ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পেপারলেস হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরগুনার তালতলীতে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২ বরগুনায় প্রথম, বাল্যবিবাহকে ‘না’ বললো আমতলী গাজীপুরে শ্রীপুরে বিন্দুবাড়ী গাউসুল আজম মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠন শিক্ষার আলো ছড়ানো ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত গুরুদাসপুরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে জীবিকা উপকরণ ও অনুদানের চেক বিতরণ রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে রেল স্টেশনে ভাঙচুর, যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় ‘প্রমোট ফাউন্ডেশন’র নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে বায়তুল আমান হাউজিংয়ে নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন, অনুমোদনের বাইরে বাড়তি নির্মাণের অভিযোগ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওএমএস কার্যক্রমে নানান অনিয়মের অভিযোগ

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে বিপর্যস্ত নলছিটির জলাশয়, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। শুধু মাছ নয়, এই জালে আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী। পরিবেশবাদী, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নলছিটি পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গোপনে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই জাল। অনেক মৎস্য শিকারি দীর্ঘ সময় পানিতে জাল ফেলে রেখে নির্বিচারে মাছ আহরণ করছেন। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, এক সময় কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চায়না দুয়ারী জাল। এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস তুলে নেওয়া হয় না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বাজারগুলোতে এখন আগের মতো দেশীয় মাছ চোখে পড়ে না। ইতোমধ্যে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে, বাকিগুলোও হুমকির মুখে। দেশীয় মাছ কমে যাওয়ায় বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এছাড়া দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এই জাল ব্যবহার করেন। দেশীয় জাল দ্রুত পচে যাওয়ায় তা বারবার তুলে শুকাতে হয়, কিন্তু চায়না দুয়ারী জাল মাসের পর মাস পানিতে রেখেই মাছ ধরা সম্ভব।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারা বছরই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজবী আহমেদ সবুজ বলেন, চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

পেপারলেস হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে বিপর্যস্ত নলছিটির জলাশয়, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

আপডেট টাইম : ০২:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। শুধু মাছ নয়, এই জালে আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী। পরিবেশবাদী, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নলছিটি পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গোপনে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই জাল। অনেক মৎস্য শিকারি দীর্ঘ সময় পানিতে জাল ফেলে রেখে নির্বিচারে মাছ আহরণ করছেন। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, এক সময় কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চায়না দুয়ারী জাল। এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস তুলে নেওয়া হয় না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বাজারগুলোতে এখন আগের মতো দেশীয় মাছ চোখে পড়ে না। ইতোমধ্যে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে, বাকিগুলোও হুমকির মুখে। দেশীয় মাছ কমে যাওয়ায় বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এছাড়া দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এই জাল ব্যবহার করেন। দেশীয় জাল দ্রুত পচে যাওয়ায় তা বারবার তুলে শুকাতে হয়, কিন্তু চায়না দুয়ারী জাল মাসের পর মাস পানিতে রেখেই মাছ ধরা সম্ভব।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারা বছরই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজবী আহমেদ সবুজ বলেন, চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট