। এখন উপজেলা হলে নারীদের জন্যও সরকারি সেবা নেওয়া অনেক সহজ হবে।”
চাপিতলা ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “কৃষি অফিসসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তর কাছে থাকলে কৃষকেরা দ্রুত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।”
এখন অপেক্ষা বাস্তবায়নের
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিকারের অনুমোদনের পর দ্রুত সরকারি গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ, উপজেলা সদর চূড়ান্তকরণ এবং উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, নতুন বাঙ্গরা উপজেলা শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এখন বাঙ্গরার মানুষের চোখে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনার আলো।


প্রিন্ট