ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজধানীর মিরপুরে নিউ লন্ডন প্যালেস আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ও দেহব্যবসা! চাকুরীর বয়স শেষ তবুও প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া গণপূর্তের আবুল খায়ের! গাজীপুরে সিটি কর্পোরেশন উদ্দোগে পরিবেশবান্ধব মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ শুরু রাজাপুরে বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ, গোডাউন মালিককে জরিমানা নলছিটিতে পৃথক অভিযানে গাঁজা-ইয়াবাসহ আটক ৪ গাজীপুরে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দেওয়ায় মারধর: যুবদল নেতা বহিষ্কার জয়পুরহাটে ডিবির পৃথক অভিযানে ট্যাপেন্টাডল-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার নারী ব্যবসায়ীসহ দুই মাদক কারবারি কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান 

২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলে স্কুলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গরমে শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস

মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ না থাকায় দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এ কারণে গত ২৩ জুন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান না চলায় অসহনীয় গরমে পাঠদান ব্যাহত হতে থাকে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, “আমাদের স্কুলে কারেন্ট নেই। খুব গরম লাগে। আমরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। স্যারদের বলেছি কারেন্ট দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনও হয়নি।”
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি বলে, “কারেন্ট না থাকায় ফ্যান চলে না, লাইটও নেই। ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়।”

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে পানির সংকটে। বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ নেই। আগে একটি টিউবওয়েল থাকলেও তিন বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের খাবার পানি বাইরে থেকে এনে সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে স্কুলে আসছে। পানির অভাবে বিদ্যালয় ভবনের টয়লেটও বন্ধ রাখা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, “কারেন্ট না থাকার কারণে বাচ্চাগুলো গরমে ক্লাসে থাকতে চায় না। বাড়িতে ফ্যানের নিচে থাকে, আর স্কুলে এসে ফ্যানও নেই, পানি নেই। অনেক সময় বাইরে বসে থাকে। এজন্য স্কুলে আসার আগ্রহও কমে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই গরমে যখন আমরা বড়রাই কষ্টে আছি, তখন ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে শ্রেণিকক্ষে থাকবে?”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, “বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আমরা বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরম, এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবারই কষ্ট হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ১৬ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে লাইন কেটে দেওয়া হয়। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালু করার।
তিনি আরও বলেন, “খাবার পানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের জন্যও বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, “এতদিন ধরে কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, “২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যালয়ের সংযোগ পুনরায় চালু করেছে।”


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর মিরপুরে নিউ লন্ডন প্যালেস আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ও দেহব্যবসা!

২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলে স্কুলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গরমে শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস

আপডেট টাইম : ০৩:৩১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ না থাকায় দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এ কারণে গত ২৩ জুন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান না চলায় অসহনীয় গরমে পাঠদান ব্যাহত হতে থাকে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, “আমাদের স্কুলে কারেন্ট নেই। খুব গরম লাগে। আমরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। স্যারদের বলেছি কারেন্ট দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনও হয়নি।”
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি বলে, “কারেন্ট না থাকায় ফ্যান চলে না, লাইটও নেই। ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়।”

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে পানির সংকটে। বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ নেই। আগে একটি টিউবওয়েল থাকলেও তিন বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের খাবার পানি বাইরে থেকে এনে সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে স্কুলে আসছে। পানির অভাবে বিদ্যালয় ভবনের টয়লেটও বন্ধ রাখা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, “কারেন্ট না থাকার কারণে বাচ্চাগুলো গরমে ক্লাসে থাকতে চায় না। বাড়িতে ফ্যানের নিচে থাকে, আর স্কুলে এসে ফ্যানও নেই, পানি নেই। অনেক সময় বাইরে বসে থাকে। এজন্য স্কুলে আসার আগ্রহও কমে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই গরমে যখন আমরা বড়রাই কষ্টে আছি, তখন ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে শ্রেণিকক্ষে থাকবে?”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, “বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আমরা বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরম, এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবারই কষ্ট হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ১৬ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে লাইন কেটে দেওয়া হয়। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালু করার।
তিনি আরও বলেন, “খাবার পানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের জন্যও বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, “এতদিন ধরে কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, “২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যালয়ের সংযোগ পুনরায় চালু করেছে।”


প্রিন্ট