ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদে, আহত ১ রাজাপুরে রাতের অভিযানে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড, ইয়াবা ও মাদকসেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মাগুরা জেলা পুলিশের তড়িৎ অভিযানে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার নিখোঁজ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বান্দরবানে ২০ বছর পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উসিংনু মার্মা গ্রেফতার মধুখালীতে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেপ্তার বরগুনায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২৬ এর শুভ উদ্বোধন বৃদ্ধা মায়ের আকুতি: আমার সব সন্তানেরই অধিকার আছে, মেজ ছেলে কিছুই দিচ্ছে না রাজাপুরে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, ঔষধ ব্যবসায়ীকে জরিমানা পরকিয়ার জেরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা: স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ি কারাগারে

স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলছেন, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসক বলেন, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।”

জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানান তিনি। চিকিৎসক তখন হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় চিকিৎসক বলেন, “আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ‘ভাই’ বলে ডাকেন, আবার তার ফোন নম্বর চান?”—এমন মন্তব্য করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তানভীর হাসান।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান বলেন, “আমি আমার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসার আশায়। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু ‘ভাই’ বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে নম্বর চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনেরও আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদে, আহত ১

স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলছেন, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসক বলেন, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।”

জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানান তিনি। চিকিৎসক তখন হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় চিকিৎসক বলেন, “আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ‘ভাই’ বলে ডাকেন, আবার তার ফোন নম্বর চান?”—এমন মন্তব্য করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তানভীর হাসান।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান বলেন, “আমি আমার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসার আশায়। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু ‘ভাই’ বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে নম্বর চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনেরও আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


প্রিন্ট