ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির প্রভাবের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি শালিখায় পাণ্ডুলিপি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার এর শুভ উদ্বোধন বান্দরবানে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের নানা আয়োজন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ গাজীপুরের শ্রীপুরে মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা বরগুনায় ১৬ সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ বান্দরবানের সুয়ালক চেক স্টেশনে টিপি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গাজীপুরের ভাওয়াল রাজদিঘীসহ সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবি শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

ফাঁসিতে মৃত্যু: ছেলের লাশ দেখে অজ্ঞান শতবর্ষী বৃদ্ধা মা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

১৭টি বছর ধরে দেখেন না ছেলেকে, ফাঁসির আদেশও জানতেন না, ফাঁসির রায়ের খবরে আত্মীয়-স্বজন সংবাদকর্মী বাড়িতে এলেও জানতেন না কী কারণে মানুষের এতো সমাগম। আজ ভোরে বাড়িতে কী কারণে চেয়ার টেবিল আনা হচ্ছে তাও জানতেন না এই বৃদ্ধা মা।

অনেক আগেই শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন শতবর্ষী মা সেতারা বেগম। এজন্য তার সামনে দিয়ে হাজারো কথা হলেও তিনি কিছুই শুনতেন পেতেন না। যার কাছে জিজ্ঞাসা করেন সেই এড়িয়ে যেতেন তাকে। শুধু হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বলা হত ‘কিছু না’।

আজ ভোর ছয়টায় অ্যাম্বুলেন্স হাজির হলো বাড়িতে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স থেকে মহিউদ্দিনের লাশ নামিয়ে লাশ নিয়ে আসা হয় ঘরের সামনে। ছেলের মৃতদেহ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন শতবর্ষী মা সেতারা বেগম। জ্ঞান ফেরার পর ছেলের মুখ দেখতে ছুটে যান খাটিয়ার কাছে। বুকের ধনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন স্বজনেরা কোলে করে সরিয়ে নেন।

এদিকে, মহিউদ্দিনের লাশ বাড়িতে পৌছানোর পর পারিবারিক মসজিদের সামনে কবর তৈরি করা শুরু করেন চাচাতো ভাই সিকু মিয়া।

মহিউদ্দিনের ছোটবেলার শিক্ষক সুধীর চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমরা মহিউদ্দিনকে সূর্য মিয়া বলে ডাকতাম। ক, খ থেকে শুরু করে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত আমি ওকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওর মত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে আমাদের এলাকায় নাই। ওর ফাঁসিতে আমরা ব্যাথিত ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

গ্রামের আরেক বৃদ্ধা মহিলা রেবা বেগম জানান, ‘সূর্য মিয়া খুব ভালো ছেলে ছিল। আমি ওকে নিজ হাতে কোরআন শরীফ শিক্ষা দিয়েছি। ওর মত ছেলে আর হবে না।;

এ ঘটনায় তুজারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির আসলাম বলেন, ‘আমার জন্মের আগেই ড. মহিউদ্দিন ওরফে সূর্য মিয়া রাজশাহী চলে গেছেন। মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনেছি উনি অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো মানুষ ছিলেন। তবে ওনার ভাই আমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং উনরা আওয়ামী পরিবারের লোক। আমাদের কাছে উনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।’

মহিউদ্দিনের ভাই আরজু মিয়া বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন আর বলার কিছু নাই তবে আমার ভাই ছিল নির্দোষ।’


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

শালিখায় মাদরাসা সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

ফাঁসিতে মৃত্যু: ছেলের লাশ দেখে অজ্ঞান শতবর্ষী বৃদ্ধা মা

আপডেট টাইম : ০৯:১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

১৭টি বছর ধরে দেখেন না ছেলেকে, ফাঁসির আদেশও জানতেন না, ফাঁসির রায়ের খবরে আত্মীয়-স্বজন সংবাদকর্মী বাড়িতে এলেও জানতেন না কী কারণে মানুষের এতো সমাগম। আজ ভোরে বাড়িতে কী কারণে চেয়ার টেবিল আনা হচ্ছে তাও জানতেন না এই বৃদ্ধা মা।

অনেক আগেই শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন শতবর্ষী মা সেতারা বেগম। এজন্য তার সামনে দিয়ে হাজারো কথা হলেও তিনি কিছুই শুনতেন পেতেন না। যার কাছে জিজ্ঞাসা করেন সেই এড়িয়ে যেতেন তাকে। শুধু হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বলা হত ‘কিছু না’।

আজ ভোর ছয়টায় অ্যাম্বুলেন্স হাজির হলো বাড়িতে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স থেকে মহিউদ্দিনের লাশ নামিয়ে লাশ নিয়ে আসা হয় ঘরের সামনে। ছেলের মৃতদেহ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন শতবর্ষী মা সেতারা বেগম। জ্ঞান ফেরার পর ছেলের মুখ দেখতে ছুটে যান খাটিয়ার কাছে। বুকের ধনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন স্বজনেরা কোলে করে সরিয়ে নেন।

এদিকে, মহিউদ্দিনের লাশ বাড়িতে পৌছানোর পর পারিবারিক মসজিদের সামনে কবর তৈরি করা শুরু করেন চাচাতো ভাই সিকু মিয়া।

মহিউদ্দিনের ছোটবেলার শিক্ষক সুধীর চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমরা মহিউদ্দিনকে সূর্য মিয়া বলে ডাকতাম। ক, খ থেকে শুরু করে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত আমি ওকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওর মত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে আমাদের এলাকায় নাই। ওর ফাঁসিতে আমরা ব্যাথিত ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

গ্রামের আরেক বৃদ্ধা মহিলা রেবা বেগম জানান, ‘সূর্য মিয়া খুব ভালো ছেলে ছিল। আমি ওকে নিজ হাতে কোরআন শরীফ শিক্ষা দিয়েছি। ওর মত ছেলে আর হবে না।;

এ ঘটনায় তুজারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির আসলাম বলেন, ‘আমার জন্মের আগেই ড. মহিউদ্দিন ওরফে সূর্য মিয়া রাজশাহী চলে গেছেন। মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনেছি উনি অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো মানুষ ছিলেন। তবে ওনার ভাই আমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং উনরা আওয়ামী পরিবারের লোক। আমাদের কাছে উনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।’

মহিউদ্দিনের ভাই আরজু মিয়া বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন আর বলার কিছু নাই তবে আমার ভাই ছিল নির্দোষ।’


প্রিন্ট